আনোয়ারায় চায়না ইকোনমিক জোন কেন্দ্রিক অস্থিরতা: নেপথ্যে গোপন সমঝোতার অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় অবস্থিত চায়না ইকোনমিক জোন প্রকল্পের কাজ নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ট এক ব্যবসায়ীর কাজ বাগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা এবং বিএনপির একাংশের সাথে গোপন আঁতাতের অভিযোগে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক অর্থ সম্পাদক ও ‘নাজ এন্টারপ্রাইজ’-এর স্বত্বাধিকারী মো. জসিম উদ্দিন প্রকল্পের প্রথম গেট নির্মাণের কার্যাদেশ পাওয়ার দাবি করে কাজ শুরু করেন। তবে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির এই তৎপরতার বিরুদ্ধে শুরু থেকেই সোচ্চার হন স্থানীয় বিএনপির তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। তাদের বাধার মুখে কিছুদিন কাজ বন্ধ থাকলেও সম্প্রতি পুনরায় কাজ শুরুর উদ্যোগ নিলে আবারও প্রতিরোধের মুখে পড়েন ওই ব্যবসায়ী।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। অভিযোগ উঠেছে, বিএনপির কতিপয় সুবিধাভোগী ও ‘হাইব্রিড’ নেতার সাথে গোপন সমঝোতার মাধ্যমেই আওয়ামী লীগের এই নেতা কাজ চালিয়ে যাওয়ার সাহস পাচ্ছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
তৃণমূল বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালীরা একচেটিয়াভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করেছে এবং বিরোধী মতের কাউকে সামান্য সুযোগও দেয়নি। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও প্রশাসনের নীরবতায় সেই একই চক্রের প্রভাব বজায় থাকায় তারা ক্ষুব্ধ। নেতা-কর্মীরা আশঙ্কা করছেন, বিতর্কিত ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে স্থানীয় যোগ্য ব্যবসায়ীদের সুযোগ না দিলে এবং ‘কমিশন নির্ভর’ রাজনীতি বন্ধ না হলে দলে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিতে পারে।
এ বিষয়ে চায়না ইকোনমিক জোনের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে এখনো আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠরা বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন, যা অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে উসকে দিচ্ছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অবিলম্বে স্থানীয় সংসদ সদস্যের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তৃণমূলের বঞ্চিত নেতা-কর্মীরা। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে ত্যাগীদের অধিকার হরণ করা হলে তারা রাজপথে কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন।



