দেশ

চুয়াডাঙ্গায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত ২ লাখ ২ হাজার গবাদিপশু, দুশ্চিন্তায় খামারিরা

শিমুল রেজা: আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গার খামারিরা এখন কোরবানির পশু লালন-পালন ও বিক্রির প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। জেলার বিভিন্ন গ্রামে ছোট-বড় খামারে গরু, মোটাতাজাকরণে চলছে শেষ মুহূর্তের পরিচর্যা। খামারিরা জানান, কয়েক মাস ধরে অধিক যত্ন ও উন্নত খাবার দিয়ে পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পশুর খাবার, পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসেবার দিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। অনেক খামারিই আশা করছেন, এবারের ঈদে পশুর ভালো দাম পাওয়া যাবে।
চুয়াডাঙ্গা জেলার চারটি উপজেলায় খামারিরা দেশীয় পদ্ধতিতে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পশু মোটাতাজাকরণ করা হচ্ছে। এতে স্থানীয় বাজারে কোরবানির পশুর চাহিদাও বাড়তে পারে

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ বছর জেলায় কোরবানির পশুর সম্ভাব্য চাহিদার তুলনায় প্রায় ৭১ হাজার বেশি পশু প্রস্তুত রয়েছে। তবে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় লাভ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন খামারিরা। বিশেষ করে বড় আকারের গরু পালনকারীরা আশানুরূপ দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। কিছু দিন পরই পবিত্র ঈদুল আজহা। কোরবানির পশু হাটে তোলার প্রস্তুতি ও পরিচর্যায় এখন ব্যস্ত সময় কাটছে জেলার খামারিদের।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর চুয়াডাঙ্গা জেলায় প্রায় ২ লাখ ২ হাজার ২৩৯ টি গবাদিপশু প্রস্তুত হয়েছে। বিপরীতে জেলায় সম্ভাব্য চাহিদা রয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার ১৮১ টি পশুর। সেই হিসেবে চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত প্রায় ৭১ হাজার ৬৬টি বেশি পশু প্রস্তুত রয়েছে।

প্রাণিসম্পদ বিভাগ বলছে, জেলার চাহিদা পূরণ করে অতিরিক্ত পশু ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা সম্ভব হবে। খামারগুলোতে দেশীয় ও স্বাস্থ্যসম্মত পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করা হয়েছে। ক্রেতাদের চাহিদা বিবেচনায় ছোট, মাঝারি ও বড় আকারের বিভিন্ন জাতের গরু প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এসব পশুর দাম এক লাখ টাকা থেকে শুরু করে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে ৪৪ হাজার ৩৯৬টি গরু, ১১৬টি মহিষ, ১ লাখ ৫৫ হাজার ২০০টি ছাগল এবং আড়াই হাজার ভেড়া।

তবে কোরবানির পশু প্রস্তুতের পুরো সময়জুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ ও জ্বালানি সংকটজনিত লোডশেডিংয়ে বাড়তি ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে খামারিদের। অতিরিক্ত গরমে পশুকে সুস্থ রাখতে ফ্যান চালানো, পানি ছিটানো ও বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করতে উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে গেছে কয়েকগুণ।

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার খামারি শাহীন বলেন, প্রতি বছরই আমরা ১৫০ থেকে ২০০টি গরু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করি। সারা দেশ থেকে ক্রেতারা আমাদের খামারে আসেন তাদের পছন্দের গরু কিনতে। গরু দেখতে সুন্দর ও সুস্থ হওয়ায় ভালো দাম পাওয়ার আশা করি। কিন্তু এবার অনেক ক্রেতাই কসাইখানার গরুর মতো দাম বলছেন। আমাদের লালন-পালন ও পরিচর্যার খরচের তুলনায় সেই দাম খুবই কম।

খামারে কর্মরত শামসুল আলম বলেন, এবার তীব্র গরম আর ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে পশুর বাড়তি যত্ন নিতে হয়েছে। সারাক্ষণ ফ্যান চালানো, পানি ছিটানো ও খাবারের দিকে বিশেষ নজর রাখতে হয়েছে। এতে খরচ যেমন বেড়েছে, তেমনি শ্রমও বেশি দিতে হয়েছে।

এদিকে, পশুখাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুতের বাড়তি বিল ও শ্রমিক খরচ বৃদ্ধির কারণে পশু পালন ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন খামারিরা। তাই বাজারে কোরবানির পশুর ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

চুয়াডাঙ্গা অঞ্চলের খামারিরা মূলত শাহীওয়াল ও ফ্রিজিয়ান জাতের গরু লালন-পালন করে থাকেন। এছাড়া জেলার ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগলের চাহিদা রয়েছে দেশজুড়ে। স্থানীয় খামারিরা আশা করছেন, এবারের কোরবানির বাজারে ভালো দাম পেলে তারা আরও বড় পরিসরে খামার সম্প্রসারণে আগ্রহী হবেন।

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ডা. শামীমুজ্জামান বলেন, জেলাজুড়ে ছোট বড় মিলিয়ে আটটি হাটে কোরবানির পশু বিক্রি হচ্ছে। আমাদের টিম প্রত্যেক হাটে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা, তাৎক্ষণিক চিকিৎসা, নিরাপদ কেনাবেচা এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের পরামর্শ দিতেও আমরা প্রস্তুত। এবারের মৌসুমে আমরা এক হাজার কোটি টাকার পশু বাণিজ্য আশা করছি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button