
সেদিন ইলিয়াস আলীর পরিবারকে সান্ত্বনা দিয়ে হাসিনা বলেছিল ইলিয়াস আলীকে খুঁজে পেতে সে সাহায্য করবে।
এমনকি ইলিয়াস আলীর ছোট্ট মেয়ে সায়ারার মাথায় হাত বুলিয়ে বলেছিল- তোমার বাবাকে আমি খুঁজে এনে দিব।
হাসিনার এমন কথায় তারাও ভরসা পেয়েছিল ,ভেবেছিল তাদের বাবাকে খুঁজে পাবে।
কিন্তু ইলিয়াস আলীর পরিবারের সাথে কথা বলার পরপরই হাসিনা কল দেয় র্যাব অফিসার জিয়াউল আহসান এবং ডিজিএফআইয়ের অফিসারদেরকে। কল দিয়ে ইলিয়াস আলীকে চূড়ান্ত গুম করে দেয়ার নির্দেশ দেয়।
হাসিনার নির্দেশ পাওয়ার পরপরই জিয়াউল আহসান এবং র্যাব অফিসাররা মিলে রাতের দিকে ইলিয়াস আলীকে অমানবিকভাবে হত্যা করে। হত্যা করার পর লা*শ গুম করে দেয়ার জন্যে নিয়ে যাওয়া হয় ধলেশ্বরী নদীতে।
তারপর পেট কেটে ,কোমরে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে লাশ ফেলে দেয় নদীতে। কোমরে সিমেন্টের বস্তা বাঁধা হয় যাতে লাশ আর ভেসে না উঠে, কেউ খুঁজে না পায়। পেট টাও চিড়ে ফেলে যাতে নাড়িভুঁড়ি সব মাছে খেয়ে লা*শ গায়েব করে ফেলে।
অন্যদিকে ইলিয়াস আলীর স্ত্রী লুনা এবং ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা তখনও তাদের বাবাকে হন্য হয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছিল। হাসিনাও বারবার নাটক করে বলছিল- তোমাদের বাবাকে শীঘ্রই খুঁজে এনে দিব।
কিছুদিন আগে ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক মামুন ধরা পড়ার পর স্বীকার করেছে হাসিনার নির্দেশেই গুম করে খু*ন করা হয়েছিল ইলিয়াস আলীকে।
গতকাল জিয়াউল আহসানের দেহরক্ষী ইমরুল কায়েসও আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে বলেছে- ইলিয়াস আলীকে গুম করার কিছুদিন পরই র্যাব হেডকোয়ার্টারে জিয়াউল আহসানের একটা কল এসেছিল।
সেই কলে সে শেখ হাসিনার নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারিক সিদ্দিকির সাথে কথা বলেছিল।
কলে জিয়াউল আহসান বলেছিল- আপনাদের কথাতেই ইলিয়াস আলীকে গুম করলাম। এখন আপনারা এমন করলে হবে? আমি কমান্ডো মানুষ তাহলে পোস্টিং দিয়ে জঙ্গলে পাঠিয়ে দেন।
এরপরই নিজেকে বাঁচাতে র্যাব হেডকোয়ার্টারের সিসিটিভিসহ সমস্ত প্রমাণ লোপাট করতে থাকে জিয়াউল আহসান।
শুধু ইলিয়াস আলীই না এমন আরও ১০২৭ জনকে মাথায় গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করেছে সে। ২০০ এর উপর মানুষকে গুম করে বন্দী করে রেখেছিল আয়নাঘরে।
গতকাল থেকে জিয়াউল আহসানের অপকর্মের বিরুদ্ধে আদালতে সাক্ষ্য নেয়া চলছে। অথচ বেশ হাসিমুখেই আছে সে। কারণ সে জানে তার কিছুই হবে না। তাকে বাঁচানোর জন্যে বড় নেতারাই শেল্টার হিসেবে বসে আছে।
ইলিয়াস আলী বিএনপির ত্যাগী নেতা ছিলেন। সিলেটের বহু মানুষ পছন্দ করতো তাকে। ভারতের বিরোধিতা করাতেই হাসিনার নির্দেশে গুম করে অমানবিকভাবে খু*ন করা হলো তাকে।
অথচ নিজ দলের যেই কর্মীরা গুমের শিকার হয়েছিল সেই গুম অধ্যাদেশকেই কিছুদিন আগে বাতিল করে দিয়েছে বিএনপি সরকার। গুমের শিকার হওয়া মানুষগুলোর আর্তনাদটাও মনে রাখেনি তারা।
গতবছর ড. ইউনূসের দক্ষ হস্তক্ষেপে গুম হওয়া অনেকেই আয়নাঘর থেকে বের হয়েছিল। ইলিয়াস আলীর স্ত্রী লুনা আশায় ছিল তার স্বামী বেঁচে থাকলে সেও হয়তো ফিরে আসবে।
লুনা তখনও জানতো না তার স্বামী যে বেঁচে নেই। ইলিয়াস আলীর ছেলেমেয়েরাও জানতো না তাদের বাবাকে হ*ত্যা করা হয়েছে। তারাও আশায় ছিল বাবার ফিরে আসার অপেক্ষায়।
এখন তারা জানে তাদের বাবা আর বেঁচে নেই, কিন্তু মানতে পারে না। বাবার কথা মনে পড়লেই এখনো হু হু করে কান্নায় ভেঙে পড়ে তারা। মনের ভেতর আশা রাখে হয়তো একদিন তাদের বাবা ফিরবে।
কিন্তু তাদের অবুঝ মনকে কে বুঝাবে তাদের বাবা আর ফিরবে না, কোনদিনও না।



