অপরাধদুর্নীতি

রূপগঞ্জের এমপি মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু কি ইউএনও সাইফুল ইসলামের অনিয়মের দায় নেবেন?

বিশেষ প্রতিবেদক: গত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট শাসনামলে তৎকালীন গুরুতর মুজিব প্রেমী সাইফুল ইসলাম ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বোল পাল্টে নিজেকে জিয়া প্রেমী বিএনপির মতাদর্শী ও সাবেক ছাত্রদল নেতা জাহির করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে খোদ নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জয়ের বিরুদ্ধে। জনমনে প্রশ্ন একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়ে তিনি কিভাবে নিজেকে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের মতাদর্শী হিসেবে জাহির করে। তার সাম্প্রতিক বক্তব্য সহ সার্বিক কর্মকান্ডে বিসিএস সনদ নিয়েও আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

সর্বো মহলে একটাই যুক্তি যিনি বিচারকের আসনে বসে আছেন,তার কাছে একজন সাংবাদিক এসে বিমানের টিকিট, কক্সবাজারে যাওয়ার জন্য চাঁদা চাইবে এটা কেমন কথা? যদি সাংবাদিক তার কাছে এসে চাঁদা চেয়েছেন বলে তিনি দাবি করেছেন তাহলে তিনি তখন একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে তার ভুমিকা কি ছিলো? তিনি তো চাইলে তাৎক্ষণিক সাংবাদিককে তার নির্বাহী ক্ষমতা দিয়ে জেল দিতে পারতেন। তখন তিনি কোন পদক্ষেপ না নিয়ে পরে সাংবাদিক সম্মেলন করে তিনি কি বুঝাতে চেয়েছেন? আর সাংবাদিক এম শাহীন আলমও তো চ্যালেঞ্জ করেছেন তার সাথে ইউএনও সাইফুল ইসলাম জয়ের সাথে সরাসরি কখনো কোথাও দেখা কিংবা কথা হয়নি, এবং কি মোবাইলে পর্যন্ত কথা হয়নি। সাংবাদিক এম শাহীন আলম এর দাবি মোবাইল কল লিস্ট, মোবাইল কল রেকর্ড, সহ উপজেলার গত তিন মাসের সিসিটিভি ফুটেজ চেক করলেই ঘটনার সত্যতা বের হয়ে আসবে বলে জানান।

তথ্য অনুসন্ধানে ইউএনও সাইফুল ইসলাম জয়ের ফেসবুক পোস্টে দেখা যায়,গত ২০২৪ এর ৫ আগস্টের আগে শেখ মুজিবুর রহমানকে তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আখ্যা দিয়ে বহু পোস্ট করে তৎকালীন নিজেকে তিনি আওয়ামী আদর্শের সৈনিক জাহির করার চেষ্টা করে আওয়ামী মতাদর্শী হিসেবে প্রচার চালিয়েছেন।
প্রশ্ন হলো যেখানে দূর-সময়ে তৎকালীন বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ঘর-বাড়ি ছাড়া হয়ে ধান ক্ষেতে ঘুমিয়েছেন,বছরের পর বছর জেল খেটেছেন সেখানে সুসময়ে সাইফুল ইসলাম জয়ের মতো লোক কিভাবে নিজেকে বোল পাল্টে জিয়া আদর্শের সৈনিক জাহির করে? বিগত বছরের পর বছর যারা প্রকৃত শহীদ জিয়া এবং আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শের সৈনিক ছিলেন তারা কখনো এই সাইফুল ইসলাম জয়ের মতো স্বার্থলোভী হয়ে দল পাল্টায়নি বরং তারা পরিবার পরিজন ছেড়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পালিয়ে বেড়িয়েছেন। আর এই সাইফুল ইসলাম জয় ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর যখন নিজেকে বিএনপির মতাদর্শী দাবি করে কিছু সাজানো গল্প কাহিনী শুনালেন তখনি রূপগঞ্জের বিএনপি অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী সমর্থকরা তার মন ভোলানো কথার ঝুড়িতে তার প্রেমে মজে গেলেন। অভিযোগ রয়েছে এই স্বার্থবাজ ইউএনও সাইফুল ইসলাম জয় কক্সবাজার পেকুয়া উপজেলায় কর্তব্যরত থাকা অবস্থায় তৎকালীন একেই কায়দায় নিজেকে কৌশলে শেখ মুজিব প্রেমী হিসেবে জাহির করে তার ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে জানান দিয়ে সেখানকার আওয়ামী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন। কিন্তু সেখানে তার বিভিন্ন অনিয়মের কারণে পেকুয়াতে থাকতে পারেননি। এই সুবিধাবাদী লোকটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে নিজেকে বিএনপির মতাদর্শী সাবেক ছাত্রদল নেতা দাবি করে (হাইব্রিড হিসেবে) রূপগঞ্জের বিএনপির নেতাকর্মী সমর্থকদের ধোঁকা দিচ্ছেন। সাইফুল ইসলাম জয় বিএনপি সরকার গঠনের পর তিনি সব জায়গায় নারায়ণগঞ্জ -১ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুর নাম ব্যবহার করে সকল কাজের তদারকি এমপি দিপু করছেন বলে প্রচার করে নিজেকে এমপি মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুর বিশ্বস্ত আপনজন বলে নিজেকে জাহির করছেন বলে একাধিক সূত্রে জানা যায়। ইউএনও সাইফুল ইসলাম জয়ের সাম্প্রতিক বক্তব্য সহ সার্বিক কর্মকান্ডে স্বচ্ছ এই রাজনীতিবিধ মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুর সুনাম ক্ষুন্ন করবে বলে মনে করছে স্থানীয় সচেতন মহল।

সম্প্রতি রূপগঞ্জ উপজেলায় বার্ষিক ১% এর তথ্য চাওয়াকে কেন্দ্র করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জয়ের অনিয়মের বিরুদ্ধে জাতীয় সাপ্তাহিক অপরাধ বিচিত্রায় নিউজের কারণে তিনি পত্রিকাটির রিপোর্টার এম শাহীন আলম এর বিরুদ্ধে সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে যে মিথ্যা চাঁদাবাজির অপবাদ দিয়েছেন। এই সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্যে ইউএনও সাইফুল ইসলাম জয় বক্তব্যের শুরুতেই তিনি দাবি করেন,তার উপজেলার সকল উন্নয়ন মূলক কাজে রূপগঞ্জের এমপি মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু অবগত বা ওয়াকিবহাল আছেন। প্রশ্ন হলো উপজেলার সকল উন্নয়ন মূলক কাজের বিষয়ে ইউএনও সাইফুল ইসলাম জয় কেন এমপি মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুর নাম ভাঙ্গাচ্ছেন? আর এমপি মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু ইউএনও’র সাইফুল ইসলাম জয়ের অনিয়মের কোন দ্বায় কি তিনি নিবেন?

শুধু বার্ষিক ১% এ শেষ নয়। উপজেলার উপজেলা প্রকৌশলী দপ্তর, পিআইও দপ্তরেও অনিয়মের বহু অভিযোগ রয়েছে যার সাথে ইউএনও সাইফুল ইসলাম জয় জড়িত। এছাড়াও সাইফুল ইসলাম জয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পদটি ছাড়াও তিনি উপজেলা প্রশাসক ও তারাব পৌর প্রশাসক এর দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ ইউএও সাইফুল ইসলাম তারাব পৌর প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই পৌরসভার উন্নয়ন মূলক কাজের তদারকিতে আগের তুলনায় অনেক গুণ অনিয়ম বেড়ে গেছে। তিনি নিজেকে বিশাল বীর বাহাদুর মনে করে কাউকে তোয়াক্কা না করে তিনি তার নিজের ইচ্ছা মতো কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

উপরোক্ত বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ -১ (রূপগঞ্জ) সংসদীয় আসনের এমপি মুস্তাফিজুর রহমান দিপু সাথে তার বক্তব্য চেয়ে মোবাইল ফোনে কল দিলে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
সর্বোপরি ইউএনও সাইফুল ইসলাম জয়ের কার্যক্রমে ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ এবং ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে সম্পাদিত ও চলমান উপজেলা এবং তারাব পৌরসভার সকল কাজে সুষ্ঠু নিরপেক্ষ তদন্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার অধিদপ্তর ও দুদকের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। অপরাধ বিচিত্রার ” ঈগল” টিমের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে আরো বিস্তারিত পরের সংখ্যায় ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশ করা হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button