
এম শাহীন আলম: কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার কোদালিয়া এলাকায় অবস্থিত হাজী মনসুর আহমেদ একাডেমি (ইংলিশ ভার্সন) মাদ্রাসায় ষষ্ঠ শ্রেণির রায়হান নামের এক শিক্ষার্থীকে হাত বেঁধে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপাল মোল্লা শাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী শিপ ইয়ার্ডের মালিক ও কোদালিয়া গ্রামের বাসিন্দা ইঞ্জিনিয়ার রশিদের প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসাটিতে সম্প্রতি এক শিক্ষার্থীকে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে শাস্তি দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রায়হান, ষষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। অভিযোগ রয়েছে, সামান্য রংয়ের পুটিং তোলাকে কেন্দ্র করে তাকে ক্লাসরুম থেকে বের করে মাদ্রাসার মাঠে নেওয়া হয়। পরে তার দুই হাত পিছনে বেঁধে বেধড়ক মারধর করেন প্রিন্সিপাল।
মাদ্রাসার একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, প্রিন্সিপাল মোল্লা শাহিদুল ইসলাম দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে আসছেন। নিজেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠ পরিচয় দিয়ে তিনি শিক্ষক-কর্মচারীদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
ঘটনার সময় উপস্থিত কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাননি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযুক্ত প্রিন্সিপালের আচরণে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যেও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এ ঘটনায় এলাকাবাসী ও সচেতন মহল অভিযুক্ত প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের প্রতি মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।



