অপরাধএক্সক্লুসিভদুর্নীতিবরিশাল

বরিশাল এলজিইডির অঘোষিত নিয়ন্ত্রক প্রকৌশলী রহমত ই খুদা: সিন্ডিকেট ও ক্ষমতার দাপটে অতিষ্ঠ প্রশাসন

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বরিশাল বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমে একচ্ছত্র আধিপত্য ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রহমত-ই-খুদার বিরুদ্ধে। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে একই অঞ্চলে কর্মরত এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের পরিচয় ব্যবহার করে বদলি-তদবির বাণিজ্য এবং ঠিকাদারি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের গুরুতর তথ্য সামনে এসেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মো. রহমত-ই-খুদা বর্তমানে বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত। যশোর জেলার বাসিন্দা হলেও চাকরির সুবাদে তিনি বরিশালে স্থায়ী আবাস গড়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি প্রভাবশালী নেতা আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর ঘনিষ্ঠ বলয়ে ঢুকে পড়েন। নিজেকে রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতে তিনি ‘বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদ’-এ যুক্ত হন। ২০২৩ সালের নভেম্বরে অনুমোদিত সংগঠনটির ১০১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটিতে ৫৭ নম্বর সদস্য হিসেবে তাঁর নাম রয়েছে। এই পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেই তিনি এলজিইডির বরিশাল অঞ্চলের বদলি, পদায়ন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করে আসছেন বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন।

স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগ রয়েছে যে, রহমত-ই-খুদা সরকারি বিধিমালা উপেক্ষা করে আওয়ামীপন্থী প্রভাবশালী কিছু ঠিকাদারের সঙ্গে গোপন ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। বরিশাল ও আশপাশের জেলার বড় বড় প্রকল্পের কার্যাদেশ পাইয়ে দিতে তিনি মধ্যস্থতা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এম মাহফুজ খান, কোহিনূর এন্টারপ্রাইজ, ভোলার পিটার এবং পটুয়াখালীর মহিউদ্দিনের মতো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব রয়েছে। তবে এই অংশীদারিত্বের বিষয়টি দাপ্তরিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

প্রশাসনিক শৃঙ্খলার ক্ষেত্রেও রহমত-ই-খুদার বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, বরিশাল অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর পদ শূন্য হলে তিনি নিজের চেয়ে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের উপেক্ষা করে প্রভাব খাটিয়ে একাধিকবার ওই দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া, কোনো কর্মকর্তার বদলির আদেশ জারি হলে তিনি প্রধান কার্যালয়ের প্রশাসন শাখায় চাপ সৃষ্টি করে তা বাতিল বা পরিবর্তনের চেষ্টা করেন। এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ের একটি সূত্রও তাঁর এমন অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপের বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তিন বছর পর পর বদলির বিধান থাকলেও তাঁর প্রভাবে অনেক কর্মকর্তা ৫-৬ বছর ধরে একই কর্মস্থলে বহাল রয়েছেন।

৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে সংস্কার হলেও রহমত-ই-খুদার মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দৌরাত্ম্য কমেনি বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলের মতে, এলজিইডির মতো জনগুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ফেরাতে এই ধরণের ‘রাজনৈতিক ছদ্মনামধারী’ কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখা এবং উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি।

এসব অভিযোগের বিষয়ে মো. রহমত-ই-খুদার ব্যক্তিগত মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তাঁর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button