ইসলাম ধর্ম

জীবনের সকল রুদ্ধ দুয়ার খুলতে ইস্তিগফারের অনন্য মহিমা

ইসলামিক ডেস্ক: মানুষের জীবনে সংকট ও জটিলতা যেন নিত্যদিনের সঙ্গী। কেউ আর্থিক অনটনে জর্জরিত, কারো পরিবারে নেই শান্তির ছিটেফোঁটা, আবার কেউ বছরের পর বছর প্রতীক্ষার পরও নেক সন্তানের মুখ দেখতে পাচ্ছেন না। প্রতিকূল সময়ে মানুষ সাধারণত নতুন নতুন পরিকল্পনা করে কিংবা অন্যের কাছে সাহায্যের হাত পাতে। অথচ ইসলামের ইতিহাসে এমন এক আধ্যাত্মিক সমাধানের কথা বর্ণিত আছে, যা সকল সংকটের এক মহৌষধ হিসেবে কাজ করে।

তাবেয়ী যুগের প্রখ্যাত আলেম ইমাম হাসান বসরী (রহ.)-এর জীবনের একটি ঘটনা এ প্রসঙ্গে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একদিন তাঁর কাছে চারজন ব্যক্তি ভিন্ন ভিন্ন সমস্যা নিয়ে উপস্থিত হলেন। প্রথম ব্যক্তি চাইলেন অনাবৃষ্টি ও খরা থেকে মুক্তি, দ্বিতীয়জন চাইলেন রিযিকের সংকীর্ণতা দূর করতে, তৃতীয়জন তাঁর ফসলি জমির দুরবস্থার প্রতিকার চাইলেন এবং চতুর্থ ব্যক্তি আল্লাহর কাছে একটি সন্তানের জন্য দোয়া প্রার্থনা করলেন।

বিস্ময়কর বিষয় হলো, ইমাম হাসান বসরী (রহ.) প্রত্যেককেই একটিমাত্র আমল করার পরামর্শ দিলেন—আর তা হলো ‘ইস্তিগফার’ বা আল্লাহর কাছে কায়মনোবাক্যে ক্ষমা প্রার্থনা করা। সেখানে উপস্থিত লোকজন কৌতূহলী হয়ে প্রশ্ন তুললেন, “হুজুর, একেকজনের সমস্যা ভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও আপনি কেন সবাইকে একই সমাধান দিলেন?”

উত্তরে হাসান বসরী (রহ.) পবিত্র কুরআনের সূরা নূহ-এর ১০ থেকে ১২ নম্বর আয়াত পাঠ করে শোনালেন। যেখানে হযরত নূহ (আ.) তাঁর জাতিকে বলেছিলেন:
“তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের জন্য আকাশ থেকে প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বাড়িয়ে দেবেন এবং তোমাদের জন্য সৃষ্টি করবেন বাগ-বাগিচা ও নদী-নালা।”

এই আয়াতগুলো আমাদের শিখিয়ে দেয় যে, মানুষের দুঃখ-দুর্দশা ও বৈষয়িক অভাবের পেছনে অনেক সময় নিজেদের কৃত গোনাহ কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ইস্তিগফার কেবল পাপ মোচনের মাধ্যমই নয়, বরং এটি আসমানি বরকতের দুয়ার খুলে দেওয়ার এক অব্যর্থ চাবিকাঠি। এটি মানুষের জীবনে রিযিক বৃদ্ধি করে, দুশ্চিন্তা দূর করে এবং আল্লাহর রহমতকে ত্বরান্বিত করে।

তাই আধুনিক জীবনের কর্মব্যস্ততার মাঝেও ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ বলার অভ্যাস করা প্রতিটি মুমিনের জন্য অপরিহার্য। হয়তো তাৎক্ষণিক পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে না, কিন্তু একনিষ্ঠভাবে এই আমল চালিয়ে গেলে মহান আল্লাহ এমনভাবে জীবনের জটিলতাগুলো দূর করে দেবেন, যা মানুষের কল্পনাতীত। বস্তুত, ইস্তিগফার হলো এমন এক ঐশী শক্তি, যা জীবনের সবচেয়ে কঠিন ও বন্ধ দরজাগুলোকেও অবারিত করে দেয়।

তথ্যসূত্র:

  • সূরা নূহ: ১০–১২।
  • ইমাম হাসান বসরী (রহ.)-এর জীবনকথা ও তাফসিরে কুরতুবি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button