প্যাক্ট কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়ের যাত্রা শুরু পোশাক কারখানা সংস্কারে চার কোটি ডলার ঋণ আইএফসির

0
544

বাংলাদেশের পোশাক কারখানার সংস্কারে বিশ্বব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) চার কোটি ডলারের ঋণ সহযোগিতা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন আইএফসির এ দেশীয় ব্যবস্থাপক ওয়েন্ডি ওয়ের্নার। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ৬০টি কারখানার সংস্কারকাজের উন্নয়নে স্বল্প সুদে এ ঋণ দেওয়া হয়।

Advertisement

গতকাল শনিবার রাজধানীর র‌্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনে পার্টনারশিপ ফর ক্লিনার টেক্সটাইল (প্যাক্ট) বাংলাদেশের দ্বিতীয় পর্বের সমঝোতা স্মারক সই উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ওয়েন্ডি ওয়ের্নার। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে টেক্সটাইল খাতের টেকসই উন্নয়নে এ দেশের ক্ষুদ্র-মাঝারি কারখানাগুলোতে আরো সহযোগিতা দিতে চাই আমরা। আমাদের প্রত্যাশা এর ফলে কারখানা কর্মপরিবেশ, ভবনের নিরাপত্তা, অগ্নি নিরপত্তা এবং শ্রমিকের মান উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ছিলেন তৈরি পোশাক খাতের শীর্ষ সংগঠন তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি বিজিএমইএর সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান, আইএফসির অ্যানার্জি অ্যান্ড রিসোর্স এপিশিয়ান্সি অ্যাডভাইজারির ব্যবস্থাপক এলোক্সিওস প্যান্টেলিয়াস, আইএফসির প্যাক্ট প্রগ্রাম ম্যানেজার নিশাত শহীদ চৌধুরী প্রমুখ।

বাংলাদেশের পোশাক খাতের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে আইএফসি ২০১৩ সাল থেকে পোশাক খাতের ডায়িং কারখানা খাতের উন্নয়নে প্যাক্ট কার্যক্রম শুরু করে। প্রথম পর্বে প্রতিষ্ঠানটি শুধু ডায়িং শিল্প খাতে এ সেবা দেয়। এবার সব ধরনের পোশাক কারখানায় এ সেবা দেওয়া হবে বলে জানান এর কর্মকর্তারা। দ্বিতীয় পর্বে ৭০ কোটি ডলার অর্থ সহায়তায় ২৫০টি কারখানার জন্য কাজ করবেন আইএফসি কর্মকর্তারা। ১৩টি ব্র্যান্ডের সমন্বিত প্রচেষ্টায় ২১৫টি কারখানায় জ্বালানি ও রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহার যথাসম্ভব কমিয়ে সর্বোচ্চ মানের দক্ষতা আনার কাজ চালিয়ে যাওয়া হয়।

এতে সহযোগিতা করে পোশাক খাতের ব্র্যান্ড প্রযুক্তি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং কারখানা।

প্যাক্ট কর্মসূচি ব্যবস্থাপক নিশাত শহীদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে ডায়িং খাতে প্রায় ৭৫০টি কারখানা আছে। এর মধ্যে প্যাক্টের আওতায় ২৫ শতাংশ কারখানায় পানি, জ্বালানি ও রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহার কমিয়ে আনতে সর্বোচ্চ দক্ষতা কাজে লাগানোর চেষ্টা করা হয়। আর আজকের এই অনুষ্ঠান হলো প্যাক্ট প্রথম পর্বের উদ্যাপন আর দ্বিতীয় পর্বের যাত্রা শুরুর ঘোষণা।

নিশাত শহীদ চৌধুরী আরো বলেন, নেদারল্যান্ডস সরকারের সহায়তায় প্যাক্টের প্রথম প্রকল্পে দেশের ২০০টিরও বেশি টেক্সটাইল কারখানা থেকে সম্মিলিতভাবে বছরে প্রায় ২১.৬ বিলিয়ন লিটার পানি এবং ২৫ লাখ মেগাওয়াট আওয়ার শক্তির ব্যবহার কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। তাদের আশা অস্ট্রেলিয়া সরকারের সহায়তায় দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্পে টেক্সটাইল ভ্যালু চেইনের সামগ্রিক দিক নিয়ে কাজ করার মাধ্যমে কর্মসূচির সুযোগ ও পরিধি আরো বৃদ্ধি পাবে।

২০২১ সালে তৈরি পোশাক খাতে ৫০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির যে রূপকল্প নেওয়া হয়েছে এতে প্যাক্ট কোনো ভূমিকা রাখবে কি না জানতে চাইলে বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের রূপকল্প বাস্তবায়নে টেকসই জ্বালানি ও অবকাঠামো পেলে এটা করা সম্ভব। তবে বিশ্ববাজারে পোশাকে চাহিদা এবং বাজার সংকুচিত হওয়ার ফলে আমাদের রপ্তানি প্রবৃদ্ধিও বেশ কমেছে। যদিও চলতি বছরের শুরুর দিকে আবার কিছুটা ভালো দিকে যাচ্ছে। প্রবৃদ্ধি আর প্রযুক্তি দক্ষতা কাজে লাগানো গেলে আমাদের আশা এ রূপকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব। আর এতে প্যাক্টের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ’

তিনি আরো বলেন, ‘পরিবেশবান্ধব সবুজ কারখানায় আইএফসি স্বল্প সুদে ঋণ দিচ্ছে। এর ফলে আমাদের গ্রিন শিল্প-কারখানাও বাড়ছে। তবে এ ঋণ পেতে কারখানাগুলোকে কমপ্লাইনস হতে হয়। ’

ওয়েন্ডি ওয়ের্নার বলেন, কারখানা সংস্কারে আইএফসির দেওয়া ৪ কোটি ডলারের এ ঋণ দেশের বেসরকারি খাতের ২ ব্যাংকের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে। তবে এ ঋণ আরো বাড়ানো হতে পারে। এ ছাড়া সরাসরি বেসরকারি খাতেও ঋণ দেয় বলে জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলন শেষে বিজিএমইএ এবং আইএফসির মধ্যে প্যাক্টের দ্বিতীয় পর্বের প্রকল্প বাস্তবায়নের সমঝোতা স্মারক সই করেন বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান এবং আইএফসির পক্ষে সই করেন আইএফসির এ দেশীয় ব্যবস্থাপক ওয়েন্ডি ওয়ের্নার।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here