শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস ও সাংবাদিক হয়রানি বন্ধের দাবি বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের

মুহাম্মাদ সাইফুল্লাহ: গতকাল ০৪ অক্টোবর ২০২৬ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদল নেতাকর্মীদের হামলা, সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা এবং সংবাদ সংগ্রহের সরঞ্জাম ভাঙচুরের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুল আজিজ, সভাপতি পরিষদ সদস্য হাবিবুল্লাহ মিসবাহ ও মুহাম্মদ দিদারুল ইসলাম।
এক যৌথ বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কোনো রাজনৈতিক সন্ত্রাসের ক্ষেত্র হতে পারে না। শিক্ষাঙ্গনে মতের ভিন্নতা থাকবে, বিতর্ক থাকবে, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডও থাকতে পারে; কিন্তু শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তারা বলেন, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা একটি সুস্থ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। সাংবাদিকরা যখন কোনো ঘটনার তথ্য সংগ্রহ ও তা জনগণের সামনে তুলে ধরতে গিয়ে হামলা বা হয়রানির শিকার হন, তখন শুধু একজন সাংবাদিকই আক্রান্ত হন না—আক্রান্ত হয় মানুষের জানার অধিকার এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ ও ভীতিমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখা। কোনো পক্ষের রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা প্রভাব বিবেচনা না করে হামলার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে আহত শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের যথাযথ চিকিৎসা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।
তারা বলেন, ক্যাম্পাসে সহাবস্থান, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে দখলদারিত্ব, পেশিশক্তি ও সন্ত্রাসের রাজনীতির অবসান ঘটাতে হবে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য নিরসনের একমাত্র গ্রহণযোগ্য পথ হলো যুক্তি, আলোচনা ও শান্তিপূর্ণ ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণ।
বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা, আহতদের সুচিকিৎসা এবং ভবিষ্যতে শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান।



