আইন-শৃঙ্খলা

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশ্ন ফাঁস চক্রের পাঁচ সরকারি কর্মচারীসহ গ্রেফতার ৭

অনলাইন ডেস্ক: যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের আন্তর্জাতিক ও দেশীয় নেটওয়ার্কের মূল হোতাসহ ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-৩)। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে কর্মরত পাঁচজন সরকারি কর্মচারী রয়েছেন।

অভিযানে তাদের কাছ থেকে প্রশ্নপত্র, বিভিন্ন চেক বই, প্রাইজবন্ড, স্ট্যাম্প ও গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক নথি জব্দ করা হয়েছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এসআরবি-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন।

এসআরবি জানায়, গ্রেফতারকৃত পাঁচ সরকারি কর্মচারী ও তাদের দুই সহযোগী হলেন: ১. মো. রুবেল ইসলাম (৩৩) — ডাটা এন্ট্রি অপারেটর, পরিবেশ অধিদপ্তর।

২. এস এম ইমদাদুল ইসলাম (৩৫) — কম্পিউটার অপারেটর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

৩. নূর মোহাম্মদ (৩০) — অফিস সহায়ক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

৪. জাহাঙ্গীর (৩৮) — কম্পিউটার অপারেটর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

৫. আসাদুল ইসলাম (৩৩) — অফিস সহায়ক, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

৬. মো. মফিজুল ইসলাম (২৩) — চাকরিপ্রার্থী ও সহযোগী।

৭. মো. হাসিনুর রহমান সুজন (৩২) — সহযোগী।

সংবাদ সম্মেলনে এসআরবি-৩-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে পাওয়া মোবাইল চ্যাট ও তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১০ অক্টোবর ভোর ৪টা ৪৩ মিনিটে নূর মোহাম্মদ একটি বিশেষ সূত্রের মাধ্যমে প্রশ্নপত্রের অস্পষ্ট ছবি পান। পরবর্তীতে সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর তাকে প্রশ্নপত্রের একটি স্পষ্ট ছবি পাঠান।

ছবি পাওয়ার পর নূর মোহাম্মদ প্রশ্নপত্রটির উত্তর প্রস্তুত করে জাহাঙ্গীর ও ইমদাদুলকে পাঠান। এরপর ইমদাদুল, আসাদুল, রুবেল, মফিজুল ও সুজন যুক্ত হয়ে চক্রের অন্যান্য সদস্য ও তাদের সঙ্গে চুক্তি করা পরীক্ষার্থীদের কাছে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে উত্তরসহ প্রশ্নপত্র পৌঁছে দেন। আইনি নজরদারি এড়াতে অভিযুক্তরা হোয়াটসঅ্যাপে ভুয়া পরিচয় ও নাম ব্যবহার করত বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৪ অক্টোবর ঢাকার মতিঝিল এলাকা থেকে রুবেল ইসলাম, মফিজুল ইসলাম ও হাসিনুর রহমান সুজনকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে উত্তরখান এলাকা থেকে ইমদাদুল ইসলামকে এবং এসআরবি-৪-এর সহায়তায় মিরপুর-১০ এলাকা থেকে আসাদুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের মোবাইল ফোনের ডিজিটাল ডেটা বিশ্লেষণের ভিত্তিতে ১৫ অক্টোবর সাভার এলাকা থেকে নূর মোহাম্মদকে এবং সবশেষ ১৬ অক্টোবর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে চক্রের অন্য সদস্য জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার করে এসআরবির পৃথক টিম।

অভিযানকালে আসামিদের কাছ থেকে নিয়োগ পরীক্ষা সংক্রান্ত বিপুল পরিমাণ সন্দেহজনক আলামত জব্দ করা হয়েছে:

  • ১০০ টাকা মূল্যমানের ১১৬টি এবং ৫০ টাকা মূল্যমানের ৪টি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প।
  • ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের ১টি মূল সেট ও বিভিন্ন পরীক্ষার ১৯ পাতা প্রবেশপত্র।
  • বিভিন্ন ক্যাটাগরির ১৫টি প্রশংসাপত্র ও ১০টি সনদপত্র।
  • বিভিন্ন ব্যাংকের চেকের ৪৮টি খালি পাতা ও ১টি প্রস্তুতকৃত ব্যাংক চেক।
  • ৬টি জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), ৮টি স্মার্ট মোবাইল ফোন এবং নগদ ৪,০০০ টাকা।

ঘটনায় জড়িত অন্যান্য পলাতক সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে এবং সরকারি দপ্তরগুলোতে এই চক্রের বিস্তার কতদূর তা উদ্ঘাটনে এসআরবির তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button