পরিবেশ

চট্টগ্রামে ভূমিদস্যুদের থাবায় অস্তিত্ব সংকটে গুলশান পাহাড়, চাষাবাদের আড়ালে চলছে পাহাড় কাটার অভিযোগ

মুহাম্মদ জুবাইর: চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানাধীন জালালাবাদের বরই বাগান সংলগ্ন গুলশান পাহাড় ক্রমেই ভূমিদস্যুদের দখল ও পাহাড় কাটার কারণে অস্তিত্ব সংকটে পড়ছে। অভিযোগ উঠেছে, শাকসবজিসহ বিভিন্ন ফসল চাষাবাদের অজুহাতে প্রথমে পাহাড়ের মাটি কেটে সমতল করা হচ্ছে। পরে সেই জমিতে প্লট তৈরি করে শুরু হচ্ছে বাণিজ্য। এভাবে ধীরে ধীরে ধ্বংস করা হচ্ছে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের প্রতীক পাহাড়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র নানা কৌশলে পাহাড় কেটে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করছে। কখনো কৃষিকাজের নামে, আবার কখনো বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও রাজনৈতিক পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে চলছে পাহাড় নিধন। সরকার পরিবর্তন হলেও পাহাড়খেকোদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হচ্ছে না। বরং দিন দিন পাহাড় কেটে জমি সমতল করার প্রবণতা বাড়ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যে অভিযান পরিচালনা, মামলা ও জরিমানার কথা বলা হলেও বাস্তবে পাহাড় কাটা বন্ধ হচ্ছে না। অভিযানের পরও কীভাবে একই এলাকায় দিনের পর দিন পাহাড় কেটে প্লট বাণিজ্য চলছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন নাগরিকেরা।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চট্টগ্রামের পাহাড় আমাদের গৌরব ও প্রাকৃতিক সম্পদ। অথচ চোখের সামনে পাহাড় ধ্বংস হলেও অনেকেই নীরব ভূমিকা পালন করছেন। পাহাড় রক্ষার কথা শুধু মুখে বললে হবে না, বাস্তবে পাহাড়খেকোদের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে।

এদিকে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তাঁদের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনা ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, নিয়মিত অভিযান ও মামলা হলে পাহাড় কাটা বন্ধ হচ্ছে না কেন? কারা এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন।
শুধু গুলশান পাহাড় নয়, চট্টগ্রাম মহানগরীর খুলশী, বায়েজিদ বোস্তামী, আকবর শাহ এবং আশপাশের হাটহাজারী ও সীতাকুণ্ড এলাকাতেও পাহাড় কাটার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। পাহাড় কেটে প্লট তৈরি ও জমি বাণিজ্যের কারণে একদিকে যেমন প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়ছে ভূমিধস, জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ বিপর্যয়ের ঝুঁকি।

চট্টগ্রামবাসীর দাবি, পাহাড় রক্ষায় শুধু লোকদেখানো অভিযান নয়, প্রয়োজন নিয়মিত কঠোর নজরদারি, পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও চক্রের পরিচয় শনাক্ত এবং প্রভাবমুক্ত আইনগত ব্যবস্থা। অন্যথায় একসময় চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী পাহাড়গুলো মানচিত্রে থাকলেও বাস্তবে হারিয়ে যাবে প্রকৃতির এই অমূল্য সম্পদ।

চট্টগ্রামবাসীর প্রশ্ন একটাই-পাহাড় ধ্বংসের এই মহোৎসব বন্ধ করবে কে? কোথায় প্রশাসন, কোথায় পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যকর ভূমিকা?

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button