শরিয়তসম্মত উপায়ে গোসলের সঠিক নিয়ম ও বিধান

ধর্ম ডেস্ক: ইসলামি জীবনদর্শনে আত্মিক ও শারীরিক পবিত্রতা অর্জনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো গোসল। কেবল শরীর ভেজানোই গোসল নয়, বরং নির্দিষ্ট নিয়ম ও পদ্ধতিতে গোসল করা ইবাদত কবুল হওয়ার অন্যতম পূর্বশর্ত। শরিয়তের আলোকে গোসল কখন আবশ্যক হয় এবং এর সঠিক পদ্ধতি কী, তা নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
প্রধানত চারটি কারণে একজন মুসলিমের ওপর গোসল করা ফরজ হয়ে যায়। এগুলো হলো— ১. স্বপ্নদোষ বা জাগ্রত অবস্থায় বীর্যপাত হলে, ২. স্ত্রী সহবাসের পর (বীর্যপাত হোক বা না হোক), ৩. মহিলাদের মাসিক বা ঋতুস্রাব (হায়েজ) বন্ধ হওয়ার পর এবং ৪. সন্তান প্রসব পরবর্তী রক্তস্রাব (নিফাস) বন্ধ হওয়ার পর।
গোসলের ক্ষেত্রে দুটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা পালন না করলে পবিত্রতা অর্জিত হবে না:
১. মনে মনে পবিত্রতা অর্জনের নিয়ত করা।
২. সমস্ত শরীরে পানি পৌঁছানো (কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া এর অন্তর্ভুক্ত)।
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করে গোসল করলে তা অধিক সওয়াবের কারণ হয়। এর ধাপগুলো নিম্নরূপ:
- শুরু: প্রথমে ‘বিসমিল্লাহ’ বলে দুই হাত কবজি পর্যন্ত তিনবার ধুয়ে নিতে হবে। এরপর শরীরের কোথাও নাপাকি লেগে থাকলে তা পানি দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।
- অজু: এরপর নামাজের মতো করে পূর্ণাঙ্গ অজু করতে হবে। তবে কাদা বা পানি জমে থাকার সম্ভাবনা থাকলে পা ধোয়া বাকি রেখে গোসলের শেষে ধুতে হবে।
- পানি ঢালা: অজু শেষ হলে প্রথমে ডান কাঁধের ওপর দিয়ে নিচ পর্যন্ত তিনবার পানি ঢালতে হবে। এরপর একইভাবে বাম কাঁধে তিনবার এবং সবশেষে মাথায় তিনবার পানি ঢালতে হবে।
- শরীর ঘষা: পানি ঢালার সময় হাত দিয়ে শরীরের সামনের ও পেছনের অংশ ভালোভাবে ঘষে দিতে হবে যাতে কোনো অংশ শুকনো না থাকে। নাভি বা শরীরের অন্যান্য ভাঁজযুক্ত স্থানে পানি পৌঁছাল কি না, তা নিশ্চিত হতে হবে।
- চুল ও দাড়ি: আঙুল দিয়ে চুল ও দাড়ির গোড়ায় পানি পৌঁছাতে হবে। মহিলাদের ক্ষেত্রে যদি বিনুনি বাধা অবস্থায় গোড়ায় পানি পৌঁছানো সম্ভব না হয়, তবে বিনুনি খুলে নিতে হবে।
- শেষ: গোসল শেষ হলে দুই পা ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। এভাবে গোসল করলে আলাদা করে পুনরায় অজুর প্রয়োজন হয় না।
ফরজ ছাড়াও কিছু ক্ষেত্রে গোসল করা সুন্নত। যেমন— জুমার দিন, দুই ঈদের দিন, হজের ইহরাম বাঁধার সময়, আরাফাত বা মুজদালিফায় অবস্থানের আগে এবং মক্কায় প্রবেশের সময়। এছাড়া অমুসলিম ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করলে, পাগলের জ্ঞান ফিরে আসলে বা মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেওয়ার পর গোসলদাতার জন্য গোসল করা মোস্তাহাব বা উত্তম।
পবিত্রতা ঈমানের অঙ্গ। তাই প্রতিটি মুমিনের উচিত গোসলের সঠিক মাসায়েল জেনে নিয়ে তা দৈনন্দিন জীবনে যথাযথভাবে পালন করা।



