অনুসন্ধানঅভিযান

কাওলায় প্রভাব বিস্তার ও সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন, শওকত হোসেনের বিরুদ্ধে জিডি

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর দক্ষিণখান থানাধীন কাওলার জামতলা এলাকায় প্রভাব বিস্তার, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মামলা-মোকদ্দমার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শওকত হোসেন (প্রায় ৭০) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মোঃ আমিনুল ইসলাম শাহীন নামে এক ব্যক্তি দক্ষিণখান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
থানায় করা জিডির তথ্য অনুযায়ী, শওকত হোসেনকে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে প্রভাব বিস্তার এবং বিভিন্ন বিষয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারী দাবি করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে নিজের ঘনিষ্ঠতার কথা বলে এলাকায় প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শওকত হোসেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের ছোট ভাইয়ের সঙ্গে তোলা ছবি দেখিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রভাব বিস্তার করতেন বলে অভিযোগকারীর দাবি। বর্তমানে তিনি ক্ষমতাসীন দলের একজন প্রভাবশালী নেতার নাম ব্যবহার করেও এলাকায় প্রভাব খাটাচ্ছেন এবং তার বিরোধিতা করলে মামলা-মোকদ্দমার ভয় দেখানো হয়—এমন অভিযোগও জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, শওকত হোসেন একসময় দর্জির কাজ করতেন। বর্তমানে তার নামে বা নিয়ন্ত্রণে কাওলার এলাকায় একাধিক প্লট ও সম্পত্তি রয়েছে বলে তারা দাবি করছেন। এসব সম্পত্তির বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ কোটি টাকা হতে পারে বলেও স্থানীয়দের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব সম্পত্তি কীভাবে অর্জিত হয়েছে এবং এর বৈধ আয়ের উৎস কী—তা নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন রয়েছে।
স্থানীয়দের বক্তব্য, শওকত হোসেনের বর্তমান সম্পদের সঙ্গে তার দৃশ্যমান পেশা ও আয়ের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই করা প্রয়োজন। তাদের দাবি, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নিরপেক্ষভাবে সম্পদ, জমি ক্রয়, দলিলপত্র, ব্যাংক লেনদেন এবং আয়কর সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করে তদন্ত করলে তার সম্পদের প্রকৃত উৎস সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
তবে শওকত হোসেনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য জানার জন্য তাকে ফোন দেওয়া হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তে অভিযোগের সত্যতা বা অসত্যতা নির্ধারিত হবে।
এদিকে দক্ষিণখান থানায় করা জিডিতে অভিযোগকারী নিজের নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। জিডির নথিতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ও উল্লেখ রয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button