খেলাধুলাফরিদপুরসাংস্কৃতি

প্রধান অতিথিকে ঘিরে বিরোধ,ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল পণ্ড

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় প্রধান অতিথিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজিত গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা পণ্ড হয়েছে। পরে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভের মুখে উপস্থিত দলকে নিয়ম অনুযায়ী চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করে ট্রফি দেওয়া হয়।

সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে উপজেলা সদরের আরিফুজ্জামান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

জানা গেছে, ফাইনালে পৌরসভা-১ ফুটবল একাদশের মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল পৌরসভা-২ ফুটবল একাদশের। পৌরসভা-১ দলের নেতৃত্বে ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান মিয়া আব্বাস।
ফাইনালে ফরিদপুর-১ আসনের জামায়াত-মনোনীত সংসদ সদস্য প্রফেসর ড. মো. ইলিয়াস মোল্লাকে প্রধান অতিথি এবং সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহসভাপতি খন্দকার নাসিরুল ইসলামকে বিশেষ অতিথি করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করার কথা ছিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত নূর মৌসুমীর।

তবে খন্দকার নাসিরুল ইসলামকে প্রধান অতিথি না করায় আপত্তি জানিয়ে পৌরসভা-১ ফুটবল একাদশ খেলা বর্জন করে। ফলে দলটি মাঠে উপস্থিত হয়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, ফাইনাল উপলক্ষে মাঠে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। শত শত দর্শকও উপস্থিত ছিলেন। নির্ধারিত সময়ে পৌরসভা-২ ফুটবল একাদশ মাঠে এলেও পৌরসভা-১ দল আসেনি। প্রধান বা বিশেষ অতিথিদেরও মাঠে দেখা যায়নি।

নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর ইউএনওর নির্দেশে বৈরী আবহাওয়ার কারণ দেখিয়ে মাইকে খেলা স্থগিত ঘোষণা করা হয়। এরপর ইউএনও মাঠ ত্যাগ করেন।

এ সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে পৌরসভা-২ ফুটবল একাদশের খেলোয়াড় ও সমর্থকেরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা সদর বাজারের চৌরাস্তায় অবস্থান নেন। প্রায় এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ থাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন।পরে বিক্ষোভকারীরা উপজেলা পরিষদ চত্বরে আন্দোলন শুরু করেন।

তীব্র আন্দোলনের মুখে রাত সাড়ে ৮টার দিকে ইউএনওর কার্যালয়ে পৌরসভা-২ ফুটবল একাদশকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয় এবং তাদের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়া হয়।

পৌরসভা-২ দলের অধিনায়ক মাসুদ মুন্সি বলেন-আমরা নির্ধারিত সময়ে মাঠে উপস্থিত ছিলাম। কিন্তু প্রতিপক্ষ দল আসেনি। নিয়ম অনুযায়ী আমাদের সরাসরি বিজয়ী ঘোষণা করার কথা থাকলেও প্রশাসন প্রথমে আবহাওয়া খারাপের অজুহাতে খেলা স্থগিত করে। পরে আমাদের আন্দোলনের মুখে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ট্রফি দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি এস এম হাফিজুর রহমান বলেন-প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিয়ে এমপি মহোদয়কে প্রধান অতিথি করেছিল। কিন্তু তা নিয়ে একটি দল রাজনীতি করে খেলা বর্জন করা অত্যন্ত দুঃখজনক।

অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান মিয়া আব্বাস বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসন প্রথমে সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার নাসিরুল ইসলামকে প্রধান অতিথি করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছিল। কিন্তু পরে মূল ব্যানারে তাকে বিশেষ অতিথি করায় ক্ষুব্ধ হয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা খেলা বর্জন করেন। এ কারণে পৌরসভা-১ ফুটবল একাদশও খেলায় অংশ নেয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত নূর মৌসুমী বলেন-নির্ধারিত সময়ে একটি দল মাঠে উপস্থিত না হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে খেলা স্থগিত করা হয়েছিল। পরে ফুটবল খেলার নিয়ম অনুযায়ী রেফারিদের লিখিত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে উপস্থিত দলকে বিজয়ী ঘোষণা করে ট্রফি দেওয়া হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button