ইসলাম ধর্মধর্ম ও জীবন

রোগব্যাধি ও অনিষ্ট থেকে বাঁচতে সকাল- সন্ধ্যায় কোন আমলগুলো করবেন

ধর্ম ও জীবন ডেস্ক: সুস্থতা মানবজীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও অমূল্য নিয়ামত। সুস্থ অবস্থায় মানুষ প্রায়শই এই নিয়ামতের গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারে না। তবে ব্যাধিগ্রস্ত হলে বোঝা যায় শারীরিক সক্ষমতা কতটা অপরিহার্য। পার্থিব অর্থ-সম্পদ কিংবা সাফল্য—কোনো কিছুই অসুস্থ দেহে পূর্ণ আনন্দ দিতে পারে না। এজন্য একজন মুমিনের প্রধান দায়িত্ব সুস্থতার জন্য আল্লাহর দরবারে সর্বদা প্রার্থনা করা এবং একই সাথে শরিয়তসম্মত আমল ও বৈজ্ঞানিক চিকিৎসার সঠিক সমন্বয় ঘটানো।

দৈনন্দিন জীবনের নানা রোগব্যাধি, বিপদ-আপদ ও অনিষ্ট থেকে সুরক্ষার জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) সকাল ও সন্ধ্যায় বিশেষ কিছু দোয়া ও সুরার আমল শিক্ষা দিয়েছেন।

হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (সা.) সকাল ও সন্ধ্যায় সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস—এই তিনটি সুরা তিনবার করে পাঠ করার বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে খুবাইব (রা.) বর্ণিত আবু দাউদ ও তিরমিজীর এক হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “সকাল ও সন্ধ্যায় এ সুরাগুলো তিনবার করে পাঠ করলে তা তোমাকে সব ধরনের বিপদ ও অনিষ্ট থেকে রক্ষার জন্য যথেষ্ট হবে।”

সুরা ইখলাস তাওহীদ বা আল্লাহর একত্ববাদের মূল শিক্ষা দেয়, অন্যদিকে সুরা ফালাক ও সুরা নাসের মাধ্যমে দৃশ্য-অদৃশ্য সকল অশুভ শক্তি, অপচ্ছায়া ও হিংসুকদের অনিষ্ট থেকে মহান আল্লাহর দরবারে সরাসরি আশ্রয় প্রার্থনা করা হয়।

সকাল ও সন্ধ্যায় আয়াতুল কুরসি তিলাওয়াত করা আত্মিক নিরাপত্তার এক সুদৃঢ় প্রাচীর। এছাড়া সহিহ হাদিসে বর্ণিত শরীর, ঈমান, পরিবার ও সম্পদের সার্বিক নিরাপত্তা কামনার অন্যান্য মাসনূন দোয়াগুলো পাঠের অভ্যাস মুমিনের অন্তরে এক অদ্ভুত প্রশান্তি ও আল্লাহর প্রতি গভীর তাওয়াক্কুল (ভরসা) সৃষ্টি করে।

ইসলামে আধ্যাত্মিক জিকির-আজকারের পাশাপাশি অসুস্থ হলে উপযুক্ত চিকিৎসা গ্রহণকে বিশেষভাবে তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

  • চিকিৎসা গ্রহণ সুন্নাহ: অসুস্থ হলে শুধু দোয়ার ওপর নির্ভর করে চিকিৎসা বর্জন করা ইসলামী শিক্ষার পরিপন্থী। রাসুলুল্লাহ (সা.) স্বয়ং অসুস্থতায় চিকিৎসা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
  • জীবন পরীক্ষার ক্ষেত্র: জিকির বা আমল কোনো জাদুকরী মন্ত্র নয় যে তা পাঠ করলেই জীবনে কখনো ব্যাধি আসবে না। রোগ-শোক ও শারীরিক পরীক্ষা নবী-রাসুল এবং নেককার বান্দাদের জীবনেও এসেছে। তাই আমলের মূল উদ্দেশ্য হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও সুরক্ষা প্রার্থনা।
  • পরিশুদ্ধ জীবনযাপন: শারীরিক পরিচ্ছন্নতা, সুষম খাবার গ্রহণ, পর্যাপ্ত ঘুম ও নিয়মিত শারীরিক ব্যায়ামের মতো স্বাস্থ্যানুকূল নিয়ম পালন করাও সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত।

আধুনিক জীবনে অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও উৎকণ্ঠা মানুষের শারীরিক অসুস্থতার অন্যতম প্রধান কারণ। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন— “জেনে রাখো, আল্লাহর জিকিরেই কেবল অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয়।” (সুরা আর-রা’দ, ১৩:২৮)। সকাল ও সন্ধ্যার সুনির্দিষ্ট সময়গুলোতে কোলাহলমুক্ত হয়ে আল্লাহর জিকির ও কুরআন তিলাওয়াত মানুষের মানসিক দুশ্চিন্তা দূর করে মনের বল বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

প্রতিদিনের চরম ব্যস্ততার মধ্যেও সকালে ঘুম থেকে উঠে এবং বিকেলে সূর্যাস্তের পূর্বে মাত্র কয়েক মিনিট সময় বের করে এই আমলগুলো করা সম্ভব। নিয়মিত মাসনূন দোয়া পাঠ, পরিচ্ছন্ন জীবনযাপন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে আমরা শারীরিক ও আত্মিক উভয় দিক থেকেই এক নিরাপদ ও সুষম জীবনের অধিকারী হতে পারি। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সুস্থতার নিয়ামত দান করুন। আমিন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button