মুহাম্মদ জুবাইর:
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের নবগঠিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিকে স্বাগত ও অভিনন্দন জানিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর ও পাঁচলাইশ থানা যুবদলের উদ্যোগে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে নগরীর মুরাদপুর ফরেস্ট গেট এলাকা থেকে শুরু হওয়া এ মিছিল নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। মিছিলে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে পুরো এলাকা স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে এবং নতুন কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতি সমর্থন ও শুভকামনার বহিঃপ্রকাশ ঘটে।
মিছিল চলাকালে নেতাকর্মীরা যুবদলের নবনির্বাচিত নেতৃত্বকে অভিনন্দন জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। সংগঠনের ভবিষ্যৎ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা। দলীয় পতাকা, ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে মিছিলটি একটি উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি করে। নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সাধারণ মানুষের মধ্যেও এ কর্মসূচি নিয়ে আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়।
পরে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল দীর্ঘদিন ধরে দেশের গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, মানবাধিকার এবং জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। নতুন কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃত্বে সংগঠন আরও সুসংহত, শক্তিশালী এবং কর্মমুখী সংগঠনে পরিণত হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বক্তারা নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না, সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নয়নসহ কমিটির সকল সদস্যকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে পাঁচলাইশ থানা যুবদলের আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলী সাকী বলেন, “যুবদলের সভাপতি হিসেবে আব্দুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নূরুল ইসলাম নয়নকে নিয়ে ঘোষিত ১৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি সংগঠনের জন্য অত্যন্ত সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। আমরা বিশ্বাস করি, এই নেতৃত্বের মাধ্যমে যুবদল নতুন উদ্যমে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে এবং দেশের প্রতিটি অঞ্চলে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাবে।”
তিনি বলেন, “তরুণ সমাজের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হিসেবে যুবদল সবসময় জনগণের পাশে থেকেছে। নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় যুবসমাজকে আরও সুসংগঠিত করবে এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। আমরা এই কমিটি ঘোষণার জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানাই।”
তিনি আরও বলেন, “যুবদলের প্রতিটি ইউনিটকে সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী করতে হবে। তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততা বাড়িয়ে জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। আগামী দিনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যুবদলকে প্রস্তুত রাখতে নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।”
বক্তারা বলেন, নতুন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের জন্য ত্যাগ, সংগ্রাম ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন। তাদের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও সাংগঠনিক সক্ষমতা যুবদলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশের তরুণ সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে জাতীয়তাবাদী আদর্শের ভিত্তিতে শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব হবে।
সমাবেশে আরও বলা হয়, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যুবসমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যুবদল অতীতের মতো ভবিষ্যতেও সাহসী ভূমিকা পালন করবে। সংগঠনের প্রতিটি নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ থেকে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড জোরদার করার আহ্বান জানান বক্তারা।
আনন্দ মিছিল ও সমাবেশে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ বলেন, যুবদল শুধু একটি রাজনৈতিক সংগঠন নয়, বরং তরুণ প্রজন্মের অধিকার ও প্রত্যাশার একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম। নতুন কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃত্বে সংগঠন আরও জনমুখী কার্যক্রম পরিচালনা করবে এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের তরুণদের সম্পৃক্ত করে সাংগঠনিক ভিত্তি সম্প্রসারণ করবে।
তারা আরও বলেন, দেশের যেকোনো গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যুবদলের নেতাকর্মীরা সামনের সারিতে থেকে ভূমিকা পালন করেছে। গণমানুষের দাবি আদায় এবং জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণের প্রশ্নে যুবদল কখনও আপস করেনি। নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃত্বে সেই ধারাবাহিকতা আরও শক্তিশালী হবে বলে তারা প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
আনন্দ মিছিল ও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি মোহাম্মদ মুছা, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল হাসান লেবু, এরশাদ হোসেন, সেলিম উদ্দিন রাসেল, রাজন খান, ওমর ফারুক, সাবেক ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মহিউদ্দিন মুকুল, সাবেক সহ-সাহিত্যবিষয়ক সম্পাদক হামিদুল হক চৌধুরী, সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হাফেজ কামাল উদ্দিন, দক্ষিণ জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর হোসেন, চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সদস্য শাহাবাব ইয়াজদানী, মহেশখালী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, পাঁচলাইশ থানা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিম উদ্দিন সেলিম, মো. আইয়ুব, রিদওয়ান হোসেন জনি, সাহিদুল ইসলাম মাসুম, শহিদুল ইসলাম কুট্টি, মিল্লাত হোসেন, হোমায়ুন আহমদ, ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক জাবেদ হোসেন, পাঁচলাইশ থানা যুবদলের সদস্য গিয়াস উদ্দিন, মোহাম্মদ মোরশেদ, মোহাম্মদ নাছির, আমজাদ হোসেন, হাসান তোফা, মঈনউদ্দিন মামুন, মো. ইউনুস, ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সদস্যসচিব সোলাইমান হোসেন মনা, ৪২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সদস্যসচিব মাসুদ আলম, যুবদল নেতা তোফাজ্জল হোসেন, মোহাম্মদ ফিরোজ, খোকন মুল্লা, মোহাম্মদ সুমন, সালেহ আহাম্মদ খোকন, সত্যজিৎ বড়ুয়ার রুপু, সানি আহাম্মদ, মো. ইব্রাহিম খলিল, মোকাদ্দের, জীবন মিয়া, আলম মাঝি, মো. সাজু, মোহাম্মদ মামুন, মো. রুবেল, সেলিম, ফোরকান, জুয়েলসহ মহানগর ও পাঁচলাইশ থানা যুবদলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।
সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির সফলতা কামনা করেন এবং সংগঠনের আদর্শ ও লক্ষ্য বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তারা বলেন, তৃণমূলের নেতাকর্মীদের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে যুবদলকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর সংগঠনে পরিণত করা হবে। নতুন কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃত্বে যুবদল আগামী দিনে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।



