ইসলাম ধর্মধর্ম ও জীবন

পারিবারিক অশান্তি দূর করার কার্যকরী ইসলামি আমল ও কিছু বাস্তব পরামর্শ

ধর্ম ও জীবন ডেস্ক: সংসার মানেই সুখ-দুঃখের মিশ্রণ। তবে অনেক সময় সিহর (জাদু), বদনজর কিংবা পারিপাব্রিক বিভিন্ন কারণে ঘর-সংসারের শান্তি নষ্ট হয়ে যায়। তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কলহ, ঘরে সর্বদা অস্থিরতা বিরাজ করা কিংবা মনে শান্তি না থাকার মতো সমস্যাগুলো গ্রাস করে নেয় পরিবারকে। এই সংকট থেকে উত্তরণে এবং পরিবারে আল্লাহর রহমত ও বরকত ফিরিয়ে আনতে কিছু অত্যন্ত কার্যকর আমল ও সুন্নাহসম্মত উপায় রয়েছে। তাহিয়া ইসলামের লেখা থেকে সংগৃহীত এই আমল ও দিকনির্দেশনাগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

১. ঘরের পরিবেশ পবিত্র ও বরকতময় করা

  • বিসমিল্লাহর বরকত: যেকোনো ভালো বা ছোট-বড় কাজ শুরু করার আগে ‘বিসমিল্লাহ’ বলুন। আল্লাহর নামে শুরু করা প্রতিটি কাজে বরকত নাজিল হয়।
  • সুরা বাকারা তিলাওয়াত: সাধ্যমতো প্রতিদিন ঘরে সুরা বাকারা তিলাওয়াত করুন। পুরোটা একসঙ্গে সম্ভব না হলে যতটুকু সম্ভব তিলাওয়াত করুন। মাসিক বা হায়েজের দিনগুলোতে অডিও চালিয়ে শুনতে পারেন। যে ঘরে সুরা বাকারা তিলাওয়াত করা হয়, সে ঘরে শয়তান অবস্থান করতে পারে না এবং রহমতের ফেরেশতারা সেখানে প্রবেশ করেন।
  • গান-বাজনা ও বিনোদন বর্জন: বাসা থেকে গান-বাজনা, সিরিয়াল কিংবা সিনেমা সম্পূর্ণরূপে দূরে রাখুন। গান-বাজনা ঘরের বরকত কেড়ে নেয়, অস্থিরতা বাড়ায় এবং শয়তানের আবাসস্থল তৈরি করে। পরিবারের কেউ বা অতিথি গান বাজালে তাকে বিনয়ের সঙ্গে তা নিষেধ করুন।

২. জিকির, ইস্তেগফার ও দরুদের আমল

  • প্রচুর ইস্তেগফার: নিয়মিত ইস্তেগফার করার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা গুনাহ মাফ করেন, রিজিকে প্রশস্ততা আনেন এবং যেকোনো বিপদ থেকে উত্তরণের পথ তৈরি করে দেন।
  • দরুদে ইব্রাহিম পাঠ: পরিবারের সুখ-শান্তি এবং দুনিয়া-আখিরাতের সফলতার জন্য দরুদে ইব্রাহিম অর্থ বুঝে ও ভালোবাসার সঙ্গে পাঠ করুন। এর মাধ্যমে ফেরেশতারাও তিলাওয়াকারীর পরিবারের জন্য শান্তির দোয়া করেন।

৩. পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সুন্নাহর চর্চা

  • সালামের বিস্তার: ঘরে প্রবেশের সময় এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা হলে বেশি বেশি সালাম দিন। সালাম পরস্পরের মধ্যে ভালোবাসা ও দোয়া আদান-প্রদান নিশ্চিত করে, যা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার দূরত্ব দূর করতে দারুণ কার্যকরী।
  • পরিবারকে সময় দেওয়া ও সহযোগিতা: দিনের ব্যস্ততার মাঝেও পরিবারকে সময় দিন। তাদের কথা শুনুন, পারস্পরিক সমস্যাগুলো আলোচনা করুন এবং ঘরের কাজে একে অপরকে সাহায্য করুন।
  • উপহার ও খাবার ভাগাভাগি: সাধ্যমতো পরিবারের সদস্যদের ছোটোখাটো হাদিয়া (যেমন চকলেট বা পছন্দের খাবার) দিন। অন্তত যেকোনো একবেলার খাবার বা বিকেলের নাস্তা একসঙ্গে বসে খাওয়ার অভ্যাস করুন, এতে খাবারে ও সম্পর্কে বরকত বাড়ে।

৪. আমলের প্রতি উৎসাহ ও নিয়মিত সদকাহ

  • নিয়মিত সদকাহ: পারিবারিক শান্তির নিয়্যাতে এবং যেকোনো বিপদ-আপদ থেকে পরিবারকে রক্ষার্থে সাধ্যমতো নিয়মিত অল্প হলেও সদকাহ করুন।
  • পরিবারে দ্বীনি রিমাইন্ডার: পরিবারের সদস্যদের আমলের প্রতি উৎসাহিত করুন। রাতে ঘুমানোর আগে সুরা মূলক পড়া, সকাল-সন্ধ্যার মাসনুন দোয়া, কিংবা নির্দিষ্ট সময়ে একসঙ্গে দরুদ পাঠের জন্য তাদের মনে করিয়ে দিন। দাওয়াহর কাজ নিজ পরিবার থেকেই শুরু করা উচিত।

৫. কুরআন ও হাদিসের বিশেষ দোয়া

পারিবারিক শান্তি ও হিদায়াতের জন্য কুরআনে বর্ণিত বিশেষ দোয়াগুলো নিয়মিত পাঠ করা যেতে পারে:

  • সুরা ইব্রাহিম (আয়াত ৩৫ ও ৪০)
  • সুরা ফুরকান (আয়াত ৭৪)
  • সুরা আহকাফ (আয়াত ২৫)

নিজের ভাষায় আল্লাহর কাছে একান্তে পরিবারের শান্তি, সন্তানদের হিদায়াত ও নিজেদের ঈমানের ওপর ইস্তিগফারের জন্য কান্নাকাটি করে দোয়া করুন। জীবনের কঠিন সময়ে এই আমলগুলো নিয়মিত বজায় রাখলে ইনশাআল্লাহ ধীরে ধীরে ঘরের অশান্তি দূর হয়ে রহমত ও প্রশান্তিতে ভরপুর এক শান্তিময় পরিবেশ গড়ে উঠবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button