সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ছাতক বিদ্যুৎ বিভাগে সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল আজিমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের পাহাড়সম অভিযোগ উঠেছে। এই কর্মকর্তাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অনিয়মের ঘটনায় স্থানীয় গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তার দুর্নীতির ফিরিস্তি তুলে ধরে ইতোমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং বিদ্যুৎ ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
দুদকে দেওয়া অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ছাতকের গোবিন্দগঞ্জ এলাকায় প্রায় ১১ লাখ টাকার একটি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ টেন্ডার প্রক্রিয়া ছাড়াই নামমাত্র সম্পাদন করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে প্রকৌশলী আব্দুল আজিমের বিরুদ্ধে। এছাড়া গোবিন্দগঞ্জের ‘আল-মদিনা রেস্টুরেন্ট’-এ নিয়মবহির্ভূতভাবে পিডিবির মিটার সংযোগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে, যেখানে পল্লী বিদ্যুতের অনাপত্তিপত্র নেওয়া হয়নি।
অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, নোয়ারাই অটোগ্রেজসহ বিভিন্ন এলাকায় মিটারের রিডিং কারসাজি করে অতিরিক্ত বিল আদায়ের মাধ্যমে গ্রাহকদের হয়রানি করা হচ্ছে। খাড়াই, জাউয়াবাজার, ইসলামপুর, গণেশপুর ও কালারুকা সহ বেশ কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ খুঁটি স্থাপন, ট্রান্সফরমার পরিবর্তন ও নতুন সংযোগ দেওয়ার নামে মোটা অঙ্কের অবৈধ অর্থ লেনদেনের অভিযোগও এখন মুখে মুখে।
অনিয়মের এই জালে জড়িয়েছে অফিসের লাইন হেল্পার মোছা. আমিরুন নেছার নামও। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ দিন একই কর্মস্থলে থাকার সুবাদে তিনি একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছেন। অফিসে অনুপস্থিত থেকেও ওভারটাইম ভাতা উত্তোলন এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে মিটার সংযোগ বাণিজ্যে তার সক্রিয় সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল আজিম সকল দাবি অস্বীকার করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। ১১ লাখ টাকার প্রজেক্টের বিষয়টি সিলেট অফিস তদারকি করছে, যা আমার এখতিয়ারভুক্ত নয়।” আল-মদিনা রেস্টুরেন্টের সংযোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, সেখানে আগে পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ ছিল কি না তা তাদের জানা ছিল না। তবে অভিযুক্ত লাইন হেল্পার আমিরুন নেছার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ছাতকের সাধারণ গ্রাহকদের দাবি, বিদ্যুৎ বিভাগের এমন লাগামহীন দুর্নীতির কারণে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। তারা অনতিবিলম্বে একটি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটির মাধ্যমে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।



