অনুসন্ধানকুমিল্লারাজনীতি

কুমিল্লায় পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে আওয়ামী দোসর আবুল খায়েরের অদৃশ্য পৃষ্ঠপোষকতায় ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল

এম শাহীন আলম: সাংবাদিক তকমা লাগিয়ে পুলিশ সহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখকে ফাঁকি গত ৭ জুন ২০২৬ (রবিবার) দুপুরের দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এলাকায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এই মিছিল থেকে ৪৫ জন নেতাকর্মী সমর্থককে আটক করেছে পুলিশ। এছাড়াও এই ঘটনায় ৩টি হাইয়েস মাইক্রোবাস ও ২টি মিনিবাস) জব্দ করা হয়েছে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, জেলার মুরাদনগর,দেবীদ্বার, চান্দিনা উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় থেকে গোপনে জড়ো করে এই ঝটিকা মিছিলে উঠতি বয়সের তরুণ যুবকদের ম্যানেজ করে বাসে আনা ও মাক্রোবাস,মিনিবাস ভাড়া করা সহ সার্বিক সহযোগিতায় অন্যতম মাস্টার মাইন্ড সাংবাদিক নামধারী চিহ্নিত আওয়ামী দোসর আবুল খায়ের।

তথ্য অনুযায়ী এই ঝটিকা মিছিলে আটক হওয়া অনেকের বাড়ি উপরে উল্লেখিত উপজেলা গুলোর বিভিন্ন ইউনিয়নে বলে জানা যায়। গোপন সূত্রে জানা যায়, এই আওয়ামী দোসর দালালদের অন্যতম আবুল খায়ের দৈনিক যুগান্তর পত্রিকা ও স্যাটেলাইট টেলিভিশন আরটিভি’র সাংবাদিক পরিচয়ে পুলিশ সহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখকে ফাঁকি দিয়ে গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে মুরাদনগরের আওয়ামীলীগের সাবেক এমপি ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন, দেবীদ্বার এর সাবেক এমপি রাজী মোহাম্মদ ফখরুল সহ কুমিল্লার সাবেক এমপিদের সাথে অন্যের নামে রেজিষ্ট্রেশনকৃত মোবাইল সিম ব্যবহার করে ম্যাসেঞ্জার,ইমু,হোয়াটসঅ্যাপ,টেলিগ্রাম এবং ইন্স্ট্রাগ্রামের মতো অ্যাপস গুলো ব্যবহারের মাধ্যমে সার্বিক যোগাযোগ রক্ষা করে আসছেন আবুল খায়ের। সাবেক এমপিদের পরামর্শে সাংবাদিক নামধারী আওয়ামী দালাল আবুল খায়ের সাংবাদিকতার আড়ালে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন বলে গোপন সূত্রে জানা যায়।

আওয়ামী রাজনৈতিক গোপন সূত্রে মতে জানা যায়, আওয়ামীলীগের নের্তৃত্ব থাকা স্থানীয় নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে থাকার কারণে কেউ প্রকাশ্যে না এসে এই দালাল চাটুকার সাংবাদিক নামধারী আবুল খায়েরকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক বিভিন্ন কর্মকান্ড চক একেঁ গুপ্ত মিছিল করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। গোপন সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী নের্তৃত্বস্থায়ী নেতাদের ধারণা যেহেতু নেতারা প্রকাশ্যে আসতে পারছে না। তাই আবুল খায়ের সাংবাদিক নামধারী হলেও সে তো আওয়ামী লীগেরই লোক। নেতাদের ধারণা আবুল খায়ের যেহেতু সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত তাই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সহ কেউ তাকে রাজনৈতিক কর্মকান্ডের জন্য সন্দেহ এর চোখে দেখবে না। আর এই সাংবাদিকতার তকমাকে কাজে লাগিয়ে আবুল খায়ের অদৃশ্য যোগসাজশে রাজনৈতিক সার্বিক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন বলে আওয়ামী রাজনৈতিক নেতাকর্মী সমর্থকদের সূত্র মতে জানা যায়।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো গত ৭ জুন – ২০২৬ (রবিবার) কুমিল্লা সদর দক্ষিণ এলাকায় যে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয়। বাসে করে সেই মিছিলে আসা ছাত্রলীগের নেতাকর্মী সমর্থকদের নিয়ে আটককৃত দুইটি মিনি বাসকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য সর্ব প্রথম সাংবাদিক পরিচয়ে সদর দক্ষিণ মডেল থানা একজন এসআইকে মুঠো ফোনে কল দিয়ে তদবির করেন আওয়ামী দালাল আবুল খায়ের। আবুল খায়ের দাবী করেন দুটি মিনিবাস তার কাছের আত্মীয়ের। গত মে মাসে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার সাবেক ওসি সিরাজুল মোস্তফার বিরুদ্ধে অনিয়ম আর ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ এনে নিউজ করেন এই আবুল খায়ের। এই নিউজের প্রতিক্রিয়ায় সিরাজুল মোস্তফা মুঠোফোনে জানান, সাংবাদিক নামধারী আবুল খায়ের বিভিন্ন মাধ্যমে তার নিকট মাসে বিশ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। মাসিক ২০ হাজার টাকা না দিলে ওসি সিরাজুল মোস্তফার বিরুদ্ধে নিউজ করবেন বলেও হুমকি দেন। সাবেক ওসি সিরাজুল মোস্তফা জানান, আবুল খায়ের আমার নিকট মাসিক ২০ হাজার টাকা চাওয়া এবং টাকা না দিলে নিউজ করার হুমকির বিষয়টি নিউজ করার আগেই আমি আমার ঊর্ধতন কর্মকর্তাদের অবগত করে রেখেছি। এই নিউজে তার কোন সমস্যা হবে না বলে তিনি জানান।

আবুল খায়ের মিডিয়াতে এক কানা কড়ি বেতন ছাড়াই সাংবাদিক তকমা লাগিয়ে আওয়ামীলীগ এমপিদের ছত্র-ছায়ায় বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে ঢাকা কুমিল্লায় বহুতল ভবন,বিলাসবহুল একাধিক ফ্ল্যাট,প্লট সহ বহু অবৈধ সম্পদের মালিক বনে গেছেন। ২০২৪ সালে আওয়ামীলীগের পতনের পর এই সাংবাদিক নামধারী আবুল খায়ের কিছু দিন আত্মাগোপন থেকে বের হয়ে নিজের অবৈধ উপার্জনের সম্পদ গুলাকে বৈধতা সহ নিজের পিঠ বাঁচাতে দেবীদ্বারের ভিংলা বাড়িতে বেশ কয়েকটি কোম্পানির কমিশন ডিলারশীপ/এজেন্ট এনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হিসেবে জাহির করছেন। তার এই অনিয়মের মাধ্যমে অবৈধ উপার্জনে উপার্জিত সম্পদ নিয়ে দুদকের অভিযোগ হলেও থানার ওসির নিকট মাসিক চাঁদা দাবি করা চাঁদাবাজ আবুল খায়ের বিপুল পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে দুদকের কিছু অসৎ কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান না করার চেষ্টা অব্যাহত রাখলেও শেষ পর্যন্ত তার শেষ রক্ষা হবে বলে মনে হয় না।

এই চাঁদাবাজ আবুল খায়ের নিজেকে সাংবাদিক এবং বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী দাবি করে কুমিল্লার স্থানীয় পুলিশ সহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের চোখে ফাঁকি দিয়ে দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া সাবেক এমপিদের সাথে গোপনে যোগসাজশ করে অদৃশ্য ভাবে সরকার নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা করে যাচ্ছেন বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, জব্দ কৃত মিনিবাস গুলোর মালিকের নাম পরিচয় এখনো জানা যায়নি। যেহেতু আবুল খায়ের এই মিনিবাস গুলো ছাড়ার তদবির করেছেন তাতে করে সন্দেহের তীর তার দিকে। অনেকেই মনে করছেন এই মিনিবাস গুলোর মালিক সাংবাদিক নামধারী আওয়ামী দালাল আবুল খায়েরই হতে পারে।

সাংবাদিক তকমা লাগিয়ে আওয়ামী দোসর আবুল খায়ের কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ওসির নিকট মাসিক বিশ হাজার টাকা চাঁদা দাবি ও টাকা না দিলে নিউজ করার হুমকি সহ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলে জব্দ কৃত মিনিবাস ছাড়ানোর জন্য একেই থানার এক এসআইকে মোবাইল ফোনে কল দিয়ে তদবির। সাংবাদিক পরিচয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখে ফাঁকি দিয়ে অদৃশ্য যোগসাজশে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠন আওয়ামীলীগের কর্মকান্ড চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে এই আওয়ামী দোসর সাংবাদিক নামধারী আবুল খায়েরকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ সহ তার বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে তাকে শাস্তির আওতায় আনা বলে মনে করছে সচেতন মহল।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button