চেয়ারম্যান-এমডি দ্বন্দ্বে অস্থির ঢাকা ওয়াসা

0
425

নিয়োগপ্রাপ্ত ডিএমডিদের কাজে যোগ দিতে দেননি এমডি, এরই মধ্যে নিয়োগ আদেশ বাতিল ঢাকা ওয়াসায় তিনজন উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) নিয়োগকে কেন্দ্র করে বোর্ড চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) মধ্যে দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছেছে। যদিও প্রকাশ্যে কেউ কারও ব্যাপারে কিছু বলছেন না। নিজেদের পছন্দের প্রার্থীর নিয়োগ চূড়ান্ত করতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে তারা জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। আর এ নিয়ে ঢাকা ওয়াসায় অস্থিরতা বিরাজ করছে।
জানা গেছে, ঢাকা ওয়াসার এমডি ও ডিএমডি নিয়োগের ক্ষমতা বোর্ডের হাতে থাকায় নিজের পছন্দের প্রার্থীদের চূড়ান্ত করতে ব্যর্থ হয়েছেন এমডি। এ কারণে তিনি বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে ডিএমডি পদে নিয়োগপ্রাপ্ত ও মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত তিনজনকে ওয়াসায় যোগ দিতে দেননি। উপরন্তু ওই নিয়োগ আদেশ বাতিলের চেষ্টায় মরিয়া হয়ে লড়েছেন। শেষমেশ মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ওই আদেশ বাতিল করেছেন। এটা নিয়ে ঢাকা ওয়াসার কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছেন। দুই পক্ষের মধ্যে টান টান উত্তেজনাও বিরাজ করছে। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ওয়াসা সূত্রে জানা যায়, নতুন তিন ডিএমডি নিয়োগের পরীক্ষার দিন ওয়াসা ভবনে এমডির পক্ষে অবস্থান নেয় সিবিএ ও প্রকৌশলী সমিতি। অন্যদিকে চেয়ারম্যানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদ এবং ঢাকা ওয়াসার প্রকৌশলীদের একটি অংশ। ঢাকা ওয়াসার কয়েকজন কর্মকর্তা  জানান, ওইদিন দুই পক্ষ মারমুখী অবস্থানে ছিল। তবে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ উপস্থিতির কারণে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটেনি।
জানা যায়, এ উত্তেজনার মধ্যেই ঢাকা ওয়াসা বোর্ড তিনজন ডিএমডি প্রার্থী বাছাই করে ৯ মে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করে। ৪ জুন এলজিআরডি মন্ত্রণালয় প্রস্তাব অনুমোদন করে ঢাকা ওয়াসাকে অফিস আদেশের মাধ্যমে অবহিত করে। কিন্তু তাদের কাউকেই যোগদান করেতে দেননি এমডি। কারণ তিনজনের মধ্যে দু’জন তার অপছন্দের লোক। এখন তিনি মন্ত্রণালয়ের ওই আদেশ বাতিল করতে বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহারের জোর চেষ্টা চালিয়ে মঙ্গলবার ওই আদেশ বাতিল করেন।
ঢাকা ওয়াসায় ডিএমডি (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেনেন্স- ওঅ্যান্ডএম) পদে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মোহাম্মদ লিয়াকত আলী এবং ডিএমডি (রিসার্চ, প্লানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট-আরপিডি) পদে নিয়োগপ্রাপ্ত খন্দকার মঞ্জুর মোর্শেদ চেয়ারম্যানের পছন্দের লোক। আর এ দুটি পদে এমডির পছন্দের লোক ছিলেন আবুল কাশেম (ওঅ্যান্ডএম) ও একেএম সহিদ উদ্দিন (আরপিডি)। এ দু’জনই ঢাকা ওয়াসার সাবেক প্রধান প্রকৌশলী।
সূত্র জানায়, বোর্ডের মৌখিক পরীক্ষায় ডিএমডি-ওঅ্যান্ডএম পদে এমডির পছন্দের প্রার্থী আবুল কাশেম ৯ জনের মধ্যে অষ্টম হয়েছেন। ১১০০ নম্বরের মধ্যে পেয়েছেন ৫১৯। অন্যদিকে চেয়ারম্যানের পছন্দের প্রার্থী প্রকৌশলী মোহাম্মদ লিয়াকত আলী প্রথম হয়েছেন। নম্বর পেয়েছেন ৮৪৪। আর ডিএমডি আরপিডি পদে এমডির পছন্দের প্রার্থী একেএম সহিদ উদ্দিন ৯ জনের মধ্যে সপ্তম হয়েছেন। ১১০০ নম্বরের মধ্যে পেয়েছেন ৪৯৩। আর এ পদে চেয়ারম্যান পছন্দের প্রার্থী খন্দকার মঞ্জুর মোর্শেদ প্রথম হয়েছেন। ১১০০ নম্বরের মধ্যে পেয়েছেন ৭৯৮। আর ডিএমডি ফিন্যান্স পদে প্রথম হয়েছেন নন্দন চন্দ্র দে। ১১০০ নম্বরের মধ্যে পেয়েছেন ৮৪২। এই পদের প্রার্থীর ব্যাপারে ঢাকা ওয়াসার এমডি বা চেয়ারম্যানের কোনো আগ্রহ নেই। অন্য দুটি পদের দ্বন্দ্বে আটকে আছে তার যোগদানও।
ঢাকা ওয়াসার একজন নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, প্রকৌশলী আবুল কাশেম ও একেএম সহিদ উদ্দিন এমডির পছন্দের লোক। দীর্ঘদিন একসঙ্গে কাজ করায় এমডি তাদের সম্পর্কে ভালোভাবে জানেন। তারা দক্ষ ও ঢাকা ওয়াসার সার্বিক বিষয় সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। কিন্তু বোর্ডের সদস্যরা চেয়ারম্যানের পক্ষ নেয়ায় এমডির পছন্দের প্রার্থীকে কম নম্বর দিয়েছেন।
তবে ঢাকা ওয়াসার আরেক প্রকৌশলী জানান, বোর্ডের সদস্যরা বিভিন্ন পেশাজীবী ফোরামের খ্যাতিমান লোক। এছাড়া রয়েছেন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিও। সেখানে সবাই ঢাকা ওয়াসা বোর্ড চেয়ারম্যানের পক্ষে অবস্থান নেবেন, এটা অবিশ্বাস্য। তাছাড়া ডিএমডি-ওঅ্যান্ডএম পদে প্রথম হওয়া প্রকৌশলী লিয়াকত আলী বর্তমান সরকারের মেয়াদে ঢাকা ওয়াসায় তিন বছর ডিএমডির দায়িত্ব পালন করেছেন। আর ডিএমডি-আরপিডি পদের প্রথম হওয়া খন্দকার মঞ্জুর মোর্শেদও পানি উন্নয়ন বোর্ডের খ্যাতিমান প্রকৌশলী ছিলেন। এ কারণে তারা অযোগ্য, এটা বলার কোনো সুযোগ নেই। তাছাড়া বোর্ডের প্রস্তাব মন্ত্রণালয় অনুমোদনও করেছে। এ অবস্থায় এটা বাতিল হলে ঢাকা ওয়াসা ও মন্ত্রণালয়ের জন্য খুবই নেতিবাচক উদাহরণ হয়ে থাকবে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ডিএমডি-আরপিডি পদে নিয়োগপ্রাপ্ত খন্দকার মঞ্জুর মোর্শেদ  বলেন, মন্ত্রণালয় আমার নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করলেও ঢাকা ওয়াসা আমাকে কাজে যোগদান করতে দেয়নি। এমডির ঘনিষ্ঠজনরা আমাকে জানিয়েছিল, এ নিয়োগ বাতিল হচ্ছে। শেষমেশ তা-ই হয়েছে। এসব ঘটনা থেকে এটা পরিষ্কার যে, এমডিই এ নিয়োগে মূল ভূমিকা পালন করেছেন। তবে যে কারণই হোক না কেন, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগের বিরুদ্ধে আমি আইনগত পদক্ষপ গ্রহণ করব।
ডিএমডি-ওঅ্যান্ডএম পদে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মোহাম্মদ লিয়াকত আলী  বলেন, ‘সম্পূর্ণ সুষ্ঠু প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আমার নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়েছে। কিন্তু আমাকে কাজে যোগদান করতে দেয়া হয়নি। আর এখন এই আদেশ বাতিল করল সরকার। আমি এখন অসুস্থ, সুস্থ হয়ে এটা নিয়ে কী করা যায় চিন্তাভাবনা করব।’
এদিকে এমডির পছন্দের প্রার্থী প্রকৌশলী একেএম সহিদ উদ্দিন  বলেন, ‘ঢাকা ওয়াসার বোর্ড সদস্যরা ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমাকে কম নম্বর দিয়েছেন। অবাক হলেও সত্য, দু’জন সদস্য আমাকে শূন্য নম্বর দিয়েছেন। ঢাকা ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে অবসরে নেয়া একজন ব্যক্তিকে মৌখিক পরীক্ষায় কীভাবে শূন্য নম্বর দিল, এটা ভাবতেই অবাক লাগে।’ এ ব্যাপারে জানতে এমডির পছন্দের আরেক প্রার্থী প্রকৌশলী আবুল কাশেমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মতামত দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার বিভাগের পানি সরবরাহ উইংয়ের অতিরিক্ত সচিব নাসরিন আক্তার  বলেন, ‘তিনজন এমডির নিয়োগ মন্ত্রণালয় অনুমোদন করে ঢাকা ওয়াসাকে অবহিত করা হয়েছিল। পরে মঙ্গলবার জনস্বার্থে ওই আদেশ বাতিল করা হয়েছে।’
এ ব্যাপারে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী তাকসিম এ খান বলেন, ‘তিনজন ডিএমডি নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান। মন্ত্রণালয় প্রথম তিনজন নিয়োগে আদেশ জারি করে আবার সেটা বাতিল করেছে। এখন ঢাকা ওয়াসা বোর্ড ও মন্ত্রণালয় ডিএমডি নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করবে। পরবর্তী যে নির্দেশনা আসবে, সেটা অনুসরণ করা হবে।’
এ প্রসঙ্গে ঢাকা ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘বোর্ডের দায়িত্ব বোর্ড পালন করেছে। এরপর মন্ত্রণালয় সেটা অনুমোদন করে বাতিল করেছে। কেন এসব

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here