দেশ

হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে থার্মোমিটার সংকট ও রোগীর স্বজনের সাথে অসদাচরণের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: হাসপাতাল হচ্ছে মানুষের শেষ ভরসার জায়গা। অসুস্থ মানুষ যখন হাসপাতালে আসে, তখন সে চিকিৎসা, যত্ন আর মানবিক আচরণ প্রত্যাশা করে।

কিন্তু হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালকে ঘিরে উঠে আসা একটি অভিযোগ সত্যিই প্রশ্ন তৈরি করেছে—একজন রোগীর শরীরের তাপমাত্রা মাপার মতো একটি সাধারণ থার্মোমিটারও কি হাসপাতালে পাওয়া যাবে না?

অভিযোগ অনুযায়ী, একটি শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক ওষুধ লিখে দেন। কিন্তু শিশুটির শরীরের তাপমাত্রা কত—সেটা থার্মোমিটার দিয়ে মাপা হয়নি বলে অভিযোগ করেন শিশুটির সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তি।

তিনি শুধু চেয়েছিলেন, ওষুধ দেওয়ার আগে অন্তত থার্মোমিটার দিয়ে শিশুটির জ্বর কত ডিগ্রি তা মেপে দেখা হোক। কিন্তু অভিযোগকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, হাসপাতালে থার্মোমিটার না থাকায় তাকে কাউন্টারে যেতে বলা হয়। বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুললে পরিস্থিতি আরও বিব্রতকর হয়ে ওঠে।

এমনকি পাশে থাকা এক নারী তাকে ভিডিও করার কথা বলেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও আপলোড করার কথাও জানান—এমন অভিযোগও রয়েছে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—একজন রোগী যদি খুব সাধারণ একটি বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করেন, তাহলে তার সঙ্গে রাগারাগি বা পাল্টা ভিডিও করার প্রয়োজন কেন হবে?

চিকিৎসার ক্ষেত্রে রোগীর শরীরের তাপমাত্রা জানা অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। বিশেষ করে শিশু রোগীর ক্ষেত্রে অভিভাবক যখন তাপমাত্রা মেপে চিকিৎসা দেওয়ার অনুরোধ করেন, তখন সেটিকে বিরক্তির বিষয় হিসেবে না দেখে গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।

একজন সাধারণ মানুষ হাসপাতালের কাছে বিলাসিতা চান না। তিনি চান—সঠিকভাবে রোগী দেখা হোক, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা হোক, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হোক এবং তার সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ করা হোক।

আজ যদি একজন অভিভাবক তার শিশুর জ্বর কত তা জানতে থার্মোমিটার চান, কাল অন্য কোনো রোগী হয়তো আরও গুরুত্বপূর্ণ কোনো পরীক্ষা বা চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন করবেন। তখনও কি তাকে বলা হবে—“মন্ত্রীকে আনেন”?

যদি ঘটনাটির ভিডিও ও অভিযোগ সত্য হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা। হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম আছে কি না, কেন একজন শিশুর তাপমাত্রা মাপা হয়নি এবং রোগীর সঙ্গে এমন আচরণ কেন করা হয়েছে—এসব প্রশ্নের জবাব জনগণের জানার অধিকার রয়েছে।

হাসপাতাল কোনো ব্যক্তিগত জায়গা নয়; এটি জনগণের সেবা দেওয়ার প্রতিষ্ঠান।

সেখানে একজন অসুস্থ মানুষ যেন প্রশ্ন করতে ভয় না পান, একজন অভিভাবক যেন সন্তানের চিকিৎসা নিয়ে কথা বললে অপমানিত না হন এবং চিকিৎসা নিতে এসে যেন কাউকে হয়রানির শিকার হতে না হয়—এটাই সবার প্রত্যাশা।

হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ, ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা জনগণের সামনে পরিষ্কার করুন।

রোগীর অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলা অপরাধ নয়।

একটি থার্মোমিটার চাওয়া কোনো অন্যায় দাবি নয়।

এটি একজন রোগীর স্বাভাবিক চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রশ্ন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button