দেশ

গ্রিড উপকেন্দ্রে ব্রেকার বিস্ফোরণ, নোয়াখালী শহরে বিদ্যুৎ বিপর্যয়

নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের চৌমুহনী গ্রিড উপকেন্দ্রে ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ লাইনের সোর্স ব্রেকার বিস্ফোরণে বিকল হয়ে পড়েছে। এতে চৌমুহনী থেকে মাইজদী পর্যন্ত ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন বন্ধ হয়ে জেলা শহর মাইজদী ও আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত জেলা শহর মাইজদীসহ বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এর আগে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে চৌমুহনী গ্রিড উপকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পর ব্রেকারে আগুন ধরে যায়। এতে মাইজদী উপকেন্দ্রে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) নোয়াখালী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে চৌমুহনী গ্রিড উপকেন্দ্রের ৩৩ কেভি সোর্স ব্রেকারে আকস্মিক বিস্ফোরণে আগুন ধরে যায়। এতে মাইজদী উপকেন্দ্রে পাওয়ার বন্ধ হয়ে যায়। এটি মেইন ব্রেকার, এর মাধ্যমে লোড আনা হয়। এটি বিকল হওয়ায় প্যারালালে আরেকটি সোর্স দিয়ে রিং সার্কিটের মাধ্যমে ১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু চাহিদা রয়েছে ২০ মেগাওয়াট। চাহিদার প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎ পালাক্রমে সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নোয়াখালীর জেলা শহর মাইজদীতে পিডিবির আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা ২২ থেকে ২৫ মেগাওয়াট। সেখানে গতকাল রাতে সরবরাহ করা হয়েছে মাত্র ১০ মেগাওয়াট। এ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্রেকার পুনঃস্থাপিত না হওয়া পর্যন্ত এক ঘণ্টা পরপর পর্যায়ক্রমে (রোটেশন ভিত্তিতে) বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ শহরের এক অংশে এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলে অন্য অংশে তা বন্ধ থাকবে। পরের ঘণ্টায় সরবরাহের এলাকা পরিবর্তন করা হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা লোকমান হোসেন বলেন, গতকাল রাতে তার এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। পরে দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে বিদ্যুৎ দেওয়া হয়। এক ঘণ্টা না যেতেই আবার বিদ্যুৎ চলে যায়। এভাবে সারা রাত ও আজ সকাল পর্যন্ত কয়েকবার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করেছে। বিদ্যুতের সংকটের কারণে রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারেননি তিনি।

পিডিবি নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাবিবুল বাহার বলেন, চৌমুহনী গ্রিড উপকেন্দ্রের ৩৩ কেভি সোর্স ব্রেকারের পোল নষ্ট হয়ে বিকল হয়ে পড়ায় বিকল্প ব্যবস্থায় জেলা শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ চলছে। বৃষ্টি আসায় কাজে একটু বিঘ্ন ঘটে। আশা করা হচ্ছে শনিবার বিকেলের দিকে নতুন ব্রেকার স্থাপনের কাজ শেষ হবে। এতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button