ইসলাম ধর্মধর্ম ও জীবন

সালাতুত তাসবিহ আদায়ের নিয়ম, তাসবিহ গণনার পদ্ধতি ও এর বিশেষ ফজিলত

ধর্ম ও জীবন ডেস্ক: নফল ইবাদতের মধ্যে সালাতুত তাসবিহ অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ একটি সালাত। চার রাকাত বিশিষ্ট এই বিশেষ নামাজে নির্দিষ্ট নিয়মে মোট ৩০০ বার বিশেষ তাসবিহ পাঠ করতে হয়। যেকোনো সময় এই সালাত আদায় করা গেলেও জুমআর রাত, পবিত্র রমজান মাস কিংবা অন্যান্য বরকতময় রাত্রিতে এটি আদায়ের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

সালাতুত তাসবিহের প্রতিটি রাকাতে বিশেষ এই তাসবিহটি নির্দিষ্ট সংখ্যায় পড়তে হয়: (সুবহানাল্লাহ, ওয়াল’হামদুলিল্লাহ, ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ওয়াল্লাহু আকবার)

উচ্চারণ: সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার।

প্রতিটি রাকাতে ৭৫ বার করে চার রাকাতে মোট ৩০০ বার এই তাসবিহ পড়তে হয়। নিমেণ প্রতি রাকাতের নিয়ম তুলে ধরা হলো:

১. ছানা ও কিরাত শেষে: তাকবিরে তাহরিমা বেঁধে ‘ছানা’ পড়ার পর সুরা ফাতিহা এবং অন্য একটি সুরা মিলানোর পর রুকুতে যাওয়ার আগে ১৫ বার তাসবিহ পড়তে হয়।

২. রুকুতে: রুকুর নির্ধারিত তাসবিহ (সুবহানা রাব্বিয়াল আযীম) পাঠ করার পর রুকুতেই ১০ বার এই তাসবিহ পড়তে হয়।

৩. রুকু থেকে উঠে (সামিআল্লাহ লিমান হামিদাহ): রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে ১০ বার তাসবিহ পড়তে হয়।

৪. প্রথম সিজদায়: প্রথম সিজদার নির্ধারিত তাসবিহ (সুবহানা রাব্বিয়াল আলা) পাঠ করার পর সিজদাতেই ১৫ বার তাসবিহ পড়তে হয়।

৫. দুই সিজদার মাঝখানে: দুই সিজদার মাঝখানে বসে ১০ বার তাসবিহ পড়তে হয়।

৬. দ্বিতীয় সিজদায়: দ্বিতীয় সিজদার তাসবিহ পাঠের পর সিজদাতেই ১৫ বার তাসবিহ পড়তে হয়।

এভাবে প্রথম রাকাতের পর দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ রাকাতেও হুবহু একই নিয়মে প্রত্যেক রাকাতে ৭৫ বার করে মোট ৩০০ বার তাসবিহ সম্পন্ন করতে হয়।

  • গণনার পদ্ধতি: তাসবিহ গণনার ক্ষেত্রে মুখ দিয়ে শব্দ করে বা জোরে জোরে গণনা করা অনুচিত। মনে মনে কিংবা হাতের আঙুল চেপে বা মুঠি বন্ধ করে গণনা করতে হবে।
  • তাসবিহ ভুলে গেলে বা বাদ পড়লে: কোনো ধাপে নির্দিষ্ট সংখ্যক তাসবিহ পড়তে ভুলে গেলে বা বাদ পড়ে গেলে পরবর্তী ধাপে বা রুকুন-সিজদায় সেই সংখ্যা পুষিয়ে নিতে হবে। সিজদায় বাদ পড়লে বসা অবস্থায় বা পরের রাকাতে তা আদায় করার সুযোগ রয়েছে।

হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে, এই সালাত আদায় করলে আল্লাহ তাআলা অতীতের ও ভবিষ্যতের, আগের ও পরের, ইচ্ছাকৃত বা ভুলের কারণে করা ছোট-বড় সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর চাচা হযরত আব্বাস (রা.)-কে প্রতিদিন, সপ্তাহে অন্তত একবার, মাসে একবার কিংবা জীবনে অন্তত একবার হলেও এই নামাজ পড়ার বিশেষ তাগিদ দিয়েছিলেন। মুমিন বান্দার গুনাহ মোচন ও নেক আশা পূরণের জন্য এটি একটি অত্যন্ত বরকতময় আমল।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button