কুমিল্লা

দুর্নীতির প্রশ্নে নীরব, উল্টো সাংবাদিককে প্রকাশ্যে অপমান কুমিল্লার কৃষি কর্মকর্তার

মোঃ মহিবুল্লাহ্ ভূঁইয়া,কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি: কুমিল্লার বরুড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলামকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর প্রকাশিত পত্রিকার কপি তাঁর হাতে পৌঁছে দিতে গেলে তিনি সাংবাদিককে প্রকাশ্যে অপমান ও হেয় করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে স্থানীয় সার ও কীটনাশক ডিলারদের কাছ থেকে মাসিক ভিত্তিতে অর্থ আদায়ের গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। সম্প্রতি ধারণ করা একটি ভিডিও তথ্যচিত্রে পুরো ঘটনাটি স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।

যেভাবে ঘটল ঘটনা,দৈনিক আশ্রয় প্রতিদিন পত্রিকার কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি মো. মহিবুল্লাহ বাবুল ভূঁইয়া বরুড়া উপজেলা কৃষি অফিসে গিয়ে কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাতের সময় তিনি পত্রিকার একটি কপি কর্মকর্তার হাতে তুলে দিয়ে বলেন, “স্যার, আপনাদের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছি, এই দেখুন।”

এতে কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম ব্যঙ্গাত্মক ও অবজ্ঞাপূর্ণ সুরে বলেন, “আশ্রয় প্রতিদিন? আর পাননি?” সাংবাদিক বিনয়ের সঙ্গে জবাব দেন, “না স্যার, আর পাইনি।” এরপর কর্মকর্তা পুনরায় উপহাসের ভঙ্গিতে বলেন, “আশ্রয় প্রতিদিন? এটার তো নিবন্ধনও নেই, আরও অনেক কিছু নেই।”

কর্মকর্তার এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্যে সাংবাদিকতার নীতি ও পেশাগত মর্যাদা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।

ডিলারদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ,ভিডিও তথ্যচিত্রে আরও দেখা যায়, সাংবাদিক কর্মকর্তাকে সরাসরি প্রশ্ন করেন “আপনি স্থানীয় ডিলারদের কাছ থেকে প্রতি মাসে টাকা আদায় করেন এই অভিযোগ সম্পর্কে আপনি কী বলবেন?”

প্রশ্ন শুনে কর্মকর্তা কোনো উত্তর না দিয়ে চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ান এবং মুখ ঘুরিয়ে নেন। এতে সাংবাদিক বলেন, “স্যার, হ্যাঁ বা না, যেকোনো একটি উত্তর দিতে হবে। বসুন অথবা চলে যান, আপনি তো কিছুই বলছেন না।” তবে কর্মকর্তা এরপরও কোনো সদুত্তর দেননি।

কর্মকর্তার কার্যকাল,সাংবাদিকের জিজ্ঞাসায় কর্মকর্তা নিজেই জানান, তিনি ২০২৩ সাল থেকে বরুড়া উপজেলা কৃষি অফিসে কর্মরত আছেন। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলা কৃষি অফিসারের কার্যালয় ও কৃষি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বরুড়া, কুমিল্লা-তে।

সাংবাদিক মহলে তীব্র নিন্দা,এই ঘটনায় স্থানীয় ও জাতীয় সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। সরকারি কার্যালয়ে পেশাদার সাংবাদিককে প্রকাশ্যে অপমান করার ঘটনাকে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও মর্যাদার প্রতি সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। সংশ্লিষ্ট মহল থেকে দাবি জানানো হয়েছে, ডিলারদের কাছ থেকে মাসিক অর্থ আদায়ের অভিযোগে অবিলম্বে তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে, সাংবাদিককে অপমানের ঘটনায় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে,কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে দ্রুত বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button