শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে কুমিল্লার কোদালিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল বরখাস্ত

এম শাহীন আলম: কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার কোদালিয়া এলাকার হাজী মনসুর আহমেদ একাডেমি (ইংলিশ ভার্সন) মাদ্রাসায় ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী রায়হানকে হাত বেঁধে বেধড়ক মারধরের অভিযোগে অভিযুক্ত প্রিন্সিপাল মোল্লা শাহিদুল ইসলামকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশিত হওয়ার পর এলাকাবাসী ও সুশীল সমাজের তীব্র প্রতিবাদ এবং বিক্ষোভের মুখে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়।
গতকালের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী রায়হানকে ক্লাসরুম থেকে বের করে মাদ্রাসার মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার দুই হাত পিছনে বেঁধে প্রিন্সিপাল শাহিদুল ইসলাম তাকে বেধড়ক মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এই অমানবিক ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ ওঠে যে, প্রিন্সিপাল মোল্লা শাহিদুল ইসলাম দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করতেন এবং নিজেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠ পরিচয় দিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখাতেন। তার বিরুদ্ধে নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগও ছিল।
শিক্ষার্থী নির্যাতনের এই ঘটনার প্রতিবাদে এলাকাবাসী এবং অভিভাবকরা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। জনরোষ ও লাগাতার প্রতিবাদের মুখে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি প্রিন্সিপাল মোল্লা শাহিদুল ইসলামকে তার পদ থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই পদক্ষেপের ফলে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং এটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের প্রতি মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই ঘটনার পর জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন বন্ধে আরও কঠোর আইন প্রয়োগ এবং নিয়মিত তদারকির প্রয়োজন। একই সঙ্গে, শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা আনা এবং শিক্ষকদের নৈতিক ও পেশাদারিত্বের মান উন্নয়নে প্রশিক্ষণের গুরুত্বও আলোচনায় এসেছে।



