প্রশ্নঃ ‘বিদ’আতে হাসনাহ’ নামক কোনো বিদআত আছে কি, যা করলে সওয়াব হয়? যেহেতু হাদীসে আছে, “যে ব্যক্তি ইসলামে ভালো রীতি চালু করবে, সে তার নিজের এবং ঐ সমস্ত লোকের সওয়াব পাবে, যারা তার (মৃত্যুর) পর তার উপর আমল করবে। তাদের সওয়াবের কিছু পরিমাণও কম করা হবে না। ৮৪ (মুসলিম)

উত্তরঃ ‘বিদ’আতে হাসানাহ’ (ভালো বিদ’আত) বলে কোনো বিদ’আত নেই। বরং প্রত্যেক বিদ’আতই ‘সাইয়্যিআহ’ (মন্দ)। মহানবী (ﷺ) বলেছেন, “প্রত্যেক বিদ’আতই ভ্র’ষ্টতা।” ৮৫ (আবূ দাঊদ, তিরমিযী)
আর হাদীসে যে ভালো রীতি চালু করার কথা বলা হয়েছে, তা নতুন কোনো রীতি নয়। বরং যে রীতি শরীয়ত সম্মত কিন্তু কোনো জায়গায় তা চালু ছিল না। কোনো ব্যক্তি তা চালু করলে তার ঐ সওয়াব হয়। পূর্ণ হাদীসটি পড়লে আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন, কোন শ্রেণীর রীতির কথা বলা হয়েছে।
জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) বলেন, “একদা আমরা দিনের প্রথম ভাগে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকটে ছিলাম। অতঃপর তাঁর নিকট কিছু লোক এলো, যাঁদের দেহ বিবস্ত্র ছিল, পশমের ডোরা কাটা চাদর (মাথা প্রবেশের মত জায়গা মাঝে কেটে) পরে ছিল অথবা ‘আবা’ (আংরাখা) পরে ছিল, তরবারি তারা নিজেদের গর্দানে ঝুলিয়ে রেখেছিল। তাদের অধিকাংশ মুযার গোত্রের (লোক) ছিল; বরং তারা সকলেই মুযার গোত্রের ছিল। তাদের দারিদ্রতা দেখে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর চেহারা পরিবর্তন হয়ে গেলো। সুতরাং তিনি (বাড়ির ভেতরে) প্রবেশ করলেন এবং পুনরায় বের হলেন। তারপর তিনি বিলালকে (আযান দেওয়ার) আদেশ করলেন। ফলে তিনি আযান দিলেন এবং ইকামত দিলেন। অতঃপর তিনি নামায পরে লোকেদেরকে (সম্বোধন করে) ভাষণ দিলেন। তিনি বললেন, “হে মানব সম্প্রদায়! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদের এক ব্যক্তি হতে সৃষ্টি করেছেন ও তা হতে তাঁর সঙ্গিনী সৃষ্টি করেছেন, যিনি তাঁদের দুজন থেকে বহু নরনারী (পৃথিবীতে) বিস্তার করেছেন। সেই আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচঞা করো এবং জ্ঞাতি-বন্ধন ছিন্ন করারকে ভয় করো। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের উপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।” (সূরা নিসা ১ আয়াত) অতঃপর দ্বিতীয় আয়াত যেটি সূরা হাশর এর শেষে আছে সেটি পাঠ করলেন, “যে বিশ্বাসীগণ! তোমরা আল্লাহ্কে ভয় করো, আর প্রত্যেকেই ভেবে দেখুক যে, আগামীকালের (কিয়ামতের) জন্য সে অগ্রীম কি পাঠিয়েছে। তোমরা আল্লাহ্কে ভয় করো। নিশ্চয় তোমরা যা করো, আল্লাহ সে সম্পর্কে অবহিত।” (সূরা হাশর ১৮ নং আয়াত)
“সুতরাং প্রত্যেক ব্যক্তি যেন নিজ দ্বীনার (স্বর্ণমুদ্রা), দিরহাম (রৌপ্যমুদ্রা), কাপড়, এক সা’ গম ও এক সা’ খেজুর থেকে সাদকাহ করে।” এমনকি তিনি বললেন, “খেজুরের আধা টুকরা হলেও (তা যেন দান করে।)” সুতরাং আনসারদের একটি লোক (চাঁদির) একটি থলে নিয়ে এলো, লোকটির করতল যেন তা ধারণ করতে পারছিল না; বরং তা ধারণ করতে অক্ষমই ছিল। অতঃপর (তা দেখে) লোকেরা পরস্পর দান আনতে আরম্ভ করলো। এমনকি খাদ্য সামগ্রী ও কাপড়ের দুটি স্তূপ দেখলাম। পরিশেষে আমি দেখলাম যে, রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর চেহারা যেন সোনার মতো ঝলমল করছে। অতঃপর রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, “যে ব্যক্তি ইসলামে ভালো রীতি চালু করবে, সে তার নিজের এবং ঐ সমস্ত লোকের সওয়াব পাবে, যারা তার (মৃত্যুর) পর তার উপর আমল করবে। তাদের সওয়াব কিছু পরিমাণও কম করা হবে না। আর যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো মন্দ রীতির প্রচলন করবে, তার উপর তার নিজের এবং ঐ লোকেদের গোন|হ বর্তাবে, যারা তার (মৃত্যুর) পর তার উপর আমল করবে। তাদের গোন|হর কিছু পরিমাণও কম করা হবে না।”৮৬ (মুসলিম)
লক্ষণীয় যে, দান করা একটি ভালো রীতি। কিন্তু অনেকের মধ্যে যে প্রথম শুরু করবে, তার হবে উক্ত সওয়াব। কোনো নতুন রীতি আবিষ্কার করা উদ্দেশ্য নয়। হাদীসের শব্দে ঐ রীতিকে ‘সুন্নাহ’ বলা হয়েছে, যা বিদ’আতের বিপরীত। সুতরাং ‘বিদআতে হাসনার’ দলীল তাতে নেই।
বলা বাহুল্য, উক্ত হাদীসে নতুন রীতি চালু করার পর্যায়ভুক্ত তিন প্রকার কাজঃ-
(ক) শরিয়তসম্মত ভালো কাজ। কিন্তু অনেকের মধ্যে সর্বপ্রথম করা।
(খ) কোনো সুন্নত কাজ, যা উঠে গিয়েছিল বা লোকমাঝে প্রচলিত করা অথবা জানিয়ে তাঁর প্রচলন করা।
(গ) কোনো এমন কাজ করা, যা কোনো শরীয়তসম্মত ভালো কাজের মাধ্যম। যেমন- দ্বীনী মাদ্রাসা নির্মাণ করা, দ্বীনী বই-পত্র ছাপা ইত্যাদি।৮৭ (ইবনে উসাইমীন)
📚 (দ্বীনি প্রশ্নোত্তর, পরিচ্ছেদ: বিদ’আত, প্রশ্ন নং ০৩)



