সিলেটে পাহাড়-টিলা কাটার মহোৎসব: হুমকির মুখে পরিবেশ ও সরকারি হাজার কোটি টাকার সম্পদ
সিলেট বিভাগীয় ব্যুরো: প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য ও সবুজ অরণ্যে ঘেরা সিলেটে চলছে পাহাড়, বন ও টিলা কাটার ‘মহোৎসব’। অসাধুচক্রের বেপরোয়া থাবায় প্রতিদিন বিলীন হচ্ছে শত শত টিলা, যা বৃষ্টির পানির সাথে মিশে পরিবেশের চরম বিপর্যয় ডেকে আনছে। শাহপরাণ থানা এলাকা থেকে শুরু করে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ডে কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই চলছে এই ধ্বংসযজ্ঞ।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিলেট সদর উপজেলার খাদিম নগর খিদিরপুর মৌজা, আঁট গাঁও মৌজা, চুয়া বহর, খাদিম নগর মৌজা এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৩৪, ৩৫ ও ৩৬ নং ওয়ার্ডের আওতাধীন শাহপরাণ থানার বহর মৌজা ও দেবপুর মৌজাসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় পাহাড় কাটার তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে। প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় সরকারি খাস জমি ও বন্দোবস্ত দেওয়া লিজ ভূমি দখল করে পাহাড় কেটে অবৈধভাবে প্লট তৈরি ও ভরাট কাজ চালানো হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যে অভিযান পরিচালনা করা হলেও কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপের অভাবে থামছে না এই দখল বাণিজ্য।
পাহাড় ও বন উজাড়ের ফলে বন্যপ্রাণী ও পশুপাখির আবাসস্থল ধ্বংস হচ্ছে। সম্প্রতি টানা বৃষ্টিতে পাহাড় কাটা মাটি ধুয়ে পানির সাথে মিশে যাচ্ছে, যা স্থানীয় ভূ-প্রকৃতির ব্যাপক ক্ষতিসাধন করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাহুবল এলাকার উছমানী মুক্তিযোদ্ধা আদর্শ গুচ্ছ গ্রাম, সিরাজ নগর, বহর কলোনি, পশ্চিম উত্তর বহর, মোহাম্মদপুর ফাতেমা জজ সাহেব রোড, আলুর তল, বাঘমারা এলাকা এবং সৈয়দপুর ও শ্যামলী এলাকার শেষ প্রান্ত পর্যন্ত সরকারি হাজার কোটি টাকার সম্পদ ও লিজ দেওয়া জমি দখলদারদের কবলে চলে যাচ্ছে।
সিলেটের প্রাকৃতিক ভারসাম্য, চা শিল্প ও নান্দনিক সৌন্দর্য রক্ষায় এখনই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। এই ল্যান্ডস্কেপ ও পরিবেশ রক্ষায় সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি), সংশ্লিষ্ট এসিল্যান্ড, ইউএনও এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। একইসাথে বাংলাদেশ ভূমি মন্ত্রণালয় ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সুদৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন পরিবেশবাদী ও সচেতন মহল।
একটি দুর্নীতিমুক্ত ও পরিবেশবান্ধব দেশ গড়ার লক্ষে জাতীয় ভেজাল প্রতিরোধ ফাউন্ডেশন এবং ‘অপরাধ বিচিত্রা’ ও ‘ক্রাইম তালাশ প্রতিদিন’-এর পক্ষ থেকে সিলেটের এই অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে।



