আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আনোয়ারায় পুকুর ভরাট, মার্কেট নির্মাণের পায়তারা

চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের আনোয়ারায় দেওয়ানি আদালতের জারি করা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে উপজেলা সদরের জয়কালী বাজার সংলগ্ন স্বরসতী পুকুর ভরাট করে দেদারসে চলছে মার্কেট নির্মাণের কাজ। এতে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করছেন ভুক্তভোগী প্রদীপ চক্রবর্তীর পরিবার। গত ১৪ জুলাই ২০২৬ ইংরেজি আনোয়ারা থানায় পুকুর ভরাটের বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দেন সদর এলাকার প্রদীপ চক্রবর্তী। এতে বিবাদী করা হয় সাতকানিয়ার উত্তর রামপুর গ্রামের মোহাম্মদ হোসাইন এর ছেলে মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, আনোয়ারার পশ্চিম শোলকাটা গ্রামের বাদল রঞ্জন সিংহর ছেলে সজিব কুমার সিংহ ও সদরঘাট থানার দক্ষিণ নালাপাড়া গ্রামের মৃত অরেন্দ্র লাল দাশ গুপ্তের ছেলে স্বপন দাশ গুপ্তকে। অভিযোগে বলা হয়, জসিম উদ্দিন, সজিব কুমার সিংহ ও স্বপন দাশ গুপ্ত ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক হন। এতে আরো বলা হয়, অভিযোগকারী প্রদীপ চক্রবর্তীর পৈত্রিক ও তফসীলোক্ত সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল করে মার্কেট নির্মানের পায়তারা করছে জসিম- সজিব, স্বপন ও তাদের ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা।
প্রদীপ চক্রবর্তীর লিখিত অভিযোগ থেকে আরো জানা যায়, আনোয়ারার সহকারী জজ আদালত পটিয়া বিগত ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৭ ইং তারিখ তপসীলোক্ত জায়গায় স্থিতাবস্থার আদেশ প্রচার করেন। যার অপর মামলা নম্বর ৬৬/২০০২। অপর শরিকান ডুমুরিয়া গ্রামের মোহাম্মদ ইলিয়াস কতৃক পার্শ্বোক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত আনোয়ারা সহকারী জজ আদালত, পটিয়া, চট্টগ্রাম অপর মামলা নম্বর ৮০/২০০২ ইং মামলাতেও বিগত ২৯ আগষ্ট ২০০২ ইং তারিখে তপসীলোক্ত জায়গায় অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ প্রচার করেন।
অভিযোগকারী প্রদীপ চক্রবর্তী বলেন, ভূমিদস্যু জসিম, সজিব ও স্বপন কতৃক নামধারী রাজনৈতিক দলের স্থানীয় কয়েকজন সশস্ত্র চিহ্নিত সন্ত্রাসী লেলিয়ে দিয়ে আমার পৈত্রিক সম্পত্তি জবরদখল করে শপিং মল করার পায়তারা করছে। এতে আমি, আমার ভাই সজল চক্রবর্তী, দীপক চক্রবর্তী ও শিপক চক্রবর্তী বাধা দিতে গেলে ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে উপর্যুপরি আমাদের দিকে তেড়ে আসে।
প্রদীপ চক্রবর্তী বলেন ভূমিদস্যুরা মাটি ভরাট কাজ এখনো অব্যাহত রেখেছে। তাই নিরুপায় হয়ে প্রতিকার পেতে নিকটস্থ থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করি। অভিযোগের বিষয়ে ২নং বিবাদী সজীব কুমার সিংহ বলেন, আমার অংশের জমি আমি সাতকানিয়ার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিনের কাছে বিক্রি করে দিয়েছি। তিনি বলেন, প্রদীপ চক্রবর্তী আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছে।
এ বিষয়ে থানার তদন্তকারী এস আই মোহাম্মদ আলমগীর জানান অভিযোগের বিষয় তদন্ত চলছে। তিনি বলেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পুকুর ভরাটের কাজ সম্পূর্ণ বেআইনী। এ ব্যাপারে আনোয়ারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জুনায়েত চৌধুরী বলেন, প্রদীপ চক্রবর্তীর একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। সরেজমিনে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য থানার অফিসার মোহাম্মদ আলমগীরকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।



