ফরিদগঞ্জে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ড্রেজারে মাটি উত্তোলন, সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও জব্দ করল প্রশাসন

মো: সোহেল রানা (চাঁদপুর প্রতিনিধি): ফরিদগঞ্জে আইনগত নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলনের অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় একটি ড্রেজার জব্দ করে এর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে, যাতে পুনরায় এটি চালু করা সম্ভব না হয়। তবে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই ড্রেজার পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সেখান থেকে সরে যান। রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার রূপসা উত্তর ইউনিয়নের দক্ষিণ বদরপুর হাজীবাড়ি (মাস্টারবাড়ি) এলাকার পেছনের বিলে এ অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আনিসুর রহমান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ বদরপুরের ওই বিলে দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার বসিয়ে মাটি উত্তোলন করা হচ্ছিল। এ কার্যক্রমের সঙ্গে ড্রেজার মালিক সোহাগ (৩৬) ও তাঁর সহযোগী মনির হোসেনের (৫০) সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। মাটি বিক্রেতা ও জমির মালিক হিসেবে উত্তর বদরপুরের মিজান খাঁনের (৬০) নামও উঠে এসেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ড্রেজার পরিচালনার বিষয়ে এর আগেও একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেই ড্রেজার পরিচালনা অব্যাহত রাখা হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
রূপসা উত্তর ইউনিয়ন ভূমি অফিস সহকারী হালিম পাটওয়ারী জানান, সোহাগ ও মনির দীর্ঘদিন ধরে আইনগত নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ড্রেজার পরিচালনা করে আসছিলেন। এ বিষয়ে তাঁদের একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছে। কিন্তু সতর্ক করার পরও তাঁরা ড্রেজার পরিচালনা বন্ধ করেননি।
অভিযানের বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আনিসুর রহমান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাঁরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তবে প্রশাসনের কর্মকর্তারা পৌঁছানোর আগেই সোহাগ ও মনির সেখান থেকে পালিয়ে যান। পরে ঘটনাস্থলে থাকা ড্রেজারটি জব্দ করে এর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, ড্রেজারটির সংযোগ এমনভাবে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে, যাতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পুনরায় সংযোগ স্থাপন করে এটি চালু করতে না পারেন। জব্দ করা ড্রেজারের বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছ থেকে রিসিভার গ্রহণ করা হয়েছে।
জানা গেছে, ড্রেজারটির মালিক সোহাগ (৩৬) দক্ষিণ বদরপুর গ্রামের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের খাসেরবাড়ি এলাকার বাসিন্দা। তাঁর সহযোগী মনির হোসেন (৫০) উত্তর বদরপুর গ্রামের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পুরান বেপারীবাড়ির বাসিন্দা। অন্যদিকে, মাটি বিক্রেতা ও জমির মালিক মিজান খাঁন (৬০) উত্তর বদরপুর গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের লটারি খাঁনবাড়ির বাসিন্দা।
দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার পরিচালনার অভিযোগ ও একাধিকবার সতর্ক করার পরও কার্যক্রম বন্ধ না হওয়ায় প্রশাসনের এ অভিযান স্থানীয়ভাবে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।



