স্বাস্থ্য

সিরাম ক্রিয়েটিনিন নিয়ন্ত্রণ ও কিডনি সুরক্ষায় ৮টি জরুরি স্বাস্থ্য পরামর্শ

স্বাস্থ্য ডেস্ক: শরীরে সিরাম ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়া কিডনির কার্যক্ষমতা হ্রাসের একটি অন্যতম প্রধান সংকেত। তবে সময়মতো সঠিক ব্যবস্থা ও সচেতনতা অবলম্বন করলে কিডনির স্থায়ী ক্ষতি রোধ করা এবং রোগের অগ্রগতি ধীর করা সম্ভব। ময়মনসিংহের ‘কমিউনিটি বেজড মেডিকেল কলেজ বাংলাদেশ’-এর নেফ্রোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মাহমুদ জাভেদ হাসান (পরাগ) কিডনি সুরক্ষা ও ক্রিয়েটিনিন নিয়ন্ত্রণে ৮টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা প্রদান করেছেন।

কিডনি সুরক্ষায় ৮টি মূল করণীয়

১. কারণ অনুসন্ধান ও সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ:

পানিশূন্যতা, যেকোনো ধরনের সংক্রমণ, প্রস্রাবের প্রবাহে বাধা কিংবা কিডনিতে প্রদাহ—কারণভেদে চিকিৎসার ধরন ভিন্ন হয়। প্রাথমিক অবস্থায় সঠিক ও সময়মতো চিকিৎসা শুরু করলে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা আবার কমিয়ে আনা সম্ভব।

২. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা:

উচ্চ রক্তচাপ নীরবে কিডনির কার্যক্ষমতা বিনষ্ট করে। তাই নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারিত ওষুধ সেবন করা অত্যন্ত জরুরি।

৩. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা:

অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস কিডনির ভেতরের সূক্ষ্ম রক্তনালিগুলোকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই রক্তের শর্করার মাত্রা ও HbA1c চিকিৎসকের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে রাখতে হবে।

৪. প্রয়োজন অনুযায়ী পানি পান করা:

সবার জন্য পানি পানের পরিমাণ একই রকম নয়। প্রস্রাব কমে গেলে, শরীরে পানি জমে ফুলে গেলে বা হৃদরোগের সমস্যা থাকলে অতিরিক্ত পানি পান উল্টো বিপজ্জনক হতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে পানির পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত।

৫. পরিমিত প্রোটিন গ্রহণ:

অতিরিক্ত মাংস এবং কৃত্রিম প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। তবে মাছ, মাংস বা ডিম একেবারে বন্ধ করে অপ পুষ্টিতে ভোগা যাবে না। বিশেষ করে ডায়ালাইসিস রোগীদের প্রোটিনের চাহিদা সাধারণ রোগীদের চেয়ে আলাদা।

৬. পাতে বাড়তি লবণ বর্জন:

খাবারের সাথে বাড়তি লবণ, প্রক্রিয়াজাত খাবার, আচার ও চিপসের মতো অতিরিক্ত লবণাক্ত খাবার পরিহার করতে হবে। এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি শরীরে পানি জমা রোধ করে।

৭. নিজ সিদ্ধান্তে ব্যথানাশক বা হারবাল ওষুধ না খাওয়া:

ডাইক্লোফেনাক (Diclofenac), আইবুপ্রোফেন (Ibuprofen) ও নেপ্রোক্সেন (Naproxen)-এর মতো বেদনানাশক (NSAID) ওষুধ কিডনির সরাসরি ক্ষতি করতে পারে। এছাড়া ক্রিয়েটিনিন কমানোর অলৌকিক দাবিসর্বস্ব হারবাল প্রোডাক্ট বা অজানা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে।

৮. নিয়মিত ফলোআপ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা:

শুধু সিরাম ক্রিয়েটিনিন নয়—কিডনির প্রকৃত অবস্থা বুঝতে eGFR, প্রস্রাবের ACR এবং পটাশিয়ামের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করতে হয়। তাই শরীর সাময়িক ভালো বোধ করলেও নিজে নিজে ওষুধ বন্ধ না করে নিয়মিত চিকিৎসকের ফলোআপে থাকতে হবে।

ক্রিয়েটিনিন বৃদ্ধির অর্থই সব শেষ নয়; দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের ক্ষেত্রে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে রোগটিকে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়তে না দিয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। তবে প্রস্রাবের পরিমাণ হঠাৎ কমে গেলে, শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে কিংবা শরীর দ্রুত ফুলে উঠলে এক মুহূর্ত দেরি না করে জরুরি চিকিৎসার আওতায় আসতে হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button