
হাবিব সরকার স্বাধীন: শেখ হাসিনা সরকারের পতন হলেও ঢাকা জেলা প্রশাসনের অধীনস্থ উত্তরা ভূমি অফিসে এখনো বহাল তবিয়তে চলছে এক কর্মকর্তার ‘ডিজিটাল কায়দার জুলুম’। খিলক্ষেতের দাপট দেখিয়ে ও দালাল সিন্ডিকেট গড়ে তুলে সাধারণ জমির মালিকদের জিম্মি করার অভিযোগ উঠেছে উত্তরা ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মাকসুদুর আলমের বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মাকসুদুর আলমের জন্ম ২ জানুয়ারি ১৯৮৭। ৩০ মে ২০১২ সালে সরকারি চাকরিতে যোগদানের পর ২০২১ সালের ৩ জানুয়ারি থেকে তিনি উত্তরা ভূমি অফিসে কর্মরত। বিগত ৪ বছর ১০ মাস ধরে একই আসনে বসে আছেন তিনি। তার পিআরএল যাওয়ার তারিখ ০১/০১/২০৪৭।
একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন থাকার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকা জেলা প্রশাসনের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
ভুক্তভোগীদের দাবি, ডুমনি-খিলক্ষেত এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় বিগত সরকারের আমলে মাকসুদুর আলমের প্রভাব ছিল আকাশচুম্বী। খিলক্ষেত থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতির ‘বিশ্বস্ত ও দখলদারিত্বের অংশীদার’ হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন তিনি।
সরকার পতনের পরও তার দাপট কমেনি। অভিযোগ আছে, প্রতিবাদ করলে তিনি বলেন, “আমি খিলক্ষেতের সন্তান, আমার জেলা ঢাকা; আমাকে কেউ কিছু করতে পারবে না।”
উত্তরা ভূমি অফিসে সাধারণ সেবাগ্রহীতার প্রবেশ কঠিন, কিন্তু দালালের অবাধ বিচরণ রয়েছে বলে অভিযোগ। রাজউকের কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে ‘অন্তরঙ্গ সম্পর্ক’ গড়ে তুলে তিনি বৈধ ফাইলে ত্রুটি খুঁজে ফাইল আটকে রাখেন এবং মোটা অঙ্কের ঘুষ দাবি করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
টাকা না দিলে মাসের পর মাস ফাইল বন্দি থাকে। বর্তমানে সরাসরি লেনদেনের চেয়ে দাল ও ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে অবৈধ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সেবাগ্রহীতা আব্দুল কুদ্দুস জানান, ফাইলের খোঁজে ফোন দিলে মাকসুদুর আলম জানান তিনি ‘তদন্তের কাজে বাইরে’। অথচ ফেরার পথে দেখা যায় তিনি দোকানে বসে কফি খাচ্ছেন। তদন্তের অজুহাতে অফিস ফাঁকি, কাগজে ভুল ধরা ও ফোন না ধরা তার নিত্যদিনের অভ্যাস বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
অভিযোগের বিষয়ে মাকসুদুর আলমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। ফলে তার আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ হয়নি।
এ বিষয়ে উত্তরা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার ভূমি বলেন, “ভূমি অফিস দালমুক্ত করতে কাজ চলছে। মাকসুদুর আলমের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে বিধি অনুযায়ী কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে।”
ঢাকা জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ পেলে তদন্ত কমিটি গঠন করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এত অভিযোগ থাকার পরও মাকসুদুর আলম কেন একই গুরুত্বপূর্ণ ডেস্কে বহাল আছেন – তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনের ভেতর-বাইরে। দৃশ্যমান বিভাগীয় তদন্ত না হওয়ায় ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগগুলো তদন্ত সাপেক্ষ। মাকসুদুর আলমের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি তিনি কল রিসিভ করেনি ।
পর্ব-২ আসছে মাকসুদুর আলমের এই ‘দুর্নীতির দুর্গের’ পেছনে আর কারা জড়িত, দালাল সিন্ডিকেটের নেটওয়ার্ক ও আর্থিক লেনদেনের নথি নিয়ে আসছে পরবর্তী পর্ব।



