জীবনের বিনিময়েও এনসিটি অন্যের হাতে তুলে দিতে দেওয়া হবে না: শ্রমিক নেতাদের হুঁশিয়ারি

মুহাম্মদ জুবাইর: চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) এবং চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়ার যেকোনো উদ্যোগ প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছেন বন্দর শ্রমিক নেতারা। তারা বলেছেন, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরকে ঘিরে যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শ্রমিক, কর্মচারী, ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে।প্রয়োজনে বন্দর রক্ষায় নিজেদের জীবন উৎসর্গ করার কথাও জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। তাদের দাবি, চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার হওয়ায় এর পরিচালনা ও ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।শনিবার (৮অক্টোবর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম বন্দর কলোনি এলাকায় আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে এসব কথা বলেন বন্দর শ্রমিক নেতা ও বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের নেতারা।দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে (DP World) নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত এবং চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ও জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি) অন্য অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বন্দর শ্রমিক দল ও বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ যৌথভাবে এ সমাবেশের আয়োজন করে।সমাবেশে বক্তারা বলেন, বন্দর পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনার আগে এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত শ্রমিক-কর্মচারী এবং অন্যান্য অংশীজনের মতামত নেওয়া প্রয়োজন। তাদের ভাষ্য, আলোচনা ও পর্যালোচনা ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হলে তা ভবিষ্যতে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি করতে পারে।‘জীবনের বিনিময়েও এনসিটি অন্যের হাতে দেওয়া হবে না’সমাবেশে চট্টগ্রাম বন্দর বিএনপি সমর্থিত শ্রমিক দলের নেতা নুরুল আজিম বলেন, এনসিটি অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তারা অবস্থান নিয়েছেন এবং প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতেও প্রস্তুত।তিনি বলেন, ‘জীবনের বিনিময়ে হলেও এনসিটি অন্য কারও হাতে হস্তান্তর করতে দেওয়া হবে না।’নুরুল আজিম বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলন কোনো ব্যক্তি, সরকার বা প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে নয়। বরং বন্দরের স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে তারা যে সিদ্ধান্ত মনে করছেন, তার বিরুদ্ধেই তাদের অবস্থান।তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারের বাইরে নই। কেবল সিদ্ধান্তটি ভুল মনে হওয়ায় আমরা এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি।’বন্দর সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আগে শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনায় বসার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।তার মতে, বন্দরের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত শ্রমিক-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে বন্দর পরিচালনার বিভিন্ন বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে কাজ করছেন। ফলে টার্মিনাল পরিচালনার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় তাদের মতামতকে উপেক্ষা করা উচিত নয়।সরকারের সঙ্গে আলোচনার আহ্বাননুরুল আজিম বলেন, সরকারকে প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখে তারা আন্দোলনে নামেননি। বরং সরকারের কাছে তাদের দাবি হচ্ছে-বন্দরকে ঘিরে যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে বসে আলোচনা করা।তিনি বলেন, শ্রমিকদের বক্তব্য শোনা হলে অনেক ভুল বোঝাবুঝির অবসান হতে পারে। একই সঙ্গে সরকার কেন বিদেশি অপারেটরের হাতে টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব দিতে চাইছে, সেটিও পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করার আহ্বান জানান তিনি।বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের নেতাদের বক্তব্যেও একই ধরনের দাবি উঠে আসে। তারা বলেন, বন্দরের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চুক্তির শর্ত, অর্থনৈতিক প্রভাব, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান, জাতীয় নিরাপত্তা এবং দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক স্বার্থসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।‘লিজ ও কনসেশন প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনা করুন’বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন লিজ ও কনসেশন প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনা করে শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।তিনি বলেন, এনসিটি ও অন্যান্য টার্মিনাল পরিচালনার বিষয়ে যেসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, সেগুলো নিয়ে সরকারের উচিত সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য শোনা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত যাচাই করা।ইব্রাহিম খোকন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আমাদের আস্থা রয়েছে। আমরা তাকে তথ্য সংগ্রহ করে খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানাচ্ছি-বিশ্বের কোথাও এমন কোনো বন্দর আছে কি না, যা সম্পূর্ণ বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বা এভাবে বেসরকারীকরণ করে পরিচালনা করা হচ্ছে।’তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অবকাঠামো। এই বন্দরের কার্যক্রমের সঙ্গে দেশের আমদানি-রপ্তানি, শিল্প উৎপাদন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সামগ্রিক অর্থনীতির বিভিন্ন খাত সরাসরি সম্পৃক্ত।খোকনের দাবি, ‘চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের সমুদ্রপথের ৯০ শতাংশের বেশি বাণিজ্য পরিচালনা করে এবং দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক সমুদ্রবন্দর হিসেবে এর কোনো বিকল্প নেই।’তার বক্তব্য, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বন্দরকে ঘিরে দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের তাড়াহুড়া না করে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা প্রয়োজন।‘কেন বিদেশি অপারেটর, সরকারকে ব্যাখ্যা দিতে হবে’সমাবেশে ইব্রাহিম খোকন বলেন, এনসিটি কেন বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার প্রয়োজন হচ্ছে-সরকার যদি এর কারণ ব্যাখ্যা করে, তাহলে শ্রমিকরাও তাদের অবস্থানের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরবেন।তিনি বলেন, ‘সরকার কেন এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে তুলে দিতে চায় তা ব্যাখ্যা করলে, আমরাও ব্যাখ্যা করব কেন টার্মিনালটি বাংলাদেশি ব্যবস্থাপনায় রাখা উচিত। আশা করি সরকার আমাদের যুক্তি বিবেচনা করবে।’তিনি আরও বলেন, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব। এজন্য সরকার ও শ্রমিকদের মধ্যে সরাসরি সংলাপের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।তার ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতামত গ্রহণ করা হলে সিদ্ধান্তের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে এবং পরবর্তী সময়ে বিরোধ বা অচলাবস্থার সম্ভাবনাও কমবে।অক্টোবর অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণাসমাবেশ থেকে আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে চট্টগ্রাম কাস্টমসের বিপরীতে ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারে ‘বন্দর রক্ষা কমিটি’ ঘোষিত অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার জন্য বন্দর শ্রমিক ও কর্মচারীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।বক্তারা বলেন, এনসিটি, সিসিটি ও জিসিবি নিয়ে তাদের উদ্বেগ শুধু শ্রমিকদের কর্মসংস্থান বা স্বার্থের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাদের দাবি, এসব টার্মিনালের ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার সঙ্গে দেশের সামগ্রিক বন্দর ব্যবস্থাপনা, আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য এবং অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জড়িত।তাই কর্মসূচিতে বন্দর শ্রমিক-কর্মচারীদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অংশীজনকেও যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।‘বিষয়টি শুধু শ্রমিকদের সমস্যা নয়’বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের অপর সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির বলেন, এনসিটি বা চট্টগ্রাম বন্দরের অন্যান্য টার্মিনালের পরিচালনা নিয়ে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, সেটিকে শুধু বন্দর শ্রমিকদের সমস্যা হিসেবে দেখলে বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ গুরুত্ব বোঝা যাবে না।তিনি বলেন, ‘বিষয়টি কেবল বন্দর শ্রমিকদের সমস্যা নয়, পুরো অর্থনীতির ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে।’হুমায়ুন কবির বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরকে কেন্দ্র করে দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ফলে বন্দরের ব্যবস্থাপনা কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন এলে তার প্রভাব বিভিন্ন খাতে পড়তে পারে।এ কারণে কোনো চুক্তি বা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আগে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করার দাবি জানান তিনি।প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণসমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে হুমায়ুন কবির বলেন, বন্দরের বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আগে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনায় বসা প্রয়োজন।তিনি বলেন, বন্দর সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্তের প্রভাব শুধু বর্তমান শ্রমিকদের ওপর পড়বে না; এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব দেশের সাধারণ জনগণ ও অর্থনীতির ওপরও পড়তে পারে।হুমায়ুন কবির বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর সংক্রান্ত যেকোনো ভুল সিদ্ধান্তের মাশুল শুধু শ্রমিক-কর্মচারীদেরই দিতে হবে না, বাংলাদেশের পুরো জনগণকেই এর পরিণতি ভোগ করতে হবে।’তার বক্তব্য, এ কারণে বন্দরের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক প্রভাব, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান এবং বন্দরের কার্যকারিতা-সবগুলো বিষয় বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।বিদেশি অপারেটর নিয়ে শ্রমিকদের আপত্তিসমাবেশে বক্তারা মূলত বিদেশি অপারেটরের হাতে টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েই আপত্তি জানান। তাদের বক্তব্য, কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়ার আগে চুক্তির মেয়াদ, শর্ত, রাজস্ব কাঠামো, পরিচালনাগত ক্ষমতা, শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ অবস্থান এবং রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন বিষয় স্পষ্ট করা প্রয়োজন।তারা মনে করেন, বন্দরের মতো কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে পর্যাপ্ত আলোচনা ও তথ্য বিনিময় থাকা প্রয়োজন।তবে তাদের বক্তব্যে একই সঙ্গে সরকারের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রাখার কথাও বলা হয়েছে। তারা সরকারবিরোধী অবস্থানের পরিবর্তে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেন।বন্দরের গুরুত্ব তুলে ধরেন নেতারাসমাবেশে বক্তারা চট্টগ্রাম বন্দরের কৌশলগত গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের বড় একটি অংশ চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর নির্ভরশীল। আমদানি করা শিল্পের কাঁচামাল, ভোগ্যপণ্য, যন্ত্রপাতি এবং বিভিন্ন ধরনের পণ্য যেমন এ বন্দরের মাধ্যমে দেশে আসে, তেমনি রপ্তানি পণ্যও এ বন্দর ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক বাজারে যায়।ফলে বন্দরের কার্যক্রমে কোনো ধরনের বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হলে তার প্রভাব সরাসরি ব্যবসা-বাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থায় পড়তে পারে বলে তারা মনে করেন।শ্রমিক নেতাদের দাবি, এ কারণেই বন্দরের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া উচিত।শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনার দাবিসমাবেশে বক্তারা বারবার সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান। তাদের মতে, সরকার যদি প্রস্তাবিত চুক্তি ও ব্যবস্থাপনা কাঠামোর সুবিধাগুলো ব্যাখ্যা করে, তাহলে শ্রমিকদের উদ্বেগগুলোও আলোচনার মাধ্যমে যাচাই করা সম্ভব।তারা বলেন, কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে মতপার্থক্য থাকলে আলোচনার মাধ্যমে তা নিরসনের সুযোগ রয়েছে। এজন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে বৈঠক আয়োজনের আহ্বান জানানো হয়।শ্রমিক নেতাদের বক্তব্য, তাদের আন্দোলনের উদ্দেশ্য বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করা নয়; বরং বন্দরের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে তাদের উদ্বেগ সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা।আন্দোলন আরও বিস্তৃত করার ইঙ্গিতসমাবেশ থেকে ৫ অক্টোবরের অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বানের মধ্য দিয়ে আন্দোলনকে আরও সংগঠিত করার ইঙ্গিত দিয়েছেন বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের নেতারা।তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এনসিটি, সিসিটি ও জিসিবি নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা এবং শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ না নেওয়া হলে তারা ধারাবাহিকভাবে কর্মসূচি পালন করতে পারেন।তবে সমাবেশে বক্তারা আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেন এবং সরকারের প্রতি দ্রুত সংলাপের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।‘আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব’বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ ও শ্রমিক দলের নেতাদের বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট-তারা সরকারের সঙ্গে সরাসরি বিরোধে যেতে না চেয়ে প্রস্তাবিত সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা করতে চাইছেন।তাদের দাবি, সরকার কেন এনসিটি বিদেশি অপারেটরের হাতে দিতে চায়, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হোক। একই সঙ্গে শ্রমিক ও অন্যান্য অংশীজনকে তাদের যুক্তি তুলে ধরার সুযোগ দেওয়া হোক।নেতারা মনে করেন, উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে বন্দরের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিরোধ কমানো সম্ভব হবে।সমাবেশে বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বন্দরের এনসিটি, সিসিটি ও জিসিবির পরিচালনা কাঠামো নিয়ে যেকোনো পরিবর্তন আনার আগে জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক প্রভাব, শ্রমিকদের অধিকার এবং দীর্ঘমেয়াদি বন্দর ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো বিবেচনা করা প্রয়োজন।এদিকে শ্রমিক নেতাদের ঘোষিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বন্দর এলাকায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। শ্রমিক নেতারা তাদের অবস্থানে অনড় থাকার কথা জানালেও একই সঙ্গে সরকারের সঙ্গে আলোচনার পথও খোলা রেখেছেন।এখন মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে-সরকার ও বন্দর শ্রমিকদের মধ্যে প্রস্তাবিত টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয় কি না এবং সেই আলোচনার মাধ্যমে এনসিটি, সিসিটি ও জিসিবির ভবিষ্যৎ পরিচালনা কাঠামো নিয়ে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয় কি না।



