সিদ্ধিরগঞ্জে এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, গ্রেপ্তার

নজরুল ইসলাম বাদল :
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে দুই পক্ষের ঝগড়া থামাতে গিয়ে দুর্বৃত্তদের হামলায় মো. ফজলুল হক (৬০) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার দুই দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার (১৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এ ঘটনায় রবিন (৩০) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে নিহতের পরিবারের দাবি, এটি আকস্মিক হামলা নয়, বরং পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
পুলিশ জানায়, গত ১৭ জুলাই রাত ৮টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল সৈয়দপাড়া ক্যানেলপাড় এলাকার আহসান ভিলার সামনে এ ঘটনা ঘটে। জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার দেউলাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা ফজলুল হক দীর্ঘদিন ধরে গোদনাইল এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন এবং ফতুল্লার একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নোবেল শেখ নামে এক ব্যক্তি এক নারীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। এ সময় ফজলুল হকও ঝগড়া থামাতে এগিয়ে গিয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার পরামর্শ দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নোবেল তার সহযোগীদের ডেকে আনেন। পরে নোবেল, রবিনসহ কয়েকজন মিলে ফজলুল হককে বেধড়ক মারধর করলে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জের ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট খানপুর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
চিকিৎসা শেষে ১৮ জুলাই তিনি বাসায় ফিরলেও পরদিন সকালে হঠাৎ রক্তবমি শুরু হয়। অবস্থার অবনতি হলে অল্প সময়ের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নিহতের মেয়ে ফারজানা অভিযোগ করেন, প্রায় এক বছর আগে তার ছোট ভাই ফারুক হত্যা মামলার বাদী ছিলেন এবং সেই মামলায় তার বাবাও গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ও সহযোগী ছিলেন। ওই মামলায় আপসের জন্য আসামিপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে তাদের পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল। গ্রেপ্তার হওয়া নোবেল শেখ ওই মামলার আসামিপক্ষের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় হওয়ায় তারা এ ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করছেন।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে রবিন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নোবেলসহ অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



