গাজীপুর আদালত প্রাঙ্গণে টাকা দিলেই দেখা: আসামির স্বজনদের জিম্মি করে পকেট কাটছে পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: গাজীপুর জেলা আদালত প্রাঙ্গণের কোট গারদ (হাজতখানা) এখন অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা আর প্রকাশ্য ঘুষ বাণিজ্যের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সেখানে দায়িত্বরত একদল অসাধু পুলিশ সদস্য ও কর্মচারী বিচারপ্রার্থী ও আসামিদের স্বজনদের জিম্মি করে নিয়মিতভাবে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। ‘অপরাধ বিচিত্রা’র অনুসন্ধানী ক্যামেরায় পুলিশের এই অনৈতিক অর্থ লেনদেনের বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর চিত্র ইতোমধ্যেই ধরা পড়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কোট গারদে থাকা আসামিদের সঙ্গে তাঁদের স্বজনদের দেখা করার সুযোগ করে দেওয়ার নাম করে সরকারি নিয়মের তোয়াক্কা না করে বড় অঙ্কের অর্থ আদায় করা হচ্ছে। কেবল দেখাই নয়, আসামিদের জন্য বাড়ি থেকে নিয়ে আসা রান্না করা খাবার ভেতরে পৌঁছে দেওয়ার বিনিময়েও দাবি করা হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে স্বজনদের সাথে সাক্ষাতের সুযোগ থাকার কথা থাকলেও, এখানে টাকা ছাড়া কোনো কাজই হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে একাধিক ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আসামির সঙ্গে সামান্য দেখা করা বা খাবার দেওয়ার জন্য দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ২ হাজার থেকে শুরু করে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। চাহিদামতো টাকা দিতে না চাইলে স্বজনদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয় এবং নানা অজুহাতে খাবার পৌঁছাতে বাধা দেওয়া হয়। টাকা না দিলে আইনি সেবার পরিবর্তে সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন ধরণের হয়রানির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এক ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আদালত চত্বরেই যদি এভাবে পুলিশের কাছে জিম্মি হতে হয়, তবে আমরা বিচার পাব কোথায়?”
এই চাঞ্চল্যকর অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বিষয়ে গাজীপুর জেলা কারাগার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁদের মধ্যে চরম উদাসীনতা লক্ষ্য করা গেছে। এ ধরণের গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে কোনো সদুত্তর বা প্রতিকারের আশ্বাস মেলেনি, যা পরিস্থিতিকে আরও রহস্যজনক করে তুলেছে।
একটি আধুনিক ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে হলে বিচার ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। আদালত প্রাঙ্গণে পুলিশের এমন বেপরোয়া চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট সাধারণ মানুষের আস্থার সংকট তৈরি করছে। ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিক সমাজের দাবি, অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এই অসাধু চক্রকে চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।



