ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের ভাঙা-সংলাপের মাঝেও শান্তির ক্ষীণ আলো—-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক

অপরাধ বিচিত্রা ডেক্স: ১. আলোচনার টেবিলে আরেক যুদ্ধ: রাত নামছিল ধীরে ধীরে। কূটনীতির শহরগুলোর আলো একে একে জ্বলে উঠছিল, কিন্তু সেই আলোর ভেতরেও কোথাও যেন লুকিয়ে ছিল অনিশ্চয়তার ছায়া। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র—দুই ভিন্ন ভূখণ্ড, দুই ভিন্ন দর্শন, অথচ একই টেবিলে বসে খুঁজছিল একটি শব্দ: শান্তি।
আর সেই টেবিলটি দাঁড়িয়ে ছিল পাকিস্তানের মাটিতে—একটি দেশ, যে নিজেকে উপস্থাপন করতে চেয়েছিল সেতু হিসেবে, সংঘাতের নয়, সংলাপের প্রতীক হিসেবে।
কিন্তু শব্দটি যেন বারবার হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছিল।
২. সংলাপের ভাঙন: শব্দের আড়ালে নীরব যুদ্ধ আলোচনার টেবিলে কাগজ ছিল, প্রস্তাব ছিল, এমনকি কূটনৈতিক হাসিও ছিল। কিন্তু ভেতরে ভেতরে জমে ছিল অবিশ্বাসের বরফ।
ইরান তার সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপসহীন—যেন পাহাড়ের মতো দৃঢ়।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র তার নিরাপত্তা ও প্রভাবের হিসাব কষে—যেন এক জটিল দাবার খেলোয়াড়।
এই দুই শক্তির কথোপকথন অনেকটা এমন—দু’জন মানুষ একই ভাষায় কথা বলছে, কিন্তু কেউই কারও কথা বুঝতে চাইছে না। ফলে সংলাপ ভেঙে পড়ে—শব্দ থাকে, অর্থ হারিয়ে যায়।
৩. পাকিস্তানের মধ্যস্থতা: সেতু না কি চাপের ভারে নত এক কাঠামো:
পাকিস্তান এই আলোচনায় নিজেকে উপস্থাপন করেছিল এক নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে। ভৌগোলিক অবস্থান, মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক, এবং পশ্চিমা শক্তির সঙ্গে কূটনৈতিক সংযোগ—সব মিলিয়ে পাকিস্তানকে মনে হয়েছিল উপযুক্ত একটি সেতু।
কিন্তু বাস্তবতা ছিল আরও জটিল। একদিকে ইরানের সঙ্গে সীমান্ত, ধর্মীয় ও আঞ্চলিক সংযোগ,
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্ক!এমন দ্বৈত সম্পর্ক পাকিস্তানকে শক্তিশালী মধ্যস্থতাকারী বানানোর পাশাপাশি একধরনের ভারসাম্যহীনতার মাঝেও ফেলে দেয়। যেন সে দুই দিক থেকেই টান খাচ্ছে—একটি সেতু, যার দুই প্রান্তই তাকে নিজের দিকে টেনে নিতে চায়।
ফলে পাকিস্তানের ভূমিকা হয়ে ওঠে এক সূক্ষ্ম দড়ির ওপর হাঁটার মতো—যেখানে সামান্য ভুল পদক্ষেপেই ভেঙে যেতে পারে বিশ্বাস।
৪. ব্যর্থতার ভেতরে লুকানো সম্ভাবনা: তবুও ইতিহাস বলে, প্রতিটি ব্যর্থতা এক একটি অদৃশ্য দরজা খুলে দেয়। এই ভাঙনও তেমনই এক দরজা—যেখানে হতাশার পাশে বসে থাকে সম্ভাবনা।
কারণ—উভয় পক্ষই জানে, পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ তাদের জন্য ব্যয়বহুল আঞ্চলিক অস্থিরতা কারও একার নিয়ন্ত্রণে থাকবে না বৈশ্বিক চাপ ক্রমেই বাড়ছে এই বাস্তবতাগুলোই যেন অন্ধকার ঘরে একটি ছোট প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখে।
৫. মধ্যপ্রাচ্যের মঞ্চ: নীরব অস্থিরতার নাটক: মধ্যপ্রাচ্য এখন এক বিশাল মঞ্চ, যেখানে প্রতিটি দেশ এক একটি চরিত্র। এখানে সরাসরি যুদ্ধ না হলেও, ছায়াযুদ্ধ চলতে পারে— প্রক্সি সংঘাত, রাজনৈতিক চাপ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা—সব মিলিয়ে এক জটিল নাটক। এই নাটকের প্রতিটি দৃশ্যেই উত্তেজনা, কিন্তু শেষ অঙ্ক এখনো লেখা হয়নি। আশার ক্ষীণ আলো: কেন এখনো নিভে যায়নি
সবকিছু ভেঙে পড়ার পরও কেন আশার আলো টিকে থাকে? কারণ মানুষ যুদ্ধ চায় না—
চায় স্থিতি, নিরাপত্তা, এবং ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা।
কূটনীতিকদের ভাষা যতই কঠিন হোক, বাস্তবতা তাদের বাধ্য করে নতুন করে ভাবতে।
আজ যে দরজা বন্ধ হয়েছে, কাল হয়তো অন্য কোনো দরজা খুলবে।
এবং সেই দরজার ফাঁক দিয়েই প্রবেশ করে আলো—ক্ষীণ, কিন্তু অবিনাশী।
৬. পাকিস্তান কি আবার হাল ধরতে পারবে:
প্রশ্নটি এখন কেবল কূটনীতির নয়, বিশ্বাসেরও। পাকিস্তান কি আবার সেই সেতু হয়ে উঠতে পারবে, যেখান দিয়ে I ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র — এই দুই শক্তি আবার একত্রে হাঁটতে রাজি হবে?
সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করা যায় না।
কারণ—
পাকিস্তানের ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থান এখনো গুরুত্বপূর্ণ।
মুসলিম বিশ্বে তার গ্রহণযোগ্যতা একটি বড় সম্পদ; এবং উভয় পক্ষের সঙ্গেই তার যোগাযোগের দরজা খোলা রয়েছে।
তবে শর্ত একটাই—
পাকিস্তানকে হতে হবে আরও বিশ্বাসযোগ্য, আরও ভারসাম্যপূর্ণ, এবং আরও দৃঢ়।
যদি সে আবার সেই আস্থা অর্জন করতে পারে, তবে হয়তো এই ভাঙা সংলাপের ধ্বংসস্তূপের ওপরই গড়ে উঠতে পারে নতুন এক আলোচনার সেতু।
৭. অন্ধকারের শেষে আলো:
এই মুহূর্তে দৃশ্যপট হয়তো অন্ধকারাচ্ছন্ন।
সংলাপ ভেঙেছে, আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, উত্তেজনা বেড়েছে—এবং Pakistan-এর মধ্যস্থতাও তার কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায়নি।
তবুও প্রশ্নটি রয়ে যায়—
এই অন্ধকার কি চূড়ান্ত, নাকি এটি কেবল ভোরের আগের গভীরতম রাত?
বিশ্ব অপেক্ষা করছে—
একটি নতুন সংলাপের,
একটি নতুন সূচনার,
একটি নতুন ভোরের …
[11:29 AM, 4/22/2026] Morsed saing: ইসলামের ইতিহাসে পবিত্র কাবা শরীফ শুধু একটি স্থাপনা নয়, বরং এটি বিশ্বের কোটি কোটি মুসলিমের হৃদস্পন্দন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সা.) কিয়ামতের আগে এমন এক সময়ের কথা বলে গেছেন, যা শুনলে মুমিনের অন্তর কেঁপে ওঠে। সেই সময় এক ব্যক্তি পবিত্র কাবার পাথরগুলো একে একে উপড়ে ফেলবে।
সেই রহস্যময় ব্যক্তি কে?
নবীজি (সা.)-এর বর্ণনা অনুযায়ী, কিয়ামতের পূর্বে আবির্ভূত এই ব্যক্তির নাম ‘যিল সুয়াইকাতাইন’ (ذُو السُّوَيْقَتَيْنِ)। এর অর্থ হলো ‘দুই সরু নলাবিশিষ্ট ব্যক্তি’। তিনি হবেন হাবশার (বর্তমান ইথিওপিয়া) একজন মানুষ। তার শারীরিক বর্ণনা দিতে গিয়ে রাসূল (সা.) বলেছেন, সে হবে কালো বর্ণের, তার পা হবে চিকন এবং সে হবে খাটো ও কুঁজো।
হাদিসের বর্ণনা
বুখারী ও মুসলিম শরীফের একাধিক সহীহ হাদিসে এই ঘটনার উল্লেখ রয়েছে:
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
“হাবশার (ইথিওপিয়ার) ছোট দু’টি চিকন পা বিশিষ্ট এক ব্যক্তি কাবা ঘরটি ধ্বংস করবে।”
(সহীহ বুখারী, হাদিস নং ১৫৯১; সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ২৯০৯)
অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, নবীজি (সা.) বলেছেন:
“আমি যেন দেখতে পাচ্ছি, জনৈক কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি, যার পা দু’টো বাঁকা ও সরু, সে একটি একটি করে পাথর খুলে কাবা ঘরটি ধ্বংস করছে।”
(সহীহ বুখারী, হাদিস নং ১৫৯৫)
কেন সেদিন তাকে কেউ বাধা দেবে না?
আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে, আবরাহা যখন হাতি নিয়ে কাবা ধ্বংস করতে এসেছিল, তখন আল্লাহ তায়ালা ‘আবাবিল’ পাখি পাঠিয়ে তাকে ধ্বংস করেছিলেন। তাহলে এই ব্যক্তির বেলায় কেন নয়?
মুহাদ্দিসীন এবং ইসলামী স্কলারদের মতে, এই ঘটনাটি ঘটবে কিয়ামতের একেবারে সন্নিকটে। যখন:
১. দুনিয়া থেকে সব মুমিন ব্যক্তির আত্মা তুলে নেওয়া হবে।
২. পৃথিবীতে ‘আল্লাহ’ বলার মতো কেউ অবশিষ্ট থাকবে না।
৩. মানুষের অন্তর থেকে দ্বীনের মহব্বত উঠে যাবে এবং কুরআন শরিফের অক্ষরগুলো মুছে যাবে।
অর্থাৎ, যখন কাবার সম্মান রক্ষা করার মতো কোনো ঈমানদার পৃথিবীতে থাকবে না, তখনই আল্লাহ এই ধ্বংসলীলা ঘটতে দেবেন। এটি হবে কিয়ামতের অন্যতম একটি বড় আলামত।
এই ভয়াবহ ভবিষ্যদ্বাণী আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, এই পৃথিবী নশ্বর। এমনকি যে কাবাকে আমরা প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসি, সেটিও একদিন বিলীন হয়ে যাবে। এটি আমাদের ঈমানকে মজবুত করার এবং বেশি বেশি নেক আমল করার একটি সতর্কবার্তা।
পবিত্র কাবার সেই অন্তিম দৃশ্য কল্পনা করাও একজন মুসলিমের জন্য কঠিন। কিন্তু নবীজি (সা.)-এর প্রতিটি কথা সত্য। সেই অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি হওয়ার আগেই আমাদের উচিত নিজেদের ঈমানকে পরিশুদ্ধ করা।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত ঈমানের ওপর অটল রাখুন এবং কিয়ামতের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করুন। আমীন।


