ষোড়শ সংশোধনী যতবার বাতিল করবে সংসদে ততবার পাস হবে বিচারপতিদের চাকরি সংসদই দেয়, তাদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদেরই থাকা উচিত

0
1015

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন ‘বিচারপতি অপসারণ সংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী আদালত যতবার বাতিল করবেন সংসদে ততবারই নতুন করে এ সংশোধনী পাস হবে। বিচারপতিদের চাকরি সংসদই দেয়, সুতরাং তাদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতেই থাকা উচিত।’ সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় শুক্রবার দুপুরে সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
দু’দিনের সফরে শুক্রবার সিলেটে আসেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। দুপুরে একটি উন্নয়ন প্রকল্পের স্থান পরিদর্শনে যান তিনি। এ সময় সাংবাদিকরা ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা আবারও এসেমব্লিতে পাস করব। এই কন্সটিটিউশনাল এমেন্ডমেন্ড অনবরত করতেই থাকব। দেখি জুডিশিয়ারি কতদূর যায়। বিকজ জুডিশিয়ারি পজিশন আমার মতে আনটেরিবল।’ অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষের প্রতিনিধির ওপর তারা খোদগারি করবে তাদের আমরা চাকরি দেই।’
প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাসহ আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতির স্বাক্ষরের পর মঙ্গলবার বিচারপতি অপসারণ সংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়। এ রায় প্রকাশের পর এই প্রথম সরকারের কোনো মন্ত্রী কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেন।
এর আগে ১ জুন সুপ্রিমকোর্টের বিচারকদের অপসারণ-সংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি শেষ হয়। পরে যে কোনো দিন এ রায় ঘোষণা করার জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। শুনানি শুরু হওয়ার ১১তম দিনের শেষে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি আবদুল ওয়াহাব মিঞা, বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার।
৩০ মে দশম দিনের আপিল শুনানিতে অ্যামিকাস কিউরিদের মতামত প্রদান শেষ হয়। মোট ১০ জন অ্যামিকাস কিউরি আদালতে মতামত দিয়েছেন। যার মধ্যে নয়জনই ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পক্ষে মতামত দেন।
অর্থমন্ত্রীর পরামর্শ : এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যায় সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে স্থানীয় একটি দৈনিক পত্রিকা আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এ সময় তিনি বলেন, ঢাকার সাংবাদিকরা মনে করবেন না যে আপনারাই ইন্টেলেকচুয়াল কনটেন্ট বেশি দেন, নো, মফস্বলে যারা কাজ করেন তাদেরও অনেক দায়িত্ব আছে এবং তারা সেই হিসেবে আপনাদের সমতুল্য। আমরা সবসময় উপদেশ দিতে পছন্দ করি। আজকে একটু উপদেশ দেব- আমাদের যারা সংবাদমাধ্যমে আছেন মফস্বল শহরে, উপদেশটা তাদের উদ্দেশে, অনেক সময় মফস্বলে ছোটখাটো ব্যাপার বেশ প্রাধান্য পায়। এটার কিন্তু জাতীয় পর্যায়ে তেমন কোনো গুরুত্ব নেই। আমরা অনেক সময় এটা মনে রাখি না এবং তাতে বেশকিছু অসুবিধা হয়। হ্যাঁ, মফস্বলের ঝগড়ার খবর দেবেন। এমনভাবে দেন যেন এটাই প্রধান নিউজ হয়ে না যায়। যুগান্তরের নিউজগুলো কোনো কোনো ক্ষেত্রে এমন হয়ে যাচ্ছে এটা মোটেও আশাপ্রদ নয়। আমাদের এখানে সিলেটের বিভিন্ন বর্ডারে- শ্যাওলা জকিগঞ্জ তামাবিল এলাকায় আমাদের অনেক অসুবিধা হয়, সেগুলো তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে আবদুল মোমেন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন ও বাচসাসের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল করিম নিশান।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here