চট্টগ্রামদুর্নীতি

আনোয়ারায় দলিল প্রতি ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ সাব রেজিস্টারের বিরুদ্ধে, দুদকের হস্তক্ষেপ কামনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় দলিল নিবন্ধনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত করা হয়েছে উপজেলা সাব রেজিস্টার যুবায়ের হোসেনকে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিটি দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে, ফলে সাধারণ সেবাগ্রহীতারা চরম ভোগান্তি ও আর্থিক চাপে পড়ছেন।

সরকারি বিধি অনুযায়ী, প্রতি লাখ টাকার ওপর স্ট্যাম্প শুল্ক ১.৫%, স্থানীয় সরকার ফি ৩% এবং রেজিস্ট্রি ফি ১% নির্ধারিত। এছাড়া কিছু মৌজায় প্রতি গণ্ডায় উৎসকর ৫০ হাজার টাকা প্রযোজ্য। কিন্তু বাস্তবে এসব নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ না দিলে দলিল নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

অনুসন্ধানে জানা যায়, দলিল নিবন্ধনের সময় ইচ্ছাকৃতভাবে বিভিন্ন ধরনের ত্রুটি খুঁজে বের করা হয়। পরে এসব ত্রুটিকে অজুহাত হিসেবে দেখিয়ে অসাধু দলিল লেখকদের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের ঘুষ আদায় করা হয়। এমনকি নামের সামান্য বানানভুল বা অসামঞ্জস্য থাকলেও তা দেখিয়ে অর্থ আদায় করা হয়। যদিও সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানের প্রত্যয়নপত্র জমা দেওয়া হয়, তবুও প্রতিটি দলিল থেকে ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আর সবকিছু ঠিক থাকলেও ন্যূনতম ১ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সুযোগ বুঝে অর্থ আদায় করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সেবাগ্রহীতা জানান, ঘুষ ছাড়া কোনোভাবেই দলিল রেজিস্ট্রি করা যাচ্ছে না। বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত টাকা দিতে হচ্ছে, নইলে রেজিস্ট্রি আটকে রাখা হয় বা অযথা হয়রানি করা হয়।

অন্যদিকে, কয়েকজন দলিল লেখকও অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান সাব রেজিস্টার আনোয়ারায় যোগদানের পর স্বল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন, যা নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। বিশেষ করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। পাশাপাশি, সরকারি নির্ধারিত ফি তালিকা অফিসে দৃশ্যমান স্থানে টানিয়ে সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি বন্ধ করারও জোর দাবি জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে আনোয়ারা সাব রেজিস্টার যুবায়ের হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জেলা সাব রেজিস্টার খন্দকার জামিলুর রহমানের বক্তব্য জানার জন্য সরকারি ওয়েবসাইটে দেওয়া নম্বরে ফোন দিলে নম্বরটি বর্তমান সাব রেজিস্টারের নয় বলে জানা যায়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button