পবিপ্রবি ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ, সহপাঠীকে পিটিয়ে ছিনতাই

নিজস্ব প্রতিনিধি: পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) এক ছাত্রীকে আটকে রেখে যৌন হয়রানি এবং তার সঙ্গে থাকা এক সহপাঠীকে মারধর করে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী বাদী হয়ে পটুয়াখালীর দুমকি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। মামলায় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটের দিকে পবিপ্রবির ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী সাদিয়া ইসলাম শিখা (২০) তার সহপাঠী মো. আব্দুল কাইয়ুমের (২৩) সঙ্গে দক্ষিণ দুমকির জামেয়া দাখিল মাদ্রাসা সড়কে যান।
এ সময় রিফাত তালুকদারের নেতৃত্বে ৫-৬ জন যুবক তাদের পথরোধ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে ওই যুবকেরা তাদের বিরুদ্ধে অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে আব্দুল কাইয়ুমকে মারধর করেন। পরে তার কাছ থেকে নগদ টাকা ও একটি মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, একই সময় সাদিয়া ইসলাম শিখাকে সেখান থেকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার সঙ্গে অশালীন আচরণ ও শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেওয়াসহ যৌন হয়রানি করা হয়।
ঘটনার পরদিন ভুক্তভোগী ছাত্রী সাদিয়া ইসলাম শিখা বাদী হয়ে দুমকি থানায় মামলা করেন। মামলায় রিফাত তালুকদারসহ কয়েকজনকে নামীয় আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।
দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। মামলার আসামিরা বর্তমানে পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জামেয়া দাখিল মাদ্রাসা সড়কসহ আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কিছু যুবকের উৎপাত রয়েছে। তারা বলেন, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে এলাকায় নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।
স্থানীয়রা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।



