অনুসন্ধানঅভিযান

অনুমোদনবহির্ভূত নির্মাণে সিডিএর অভিযান, জরিমানা-সিলগালা

দুলাল শিকদার

চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে ও অনুমোদনবহির্ভূতভাবে নির্মাণকাজ পরিচালনার বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)।

আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) নগরীর আগ্রাবাদ এক্সেস রোড ও হালিশহর থানাধীন শান্তিবাগ আবাসিক এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

সিডিএর স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ হানিমুন তানজিনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে সিডিএ ও বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযানকালে শান্তিবাগ আবাসিক এলাকার একটি সড়কে নির্মাণাধীন ভবনে অনুমোদিত নকশার বর্ধিতাংশ দখল করে নির্মাণকাজ চালানোর অভিযোগ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ভবন মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তাকে জরিমানা করা হয় এবং অবৈধ নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এছাড়া পাশের একটি ভবনে সেমিপাকা ঘর নির্মাণ করে পরবর্তীতে সেটিকে তিনতলা ভবনে রূপ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। অনুমোদিত নকশার সঙ্গে সামঞ্জস্য না রেখে নির্মাণকাজ করায় ভবনটি সিলগালা করে দেয় সিডিএর অভিযানকারী দল।

অভিযানে আরও একটি ভবনে গুরুতর নির্মাণ অনিয়মের বিষয়টি ধরা পড়ে। ভবনটির নির্দিষ্ট অংশে নির্মাণের অনুমোদন থাকলেও অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে সেটি নয়তলা পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযানকারী দলের কাছে প্রতীয়মান হয়। ভবন মালিকপক্ষকে একাধিকবার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ার জন্য ফোন করা হলেও তারা বিভিন্ন অজুহাতে উপস্থিত হননি। পরে সিডিএ কর্তৃপক্ষ ভবন মালিকপক্ষকে জরিমানা করে।

সিডিএ কর্মকর্তারা জানান, প্রচলিত বিধিমালা অনুযায়ী ভবন নির্মাণের সময় নির্ধারিত পরিমাণ জায়গা খালি রাখা বাধ্যতামূলক। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ভবনে প্রয়োজনীয় জায়গা না রেখেই নির্মাণকাজ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পাঁচতলা নির্মাণের অনুমোদন নিয়ে নির্মাণ সম্পন্নের অনুমোদন নেওয়ার পরও ভবনটি নয়তলা পর্যন্ত নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অনিয়মের কারণে ভবনটি সিলগালা করা হয়।

অভিযানকারী কর্মকর্তারা বলেন, অনুমোদিত নকশা ও নির্মাণ বিধিমালা অমান্য করে কোনো ভবন নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অনুমোদনবহির্ভূত ও অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে সিডিএর অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সিডিএর এ অভিযানের ফলে নগরীর অবৈধ নির্মাণকারীদের মধ্যে সতর্কতা সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button