আইন ও বিচার

স্ত্রী ইকরার আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলায় রিমান্ড শেষে কারাগারে অভিনেতা আলভী

অনলাইন ডেস্ক: ঢাকার মিরপুরের বাসা থেকে স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় ছোট পর্দার অভিনেতা মো. নিয়ামত উল্লাহ ভূইয়া ওরফে জাহের আলভীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার ( ৩০ জুন) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালত এই আদেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী আবজাল হোসাইন মৃধা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আজ আলভীর পক্ষে কোনো জামিন আবেদন না থাকায় দুই দিনের রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আমরা আদালতে বলেছি এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের জন্য আলভীর সঙ্গে আর যারা জড়িত তাদেরকে তদন্ত প্রতিবেদনে যুক্ত করা হোক।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, ডিবি পুলিশের মিরপুর জোনাল টিমের পরিদর্শক আব্দুল মালেক তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, গত ২৮ জুন স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে আসামিকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে বিভিন্নভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে মামলার তদন্তে সহায়ক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার তথ্যও মিলেছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন বলেও জানানো হয়।

এর আগে গত বুধবার (২৪ জুন) এ মামলায় তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

গত ১৮ জুন আদালতে আত্মসমর্পণ করে আইনজীবীদের মাধ্যমে জামিন আবেদন করেন আলভী। শুনানি শেষে আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে দশ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে ডিবি পুলিশ। অন্যদিকে, গত ৪ জুন আরেক আসামি আলভীর মা নাসরিন সুলতানা শিউলি আত্মসমর্পণ করে জামিন পান।

গত ১ মার্চ বেলা পৌনে ১২টার দিকে বাসার সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় অভিনেতা আলভীর স্ত্রী ইকরাকে উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যরা। পরে বাসার মালিকসহ স্বজনরা মিলে তাকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরে পুলিশ খবর পেয়ে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট করাসহ বাসা থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।

এদিকে ইকরার আত্মহত্যার ঘটনায় শনিবার রাতেই মামলা করেন তার মামা শেখ তানভীর আহমেদ। মামলার অপর আসামি হলেন- আলভীর মা নাসরিন সুলতানা শিউলি। দীর্ঘদিনের ‘পারিবারিক কলহ ও বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের কারণেই’ তার ভাগনি ইকরা আত্মহত্যা করতে ‘বাধ্য হয়েছেন’ বলে মামলায় অভিযোগ করেন তিনি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button