এক তরফা ওয়েজবোর্ডে কাজ হবে কি, প্রশ্ন তথ্যমন্ত্রীর

0
415

রিপোর্ট বঙ্গবন্ধুর ৪২তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে রোববার তথ্য অধিদপ্তরের সামনে ডিজিটাল আলোকচিত্র প্রদর্শনী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু -বার বার তাগাদার পরেও প্রতিনিধির নাম না দেয়া মালিক পক্ষকে বাদ দিয়ে ওয়েজবোর্ডর্ গঠন করলে তা সাংবাদিকদের উপকারে আসবে কি-না সেই প্রশ্ন তুলেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।
ওয়েজবোর্ডে সরকার মধ্যস্ততার ভূমিকা পালন করে জানিয়ে তিনি বলেছেন, মালিক প্রতিনিধি ছাড়া এক তরফা ওয়েজবোর্ডর্ গঠনের সিদ্ধান্ত কঠিন হবে। বঙ্গবন্ধুর ৪২তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে রোববার তথ্য অধিদপ্তরের সামনে ডিজিটাল আলোকচিত্র প্রদর্শনী উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, মজুরি বোর্ড গঠনের ৮০ ভাগ কাজ সম্পন্ন করেছি। মালিকদের প্রতিনিধি আমরা পাইনি, আমরা মালিকদের তাগাদা দিচ্ছি প্রতিনিধি দেয়ার জন্য। এ ব্যাপারে দেন-দরবার চলছে এবং অনুরাধ করছি আপনারা অবিলম্বে প্রতিনিধি দেবেন, আমরা ওয়েজবোর্ডর্ গঠন করব।
মালিকরা প্রতিনিধি না দিলে এক তরফা ওয়েজবোর্ডর্ ঘোষণা করব কি-না এটা একটা কঠিন সিদ্ধান্ত মন্তব্য করে ইনু বলেন, আমি সাংবাদিক ভাই-বোনের মঙ্গল চাই। আমরা মনে করি বিএফইউজে, ডিইউজে সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে এবং সরকারের সঙ্গে, সবশেষে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে যে, এই রকম একতরফা ওয়েজবোর্ডর্ গঠনের মধ্য দিয়ে সাংবাদিক বন্ধুরা উপকার পাবেন কি পাবেন না।
সাংবাদিকদের সর্বশেষ বেতন কাঠামো হয়েছিল ২০১২ সালে; এরপর সরকারি চাকুরেদের বেতন বাড়ার পর সংবাদকর্মীদের দাবির মুখে নবম ওয়েজবোর্ডর্ গঠনের উদ্যোগ নেয় তথ্য মন্ত্রণালয়।
কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও নবম ওয়েজবোর্ডর্ গঠন না হওয়ায় আন্দোলনে রয়েছেন সংবাদকর্মীরা। সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নোয়াব প্রতিনিধির নাম না দেয়ায় ওয়েজবোর্ডর্ গঠন করা যাচ্ছে না বলে তথ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।
মালিকপক্ষ প্রতিনিধি দিতে সম্মত হয়েছে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, কিন্তু এখনও তারা প্রতিনিধি দেননি, আমরা একটু ধৈর্য্য ধরে তাগাদা দিচ্ছি। আশা করছি মালিকরা প্রতিনিধি দেবেন। মালিকদের প্রতিনিধি পেলেই আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ঘোষণা করে দেব।
ওয়েজবোর্ডে সরকার কেবল মধ্যস্ততার ভূমিকা পালন করে। এখানে সাংবাদিকপক্ষ ও মালিকপক্ষ দ্বিপক্ষীয় আলোচনা, তৃপক্ষীয় আলোচনার মধ্য দিয়ে ওয়েজবোর্ডের বিষয়টি চূড়ান্ত করে।
পাঁচ বছর পর পর ওয়েজবোর্ডর্ দেয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক উত্থান-পতনের কারণে পাঁচ বছর অন্তর ওয়েজবোর্ডর্ দেয়া অতীতে সম্ভব হয়নি। কিন্তু শেখ হাসিনা সরকার ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বহু খাটাখাটুনি করে ওয়েজবোর্ডর্ দিতে সক্ষম হয়। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ৫ বছর পূর্তি হবে। ৫ বছর পর যাতে গণমাধ্যমের কর্মীরা নবম ওয়েজবোর্ডর্র সুযোগ পায় এর সঙ্গে আমাদের কোনো বিরোধ নেই।
তবে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরের আগেই নবম ওয়েজবোর্ড গঠন করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন ইনু।
তিনি বলেন, সাংবাদিকদের মধ্য থেকে দাবি উঠার সঙ্গে সঙ্গেই সরকার ওয়েজবোর্ডর্ গঠনের কাজ শুরু করেছে। সাংবাদিক বন্ধুদের সঙ্গে, কর্মচারী বন্ধুদের সঙ্গে আমরা একাধিকবার বসেছি। ওয়েজবোর্ডর্ গঠনের ক্ষেত্রে কোনো লুকোছাপার অবস্থান নেই। সাংবাদিক ও কর্মচারীদের দাবির সঙ্গে তথ্য মন্ত্রণালয়ের মত এক, আমরা একে অপরের প্রতিপক্ষ নই, শত্রুও নই।
তথ্য মন্ত্রণালয় যেখানে ওয়েজবোর্ডের চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়েছে, ৮০ ভাগ কাজ শেষ করেছে, সেখানে তথ্য মন্ত্রণালয় ওয়েজবোর্ডের বিরুদ্ধে এ কথাটা সঠিক নয়, আমরা পক্ষেই আছি।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here