জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশ একাডেমি ও কারাগার নির্মাণের উদ্যোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে সারদা পুলিশ একাডেমির আদলে একটি আধুনিক পুলিশ একাডেমি প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই এলাকায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারও স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য ইতোমধ্যে জমি অধিগ্রহণ ও জায়গা নির্ধারণের কাজ চলছে।
পাশাপাশি জঙ্গল সলিমপুরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) এবং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের জন্যও জায়গা নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জঙ্গল সলিমপুরের অবকাঠামো উন্নয়নসংক্রান্ত সভা শেষে এসব তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অবস্থিত জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সড়ক নেটওয়ার্ক নির্মাণের কাজ চলছে। ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের (ইসিবি) নেতৃত্বে এ কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সভায় সড়ক নির্মাণকাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, জঙ্গল সলিমপুরের বিভিন্ন মৌজায় সরকারি জমি রয়েছে। পাহাড় শ্রেণির জমি কিংবা খাসজমি-সব জমিকে সুশাসনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার নির্মাণের জন্য জঙ্গল সলিমপুরে ৭২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে।
জঙ্গল সলিমপুরের অবৈধ বসতি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন সময়ে যারা সেখানে অবৈধভাবে বসতি স্থাপন করেছেন, তাদের কীভাবে পুনর্বাসন করা যায়, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ওই এলাকায় থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকেও পরিচালনার আওতায় আনা হবে।
তিনি বলেন, সবকিছু একটি সুশাসনের মধ্যে নিয়ে এসে এলাকাটিকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনা হবে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থায়ী উপস্থিতি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ জন্য পুলিশ, বিজিবি, এসআরবি ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের জন্য জায়গা নেওয়া হয়েছে। সেখানে সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোর স্থাপনা নির্মাণ করা হবে।
এদিকে বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির দ্বিতীয় সভাও বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পাহাড়ি এলাকায় অপহরণ, মুক্তিপণসহ বিভিন্ন অপরাধ বন্ধে কক্সবাজারের নোয়াখালীপাড়া ও রঙ্গিখালিতে দুটি সেনাক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ক্যাম্প দুটি ১০ ডিভিশনের অধীনে পরিচালিত হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পাহাড়ি এলাকায় নিয়মিত অপহরণের ঘটনা ঘটছে। সবার পরামর্শ অনুযায়ী, ওই দুই স্থানে ক্যাম্প স্থাপন করা হলে এ ধরনের অপরাধ বন্ধে সহায়তা করবে। এ কারণেই দুটি সেনাক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পুলিশের প্রতি জন-আস্থা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইজিপির বক্তব্য অনুযায়ী জন-আস্থা বহাল রাখাই তাদের জন্য বড় কাজ।
তিনি বলেন, “জন-আস্থা আমরা অর্জন করেছি। জন-আস্থাটা কতটুকু অর্জন করতে পেরেছি, সেটার বিচার করবে জনগণ।”
জন-আস্থা ধরে রাখা এবং আরও বেশি জন-আস্থা প্রতিষ্ঠা করাকে সরকারের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ বলেও উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।



