দেশ

ছাতক নদীবন্দরে শুল্ক আদায় নিয়ে নানা অভিযোগ

বিআইডব্লিউটিএর নির্ধারিত হারের বাইরে আদায় ও চলতি নদীতে টাকা নেওয়ার অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ছাতক নদীবন্দরে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) শুল্ক আদায় নিয়ে নৌযান মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে নানা অভিযোগ দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত হারের বাইরে টাকা আদায়, একই এলাকায় একাধিক রসিদে অর্থ নেওয়া এবং চলতি নদীতে নৌযান থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এসব বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিআইডব্লিউটিএর সিলেট আঞ্চলিক দপ্তরের সাম্প্রতিক আদেশ অনুযায়ী, ছাতক নদীবন্দর এলাকায় নৌযান/জাহাজের এলএসসি ও বার্দিং চার্জ আদায়ের জন্য ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত ৩০ দিনের সাময়িক ইজারা দেওয়া হয়েছে। ইজারার শর্তে কর্তৃপক্ষ অনুমোদিত শুল্কহারের বাইরে অতিরিক্ত শুল্ক না নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের ইজারাকৃত ঘাট বা পয়েন্ট থেকে আসা চলন্ত নৌযান থেকে পুনরায় শুল্ক আদায় না করার কথাও উল্লেখ রয়েছে।
বিআইডব্লিউটিএর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইজারাপ্রদত্ত ঘাট/পয়েন্ট দিয়ে মালামাল ওঠানামার ক্ষেত্রে প্রতি মেট্রিক টন বা অংশবিশেষের জন্য ভ্যাটসহ ৭০ টাকা এবং ঘনফুট হিসেবে পরিমাপযোগ্য দ্রব্যের ক্ষেত্রে প্রতি ঘনফুট বা অংশবিশেষের জন্য ৫০ পয়সা শুল্ক নির্ধারিত রয়েছে।
তবে বাল্কহেডের সুকানি শফিকের দাবি, ১৫-১৬ দিন আগে একই এলাকায় তার নৌযান থেকে বিআইডব্লিউটিএর শুল্ক বাবদ ১৬ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। একই এলাকায় পৌরসভার নামে পৃথক রসিদে আরও ৪ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
শফিকের অভিযোগ, বিআইডব্লিউটিএর শুল্ক পরিশোধে সামান্য দেরি হলেও সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে ভয়ভীতি ও খারাপ আচরণের মুখোমুখি হতে হয়। পাশাপাশি নদীপথে নৌযান থেকে অবৈধভাবে চাঁদা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এর আগে ছাতক নদীবন্দরে পূর্ববর্তী ইজারার সময় একটি বাল্কহেড থেকে ১৩ হাজার থেকে ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায়ের অভিযোগ উঠেছিল। একই নৌযান থেকে একাধিক রসিদ দেওয়ার বিষয়টিও তখন আলোচনায় আসে। তবে সেসব অভিযোগ ছিল আগের ইজারার সময়ের। বর্তমান ইজারার সময়ে একই ধরনের আদায় হচ্ছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নৌযান সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, বিআইডব্লিউটিএর নথিতে যখন অনুমোদিত শুল্কহারের বাইরে অর্থ আদায় না করার স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে, তখন বাস্তবে কোনো নৌযান থেকে কত টাকা, কোন খাতে এবং কী হারে আদায় করা হচ্ছে—তা যথাযথভাবে তদারকি করা হচ্ছে কি না।
এদিকে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ থাকার পরও শুল্ক আদায় কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ কেন নজরে আসছে না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা, আদায়ের খাত ও অর্থের পরিমাণ যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট নৌযান শ্রমিকরা।
অভিযোগের বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ ও ছাতক প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button