রাজনীতি

চট্টগ্রামে মাদক কান্ড অপরাধ বিচিত্রায় সংবাদ প্রকাশের পর বহিষ্কার হলেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বেলাল ও ছাত্রদল নেতা ইপু

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম নগরে ১০০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধারের মামলায় ছাত্রদল নেতা মো. ইপু সুলতান অপি গ্রেপ্তার এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মো. বেলাল আলী খাঁন পলাতক থাকার ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে সাপ্তাহিক অপরাধ বিচিত্রা পত্রিকার অনলাইন ভার্সনে মাদককাণ্ড নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট নেতাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা ও বহিষ্কারের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

পুলিশের দাবি, ঢাকা থেকে আসা ‘সেঁজুতি ট্রাভেলস’ নামের একটি বাসে অভিযান চালিয়ে ১০০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শাহেদুল ইসলাম আনান ও মো. ইপু সুলতান অপিকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলায় বেলাল আলী খাঁনকে পলাতক আসামি করা হয়েছে। গত ৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে খুলশী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ঢাকা থেকে হেরোইন সংগ্রহ করে চট্টগ্রামে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে আসছিলেন।

মাদক মামলায় গ্রেপ্তারের পর ৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, চট্টগ্রাম মহানগরের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আকবর শাহ থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইপু সুলতান অপিকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠনের সব পদ থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল আলম ও সদস্যসচিব শরিফুল ইসলাম তুহিন সিদ্ধান্তটি অনুমোদন করেন। বিজ্ঞপ্তিতে বার্তাপ্রেরক হিসেবে আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও দপ্তরের চলতি দায়িত্বে থাকা আল মামুন সাদ্দামের নাম উল্লেখ রয়েছে।

এর পরদিন, ১০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল, চট্টগ্রাম মহানগরের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিন নেতাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কারের তথ্য জানানো হয়। বহিষ্কৃতরা হলেন আকবর শাহ থানাধীন ১০ নম্বর উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. বেলাল আলী খাঁন, পাঁচলাইশ থানাধীন ৮ নম্বর শুলকবহর ওয়ার্ডের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাদ্দাম হোসেন এবং একই ওয়ার্ডের সদস্য মো. রুবেল হাসান।
দলীয় নীতি-আদর্শবিরোধী ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক বেলায়েত হোসেন বুলু ও সদস্যসচিব ইঞ্জিনিয়ার জমির উদ্দিন নাহিদ সিদ্ধান্তটি কার্যকর করেন। বিজ্ঞপ্তির বার্তাপ্রেরক ছিলেন দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য মো. জাহিদুল ইসলাম।
এদিকে বেলাল আলী খাঁনের বিরুদ্ধে স্থানীয় পর্যায়ে যানবাহন থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। মামলার তদন্তে মাদকের উৎস, সরবরাহকারী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নির্ধারণ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
১০০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধারের মামলায় পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার এবং মাদক সরবরাহচক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত করতে তদন্তের অগ্রগতি এখন গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে দলীয় বহিষ্কারের সিদ্ধান্তগুলো চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button