আনোয়ারায় গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু: ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই স্বামী গ্রেফতার
জসিম উদ্দীন: চট্টগ্রামের আনোয়ারায় গৃহবধূ হালিমা আক্তারের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের হওয়া আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলার প্রধান আসামি হাফেজ মোঃ মিজানুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে Rapid Action Battalion-৭, চট্টগ্রাম। আলোচিত এ ঘটনায় মামলা দায়েরের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাকে আটক করা হয়।
জানা যায়, নিহত হালিমা আক্তার চট্টগ্রাম জেলার Anwara Upazila উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাঞ্চন মুন্সিবাড়ির মোহাম্মদ ইসহাকের মেয়ে। ২০২৩ সালের ২৫ অক্টোবর আনোয়ারার বটতলী ইউনিয়নের বরৈয়া গ্রামের হাফেজ মোঃ মিজানুর রহমানের সঙ্গে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে মিশকাতুল জান্নাত নামে দেড় বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ লেগে থাকত এবং এ নিয়ে একাধিকবার সামাজিক বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। হালিমার পরিবারের দাবি, শ্বশুরবাড়ির লোকজন প্রায়ই তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাত। নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় একপর্যায়ে দম্পতি আলাদা ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করলেও পরে শ্বশুরের অসুস্থতার কথা বলে হালিমাকে আবার শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
গত ১০ মে ভোরে হালিমার স্বামী মিজানুর রহমান ফোন করে তার পরিবারকে জানায়, হালিমা আত্মহত্যা করেছেন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান, শয়নকক্ষের টিনের চালের বীমের সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় মরদেহ ঝুলছে, তবে তার পা মাটির সঙ্গে স্পর্শ করা ছিল। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্নও দেখতে পান স্বজনরা।
পরবর্তীতে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য Chittagong Medical College Hospital-এ পাঠায়। ভিকটিমের পরিবারের দাবি, হালিমাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে সাজাতে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে প্রচারিত হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে Anwara Police Station-এ আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলার নম্বর-১৩, তারিখ ১১ মে ২০২৬; ধারা ৩০৬, পেনাল কোড ১৮৬০।
মামলার পর থেকেই আসামিকে গ্রেফতারে মাঠে নামে Rapid Action Battalion-৭। গোয়েন্দা নজরদারির একপর্যায়ে র্যাব জানতে পারে, মামলার প্রধান আসামি চট্টগ্রাম মহানগরের চকবাজার এলাকায় অবস্থান করছে। পরে ১১ মে রাত আনুমানিক ৮টা ৫৫ মিনিটে চকবাজার থানাধীন আধুনিক চক সুপার মার্কেটের সামনে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র্যাব-৭, চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন।



