ভোলায় এতিম ও দুস্থদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ মাওলানা রহমত উল্লাহ’র বিরুদ্ধে

মিলি সিকদার (ভোলা জেলা প্রতিনিধি): ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কুঞ্জেরহাট সংলগ্ন উম্মে হাবিবা রা. বালিকা এতিমখানায় কাগজে-কলমে ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের বরাদ্দের তালিকায় ৪৭ জন ছাত্রী দেখিয়ে সরকারি বরাদ্দ তোলা হলেও সরজমিনে মাত্র ৩ জন এতিম ও অসহায় দুস্থ ছাত্রী পাওয়া যায়। তথ্য লুকিয়ে ও ভুয়া এতিম দেখিয়ে সরকারের ক্যাপিটেশন গ্রান্টের (সরকারি এতিমখানা অনুদান) লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ‘উম্মে হাবিবা রা. বালিকা মাদ্রাসা ও এতিমখানা’ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রতি বছর সরকারি কোষাগার থেকে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ উত্তোলন করা হচ্ছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতাভুক্ত বেসরকারি এতিমখানা গুলোতে প্রতি এতিম শিশুর ভরণ-পোষণের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রতি মাসে ২ হাজার টাকা করে নির্দিষ্ট হারে ক্যাপিটেশন গ্রান্ট দেওয়া হয়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, এই অনুদান পেতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে প্রকৃত ও আবাসিক এতিম এবং অসহায় দুস্থ শিশু থাকা বাধ্যতামূলক। তবে বোরহানউদ্দিন উপজেলার কুঞ্জেরহাট সংলগ্ন উম্মে হাবিবা রা. বালিকা এতিমখানায় কাগজে-কলমে ৪৭ জন এতিম শিশু দেখিয়ে বছরে ১১ লক্ষ ২৮ হাজার টাকা সরকারি অর্থ বরাদ্দ নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে তার বড় একটি অংশই ভুয়া। অনেক সাধারণ ও অনাবাসিক ছাত্রীকে এতিম সাজিয়ে এবং অস্তিত্বহীন শিশুদের নাম তালিকায় যুক্ত করে এই অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে এতিমখানা পরিচালনা কমিটির বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসছে, মাদ্রাসার নথিপত্রে এতিম ও অসহায় দুস্থ শিশুর সংখ্যা ৪৭ দেখানো হলেও বাস্তবে সেখানে নিয়মিত আবাসিক যেসকল শিশু থাকে তার মধ্যে ৩ জন বাদে সবাই মাসিক টাকা দিয়ে থাকে। ৩ হাজার ৫ শত টাকা থেকে শুরু করে প্রায় ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয় একজন ছাত্রী বাবদ।
বছরের পর বছর ধরে মাদ্রাসার পরিচালকেরা স্থানীয় সমাজসেবা কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে এই অনিয়ম চালিয়ে আসছেন বলে ধারণা করছেন সচেতন মহল। সমাজসেবা অধিদপ্তরের নীতিমালা অনুযায়ী ক্যাপিটেশন গ্রান্টের তালিকা প্রণয়ন ও অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রে কঠোর পরিদর্শনের নিয়ম রয়েছে। তবে উম্মে হাবিবা রা. বালিকা এতিমখানার ক্ষেত্রে সঠিক তদন্ত বা ভেরিফিকেশন না করেই অর্থ ছাড়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই অর্থ আত্মসাতের পেছনে মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদ এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের একটি অসাধু চক্র জড়িত রয়েছে বলে ধারণা করছেন স্থানীয় অনেক সচেতন ব্যাক্তি।
এ বিষয়ে এতিমখানা পরিচালক মাওলানা রহমত উল্লাহ’র সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অনিয়মের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, যে সকল অভিযোগ উঠেছে সেগুলো মিথ্যা। তার কাছে ক্যাপিটেশনভুক্ত ছাত্রীদের তালিকা চাইলে তিনি পরে তা দিবেন বলে এই প্রতিবেদক কে জানান। অনুসন্ধানের দীর্ঘ একমাস এর মধ্যে একাধিকবার এই তালিকা দিবেন বলে প্রতিবেদককে কালক্ষেপণ করেন এতিমখানা পরিচালক। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ক্যাপিটেশন ভুক্ত ছাত্রীদের তালিকা দেননি তিনি।
এসকল অভিযোগ এর বিষয়ে উম্মে হাবিবা (রা:) এতিমখানা পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুর রব কাজীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কতজন ছাত্রী ক্যাপিটেশন পায়, কত টাকা সরকারি ভাবে বছরে বরাদ্দ আসে তা আমি জানিনা। এগুলো পরে জেনে আপনাদেরকে জানাবো। উল্লেখ্য- অনুসন্ধান চলাকালী দীর্ঘ একমাস যাবত তার কাছে একাধিকবার এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তা এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জানাননি।
বোরহানউদ্দিন উপজেলা সমাজসেবা অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্বে) মোঃ ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, এই অভিযোগটি আপনাদের মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি। আপনাদের প্রকাশিত প্রতিবেদনটি আমাদেরকে দিলে আমরা সেই প্রতিবেদন অনুযায়ী তদন্ত করে এর সত্যতা পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করব।



