অনুসন্ধানশিক্ষা

১২ টাকার স্কুলে ৭৫০ টাকা ফি ক্ষুব্ধ অভিভাবক

মো: মোক্তার হোসাইন (সোনারগাঁ) নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া হরিদাস গৌর গোবিন্দ শ্যামসুন্দর স্মৃতি সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি বিদ্যালয়ে স্বল্প ব্যয়ে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

অভিভাবকদের দাবি, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতন মাত্র ১২ টাকা হলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রতি তিন মাস অন্তর ৭৫০ টাকা করে বিভিন্ন খাতে আদায় করছে। এছাড়া বছরজুড়ে টিফিন, কম্পিউটার ল্যাব, ম্যাগাজিন, উন্নয়ন ফিসহ নানা অজুহাতে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বড় ধরনের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করেন, খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগের নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ১০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। অথচ সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ ও তাদের বেতন পরিশোধের দায়িত্ব সরকারের। ফলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এভাবে অর্থ সংগ্রহের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগেও স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়নি। কোনো উন্মুক্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া বা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ না দিয়ে সরকারি শিক্ষকদের স্ত্রী, মেয়ে, ছেলের বউসহ নিকট আত্মীয়দের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন কয়েকজন অভিভাবক। এ ঘটনায় স্বজনপ্রীতির অভিযোগও সামনে এসেছে।

এছাড়া টিফিন বাবদ প্রতি মাসে ১০০ টাকা আদায় করা হলেও প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের টিফিন দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে কম্পিউটার ল্যাব ফি হিসেবে ১৫০ টাকা নেওয়া হলেও নিয়মিত কম্পিউটার ক্লাস অনুষ্ঠিত হয় না বলেও জানিয়েছেন অভিভাবকরা। তাদের অভিযোগ, বাস্তব সেবা না দিয়েই বিভিন্ন খাতে অর্থ আদায় করা হচ্ছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার না করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ আলম বলেন, “বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট রয়েছে। পাঠদান সচল রাখতে কয়েকজন খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের সম্মানী পরিশোধের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে খণ্ডকালীন শিক্ষকদের বেতন বাবদ অর্থ আদায়ের বৈধতা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন অভিভাবকরা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button