যশোরের কৃষকদের সাথে সরাসরি যুক্ত হচ্ছে ‘কতকিছুর হাট’

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা দেশের কাঁচাবাজারের অস্থিরতা কমাতে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে উদীয়মান এগ্রি-টেক স্টার্টআপ ‘কতকিছুর হাট’ (Kotokichur Hut)। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল দেশের বৃহত্তম সবজি উৎপাদনকারী অঞ্চল যশোরের বিভিন্ন মোকাম ও কৃষকদের উৎপাদনস্থল পরিদর্শন করে সরাসরি পণ্য সংগ্রহের একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে।
সরাসরি সংযোগের নতুন লক্ষ্য: সাধারণত মাঠ পর্যায় থেকে ভোক্তা পর্যন্ত পৌঁছাতে একটি পণ্যকে অন্তত ৪-৫টি হাত বদল হতে হয়, যার ফলে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন এবং ভোক্তারা চড়া দামে পণ্য কেনেন। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে ‘কতকিছুর হাট’ সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে পণ্য সোর্সিং করার উদ্যোগ নিয়েছে।
যশোর সফরের প্রাপ্তি: সফরকালে প্রতিনিধি দলটি যশোরের বিখ্যাত সাতমাইল (বারীনগর হাট), চূড়ামনকাঠি, চৌগাছা, খাজুর তলা এবং ভাটার হাটের স্থানীয় কৃষক ও আড়তদারদের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বিশেষ করে পটলের বড় মোকাম হিসেবে পরিচিত সাতমাইল থেকে সরাসরি সরবরাহের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে কোনো তৃতীয় পক্ষ ছাড়াই মাঠের সতেজ সবজি সরাসরি ঢাকার ভোক্তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
কতকিছুর হাট-এর পরিকল্পনা: যশোর সফর শেষে ঢাকায় ফিরে আসা প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি দল জানিয়েছে, তারা একটি শক্তিশালী সাপ্লাই-চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলছে। এতে একদিকে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসলের সঠিক মূল্য পাবেন এবং অন্যদিকে ভোক্তারা বাজারের সিন্ডিকেট থেকে মুক্তি পেয়ে সাশ্রয়ী মূল্যে রাসায়নিকমুক্ত ও সতেজ সবজি পাবেন।
ভবিষ্যৎ প্রভাব: কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ‘কতকিছুর হাট’-এর মতো তরুণ উদ্যোক্তাদের এই সরাসরি সোর্সিং মডেল যদি দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তবে জাতীয় পর্যায়ে সবজির বাজারের সিন্ডিকেট ভাঙা সম্ভব হবে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি এটি দেশের কৃষি অর্থনীতিতে এক নতুন প্রাণসঞ্চার করবে।
সফল এই সফর শেষে ‘কতকিছুর হাট’ এখন তাদের নিয়মিত সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করতে পুরোপুরি প্রস্তুত।



