নিকুঞ্জে ক্যানসার আক্রান্ত মাকে মারধর ও চিকিৎসার টাকা চুরির অভিযোগে ছেলে গ্রেপ্তার

মো. জাকিরুল ইসলাম: মরণব্যাধি ক্যানসারে আক্রান্ত ৬৫ বছর বয়সী অসুস্থ মাকে নেশার টাকার জন্য মারধর এবং চিকিৎসার জমানো টাকা চুরির অভিযোগে মো. সোহেল রানা (৪২) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রাজধানীর খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ আবাসিক এলাকার জামতলা এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানর ভিত্তিতে বুধবার দিবাগত রাতে জামতলার একটি ভাড়া বাসা থেকে খিলক্ষেত থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
মামলার বিবরণী ও পারিবারিক সূত্র জানায়, সোহেল রানার বাবা মারা যাওয়ার পর থেকেই তিনি বেপরোয়া জীবনযাপন শুরু করেন। ২০০৭ সাল থেকে বিভিন্ন অজুহাতে মায়ের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে তা মাদকের পেছনে ও অন্যান্য অসৎ কাজে উড়িয়ে দেন তিনি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর আচরণ আরও উগ্র রূপ ধারণ করে।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২২ আগস্ট রাতে ক্যানসার আক্রান্ত মা রোকেয়া বেগমের কাছে ভিটেমাটি বিক্রি করে নেশার জন্য টাকা দাবি করেন সোহেল রানা। মা রাজি না হলে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়।
এর আগে গত ২০ আগস্ট ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে ঘরভাড়ার জন্য জমানো ২৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন তিনি। পরবর্তীতে গত ৩ সেপ্টেম্বর ঘরে ঢুকে আলমারির তালা ভেঙে মায়ের ক্যানসার চিকিৎসার জন্য অত্যন্ত জরুরিভাবে রাখা ৪২ হাজার টাকাও চুরি করে নিয়ে যান অভিযুক্ত ছেলে। মা বারবার বোঝানোর চেষ্টা করলেও তার আচরণে কোনো পরিবর্তন আসেনি, উল্টো তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হতো বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অসহায় ও অসুস্থ অবস্থায় বাধ্য হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন ক্যানসার আক্রান্ত মা রোকেয়া বেগম। তিনি খিলক্ষেত থানায় প্রাথমিক যোগাযোগ করার পর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩৮০ ও ৫০৬ ধারায় অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
খিলক্ষেত থানা পুলিশ জানিয়েছে, পরোয়ানা তামিল করে অভিযুক্ত সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আজ আদালতে পাঠানো হয়েছে। সন্তানের এমন অমানবিক আচরণ ও নৃশংসতা শুধু একটি পরিবারের অভ্যন্তরীন সংকটই নয়, বরং সমাজের মূল্যবোধের মারাত্মক অবক্ষয়েরই এক নির্মম চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে।



