ইসলাম ধর্মধর্ম ও জীবন

আল্লাহ যখন তাঁর কোনো বান্দাকে ভালোবাসতে শুরু করেন

ইসলামিক ডেস্ক: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার কোনো বন্ধুর সাথে শত্রুতা পোষণ করবে, আমি তার সঙ্গে যুদ্ধ করার ঘোষণা করলাম। আর বান্দা আমার যে সমস্ত কাজের মাধ্যমে নিকটবর্তী হয়, সেগুলো হলো—আমি তার ওপর যা কিছু ফরজ করেছি তা (ফরজ ইবাদাতসমূহ সে পালন করে) আর আমার বান্দা নফল ইবাদাতের মাধ্যমে আমার নৈকট্য লাভ করে, এমনকি তখন আমি তাঁকে ভালোবাসতে শুরু করি।

তারপর যখন আমি তাকে ভালোবাসতে থাকি, আমি তার ওই কান হয়ে যাই, যার মাধ্যমে সে শ্রবণ করে ; আমি তার ওই চোখ হয়ে যাই, যার মাধ্যমে সে দেখে; আমি তার ওই হাত হয়ে যাই, যার মাধ্যমে সে স্পর্শ করে; আমি তার ওই পা হয়ে যাই, যার মাধ্যমে সে হাঁটা-চলা করে। তখন যদি সে আমার কাছে কোনো কিছু চায়, আমি তাকে তা প্রদান করি। আর যদি সে আমার কাছে আশ্রয় চায়, আমি তাকে আশ্রয় দিই। (সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ৬৫০২)
শিক্ষা ও বিধান

১. আল্লাহর অলিদের সঙ্গে শত্রুতা করা ভয়াবহ অপরাধ। যে ব্যক্তি আল্লাহর নেক বান্দা, দ্বীনদার ও মুত্তাকিদের কষ্ট দেয় বা শত্রুতা করে, আল্লাহ নিজেই তার বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দেন।

২. আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সবচেয়ে বড় মাধ্যম হলো ফরজ ইবাদতসমূহ যথাযথভাবে আদায় করা। তাই ফরজ ইবাদতের প্রতি বেশি মনোযোগী হওয়া জরুরি।

৩. ফরজ আদায়ের পর বান্দা যখন নফল সালাত, তাহাজ্জুদ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির, সদকা ইত্যাদিতে মনোযোগী হয়, তখন আল্লাহ তাকে বিশেষভাবে ভালোবাসতে শুরু করেন।

৪. আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন তাকে হিদায়াত, তাকওয়া ও সঠিক পথে চলার তাওফিক দেন। সে হারাম থেকে দূরে থাকে এবং কল্যাণের পথে পরিচালিত হয়।

৫. আল্লাহর প্রিয় বান্দার দোয়া কবুল হয়। তাই যখন বান্দা আল্লাহর প্রিয় হয়ে যায়, তখন তার দোয়া অধিক কবুল হয়। সে কিছু চাইলে আল্লাহ দান করেন এবং বিপদে আশ্রয় চাইলে তাকে রক্ষা করেন।

৬. প্রকৃত সফলতা হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। দুনিয়ার সম্পদ, পদমর্যাদা বা খ্যাতি নয়; বরং আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়াই সবচেয়ে বড় সফলতা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button